মানিকগঞ্জে ‘ড্রেজার সন্ত্রাস’

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ২৫ জুলাই ২০১৮, ০৮:৩১

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় কালীগঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে ভাঙনের আশঙ্কায় নদী তীরের মানুষ।

এ ব্যপারে জেলা প্রশাসনের কাছে বার বার লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা এই বালু তোলায় জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি ভাঙন আতঙ্কে পৌর এলাকার জয়নগর গ্রামের দুই শতাধিক জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিমের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে আর্জি জানালেও বালু তোলা বন্ধ হচ্ছে না। উল্টো  লোড ড্রেজার নামে আরও শক্তিশালী মেশিন দিয়ে আরো বেশি করে বালু তোলা হচ্ছে।

ঘিওর উপজেলার ‘তরা’ সেতু থেকে শুরু করে পুটাইল ইউনিয়নের লেমুবাড়ি বাজার পর্যযন্ত তরা, পৌলি, বেউথা, খাগড়াকুড়ি, বিলবডিয়াল, হিজলাইন, উত্তর পুটাইল, আউটপাড়া, বিপ্রবেতিলা, সনসিংগা, রতনপুরসহ কালীগঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে তোলা হচ্ছে এই বালু।

সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের তিল্লী, পাচুটিয়া, পুর্ব আউটঘরিয়া, চর তিল্লী ও আয়নাপুর এবং সাটুরিয়া উপজেলার রাজৈর ছনকা, বরাইদ, গোপালপুর ও হাড়াইপাড়া এলাকাতেও বসানো হয়েছে ড্রেজার।

জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শুভাষ সরকার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার সরকার, জাগির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামিম হোসেন ইজারা নিয়ে এই বালু তুলছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

পৌরসভার জয়নগর গ্রামের খাগড়াকুড়ি, বিলবডিয়াল ও পৌলি থেকে থেকে বেশ কয়েকটি লোড ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছেন শুভাষ সরকার। সাথে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুদেব সাহা, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম খান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোনায়েম খান স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।

এখান থেকে বালু তুলে নদীপথে নেয়া হচ্ছে সিঙ্গাইর, সাভার, ইসলামপুর ও নয়ারহাটে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, এর আগে আফসার সরকার ও শামিম হোসেনের লোকজন ছোট ড্রেজার দিয়ে বালু তুলেছেন করেছে। এখন আবার শুভাষ সরকারের লোকজন লোড ড্রেজার বসিয়েছেন।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার সরকার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের বৈধ বালু মহাল থেকে শুভাষ সরকার, মোনায়েম খান ও সুদেব সাহা তাদের লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক বালু তুলছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না।

‘আমরা সরকারি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট স্থান থেকে বালু তুলেছি। এখন যারা জোরপূর্বক বালু তুলছে, তারা সরকারি কোন নিয়মনীতি মানছে না।’

আউটপাড়া, বিপ্রবেতিলা, সনসিংগা, রতনপুর, উত্তর পুটাইল ও হিজলাইন সহ কালীগঙ্গা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ড্রেজার বসিয়ে আফসার সরকার ও শামীম হোসেনের লোকজন অবৈধ ভাবে বালু তুলছেন।

ঝুঁকিতে থাকা লোকজন বলছেন, তারা ভয়ে কিছু বলতে সাহস পান না। প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়ে কোন প্রতিকার হয়নি। উল্টো লাঞ্ছনার স্বীকার হতে হয়েছে।

 পৌর এলাকার জয়নগর গ্রামের একজন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘এতদিন শামিম হোসেনের লোকজন বালু তুলছে। এখন আবার শুভাষ সরকার, মোনায়েম খান ও সুদেব সাহা লোড ড্রেজার দিয়া বালু তুলছে।’

জানতে চাইলে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোনায়েম খান বলেন, ‘অবৈধভাবে নয়, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকদের অনুমতি নিয়ে বালুমাটি তুলছি। আগে যারা তুলেছে তারাই অবৈধভাবে তুলেছে।’

এ ব্যপারে পরিবেশবিদ দীপক কুমার ঘোষ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জয়নগর এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলায় পুরো জেলে পাড়া হুমকির মুখে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের মাধ্যম তরা ও বেউথার মত দুটি গুরুত্বপুর্ণ সেতু ও হরিরামপুর যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিও ঝুঁকিতে রয়েছে।’ 

জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম বলেন, ‘বিষয়টি জেলা আইনশৃংখলা মিনিংএ একাধিকবার তুলে ধরা হয়েছে। যখন বলি তখন উত্তোলন বন্ধ থাকে। এরপর  আবার শুরু হয়।’

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এমন অবৈধ কাজে যারাই  জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকাটাইমস/২৫জুলাই/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :