১৩ আসনে ‘বিকল্প প্রার্থী’ খুঁজছে বিএনপি

বোরহান উদ্দিন
| আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:০৫ | প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৮
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ দুই নেতা নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান

উচ্চ আদালতের রায়ে এখন পর্যন্ত ১৩টি আসনে প্রার্থীশূন্য হয়ে গেছে বিএনপির। আর এসব আসনে বিকল্প কাউকে সমর্থন দেওয়া যায় কি না, এই বিষয়টি নিয়ে ভাবছে দলটি।

নির্বাচন কমিশনে আবার প্রার্থী শূন্য আসনে নতুন করে তফসিল দেওয়া অথবা বৈধ দলের বিকল্প অন্য প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। কমিশনও বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত জানায়নি। এই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বিএনপি কী করবে।

দিনাজপুর-৩, জয়পুরহাট-১, বগুড়া-৭, রাজশাহী-৬, ঝিনাইদহ-২, ঢাকা-১, ঢাকা-২০, মানিকগঞ্জ-৩, জামালপুর-১, জামালপুর-৪, সিলেট-২ ও চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।

এসব আসনের মধ্যে সিলেট-২, জামালপুর-১, মানিকগঞ্জ-৩, ঢাকা-২০সহ বিভিন্ন আসনে দুই জোট ঐক্যফ্রন্ট অথবা ২০ দলের শরিক দলের কোনো না কোনো নেতা প্রার্থী আছেন। ফলে বিএনপি চাইলে তাদের সমর্থন জানাতে পারে। তবে তারা কেউ ধানের শীষ পাবেন না, ভোট করবেন তাদের নিজস্ব প্রতীকে।

তবে বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি ঘরানার কেউ নেই যাকে সমর্থন দেওয়া যায়। ফলে ওই আসনটি ফাঁকাই রাখতে হবে।

যেসব আসন প্রার্থীশূন্য হয়ে গেছে, তার মধ্যে পাঁচটির ব্যাপারে আদেশ এসেছে আপিল বিভাগ থেকে। বাকি আটটি আদেশ এসেছে হাইকোর্ট থেকে। ফলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়ে গেছে প্রার্থীদের। সেখান থেকে কী আদেশ আসে, সেদিকেও তাকিয়ে দলটি।

যদিও স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থীশূন্য হয়ে গেছে সেসব জায়গায় জোটের শরিকদের যারা প্রার্থী ছিলেন তাদের মৌখিক সমর্থন দেয়া হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত শূন্য আসনগুলোর ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আশা করছি, নির্বাচন কমিশন আমাদের দেওয়া দুটি প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীদের নির্বাচন করার সুযোগ দেবে। আর এখন তো নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর। তারা আমাদের আবেদনে সাড়া দিবে।’

শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে পর্যন্ত কোনো সুরাহা না হলে কি সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি- এমন প্রশ্নে সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি শূন্য আসন পূরণ করতে আমাদের প্রার্থী দিয়ে। কারণ আমাদের তো এক আসনে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া ছিল। আর শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব না হলে জোটের অন্য কাউকে সমর্থন দেয়া হবে কি না সেটার সিদ্ধান্ত পরে।’

নির্বাচন কমিশনে দুই আবেদন বিএনপির

গতকাল বিএনপি যখন নির্বাচন কমিশনে যায়, তখন নয়টি আসনে তাদের প্রার্থী ছিল না। তবে একই দিন একটি আসনে একজনকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার নির্দেশ আসে। ফলে আটটি আসন থাকে শূন্য। এসব আসনে পুনঃতফসিল অথবা দলের মনোনীত অন্য বিকল্প প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়ার সুযোগ চাওয়া হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল বিকালে নির্বাচন কমিশনে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি নিয়ে যায়। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা একজন প্রার্থীকে নির্বাচনী এলাকায় পরিচয় করেছি। এখন এসে আমাদের প্রার্থী বাতিল করা হলো। ইসি বৈধ ঘোষণার পর আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। ইসির ভুলে আমরা কেন শাস্তি পাব?’

আগামী রবিবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠক আছে। সেখানে বিএনপির আবেদনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ^াস দেয়া হয়েছে দলটিকে। দলের প্রার্থী অবৈধ ঘোষণার পর অন্য দলের কাউকে সমর্থন দেওয়ার উদাহরণ আছে। মেহেরপুর-১ আসনে মাসুদ অরুণ এবং টাঙ্গাইল-৬ আসনে গৌতম চক্রবর্তী এভাবেই বিএনপির সমর্থনে জিতে আসেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :