২০ বছর পর পরিবার ফিরে পেলেন রাশিদা

আল-আমিন রাজু, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:০২

শৈশবের কোনো এক অসতর্ক মুহূর্তে হারিয়ে যায় ছোট্ট রাশিদা। এরপর দীর্ঘ ২০টি বছর কেটে যায় পরিবার-পরিজনহীনভাবে। অন্যের দয়ায় অনাথ হিসেবে কোনো রকম বেঁচে থাকেন। পরিণত বয়সে নতুন পরিচয়ে বিয়ে-সংসার-সন্তানও হয়। বাবা-মা পরিবার হারানোর কষ্ট বুকে চেপে দিন পার করছিলেন মধ্যবয়সী এই নারী। তবে তার সেই কষ্টের দিন শেষ হলো ফেসবুক গ্রুপ ‘ওয়াব’ এর কল্যাণে। ২০ বছর পর নিজের পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন রাশিদা।

রাশিদা বেগম বর্তমানে বসবাস করছেন নোয়াখালীর মাইজদি উপজেলায়। সেখানে তার পরিচয় আলেয়া বেগম নামে এক নারীর পালিত মেয়ে হিসেবে। এবার তিনি সন্ধান পেলেন তার বাবা-মায়ের, যারা থাকেন খুলনার কয়রায়।

ফেসবুক গ্রুপ ওয়াব-এর এডমিন খুলনায় কর্মরত পুলিশ সদস্য এসএম আকবর ঢাকা টাইমসকে জানালেন রাশিদার পরিবার ফিরে পাওয়ার সেই গল্প।

এসএম আকবর বলেন, ওয়াবে সাবিনা আফরিন নামের একটি আইডি থেকে এক নারীর পরিবারের সন্ধান চেয়ে পোস্ট করা হয়। পোস্টে বলা হয়, রাশিদা চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে তার এক মামার বাসায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে হারিয়ে যান তিনি। এরপর হারিয়ে যাওয়া রাশিদা পোস্টদাতা সাবিনার মামার হাতে পড়েন। তিনি অনেকভাবে রাশিদাকে তার ঠিকানায় ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার সব চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

এরপর তিনি শিশু রাশিদাকে তুলে দেন তার এক বোন আলেয়া বেগমের হাতে। সেই আলেয়া বেগম নিজের সন্তানের মতো আদর যত্নে বড় করেন রাশিদাকে। এরপর বিয়ে দেন ঠিকাদার আব্দুল কাদের সবুজের কাছে। সবুজের সংসারে দুই সন্তান নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল রাশিদার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হারিয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার ফিরে পাওয়ার বিভিন্ন খবর শুনে রাশিদাও নিজের বাবা-মা, ভাই বোনকে ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তার অনুরোধে সাবিনা আফরিন পোস্ট করেন ফেসবুক গ্রুপ ওয়াব এ।

এরপর স্বপ্ন থেকে বাস্তবে ফেরার গল্প। ওয়াবের পোস্টের মাধ্যমে রাশিদা ফিরে পান তার পরিবারকে। ফেসবুকের কল্যাণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাশিদা ফিরে পেলেন পরিবার।

ওয়াবের প্রতিষ্ঠাতা আকবর বলেন, রাশিদাকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমরা কয়েকটি ধাপে রাশিদার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করেছি। এখন রাশিদা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে খুলনায় যাবেন।

(ঢাকাটাইমস/২৮ডিসেম্বর/কেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :