রপ্তানি আয়ে লাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৬
ফাইল ছবি

দেশের পণ্য রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৯৯৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

আবার একক মাস হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে ৩১৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৫৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। কোনো এক মাসে এত বেশি প্রবৃদ্ধি কখনও হয়নি।  গত বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয়েছিল ২০৩ কোটি ডলারের পণ্য।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি সোমবার পণ্য রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ার কারণে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৮১৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৭১৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রফতানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৯০০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৩৩ কোটি ডলার। এ সময়ে আয় এসেছে ৯৯৪ কোটি ডলার।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে ৬.৫৪ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছিল ৮৬৬ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম তিনি মাসে আয় হয়েছিল দুই হাজার ৭১৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তৈরি পোশাক খাতে পণ্য আয় হয়েছে ৮১৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতের পণ্য রপ্তানিতে ৪২০ কোটি ৬৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

গত তিন মাসে নিটওয়্যার খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন গার্মেন্ট পণ্যে ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রপ্তানি আয়ে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু প্রতিযোগী দেশগুলো আমাদের চেয়েও এগিয়ে গেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি।’

‘বর্তমানে পোশাক শিল্পকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা এখন শতভাগ কমপ্লায়েন্স কারখানার দিকে হাঁটছি। ফলে রপ্তানিতে খুব সন্তোষজনক কিছু অর্জন করা যাচ্ছে না।’

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের গত মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ২৯ কোটি ১৮ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৭১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

গত তিন মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ সময় আয় এসেছে ২০ কোটি ২৯ লাখ ডলার।
তিন মাসে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

অবশ্য গত তিন মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে। একই সঙ্গে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। এ সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে ২১ কোটি ডলার।

এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম হয়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। এছাড়া গত তিন মাসে প্রবৃদ্ধি কমেছে মাছ, গ্লাস, জাহাজ রফতানিতে।  

ঢাকা টাইমস/ ০৮ অক্টোবর/ আরএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :