খোঁড়াখুঁড়িই যেন ঢাকার রাস্তার নিয়তি

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৪ | প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২২

পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের চারপাশের মূল সড়কটিতে দুই সপ্তাহ ধরে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। কোথাও রাস্তা কেটে মাটি-ইট তুলে রাখা হয়েছে সড়কের ওপরেই। কোথাও আবার ঢালাইয়ের জন্য আনা ইটের টুকরা আর বালু রাখা হয়েছে পার্কের পাশে ওয়াকওয়েতে। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তীব্র যানজট লেগেই থাকছে ব্যস্ততম এই এলাকায়। আবার ধুলোবালিতে নাকাল হচ্ছেন পথচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে এই পথে। আবার এই এলাকার ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় পায়ে হেঁটে চলারও সুযোগ নেই।

খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘একবার রাস্তা কাটলে ঠিক করার কথা আর মনে থাকে না। মানুষের যে কি দুর্ভোগ হয় সে কথা কেউ ভাবে না। বড় বড় গর্ত করে রেখেছে। কে কখন পড়বে আল্লাহ ভালো জানেন।’

শুধু পুরান ঢাকা নয়, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনেক এলাকায় এমন রাস্তা কাটাকাটি চলছে। মূল সড়কের পাশপাশি অলিগলিতেও চলছে এমন খোঁড়াখুঁড়ি। দক্ষিণের মতো উত্তর সিটিতেও বিভিন্ন এলাকায় চলছে খোঁড়াখুঁড়ি।

কোথাও জলাবদ্ধতা নিরসনে রাস্তা কেটে নতুন করে বড় আকারের সুয়্যারেজ পাইপ বসানো হচ্ছে। এই কাজ চলছে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায়। এর বাইরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু এলাকায় ওয়াসা পানির নতুন লাইনের কাজ করছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার প্রায় গলির মুখে রাস্তা কেটে বসানো হচ্ছে নতুন লাইন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সুপেয় পানির জন্য এই কাজ চলছে। এসবের বাইরেও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ, তিতাস, ডেসকো, ডিপিডিসি, বিটিআরসিও অনেক সময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে তাদের কাজ করে থাকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পলাশী, বকশিবাজার, গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, লালবাগ, চকবাজার, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, নর্থসাউথ রোড, বাংলাবাজার, পশ্চিম দোলাইরপাড়, আরামবাগ, মতিঝিল এলাকায় রাস্তা কাটাকাটি চলছে। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ফার্মগেট থেকে সাতরাস্তা, আসাদগেট এলাকা, ডিআইটি রোড, বাড্ডা ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি চলছে।

এসব এলাকায় দেখা গেছে, কোথাও পুরো সড়কের একপাশ লম্বা করে কাটা। মাটির নিচে বেশ গভীর করে কোথাও বসানো হচ্ছে সুয়্যারেজ পাইপ। কোথাও আবার রাস্তা খুঁড়ে মাটি, পিচ তুলে রাখা হয়েছে রাস্তার উপরেই। সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যে এসব সড়কের কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও মাসে পেরিয়ে গেলেও বালু-মাটি ফেলে রাখা হয়েছে অনেক এলাকায়।

ড্রেনেজ লাইনের কাজে যুক্ত একজন শ্রমিক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মানুষের কষ্ট হয় জানি তারপরও রাস্তা কাটার পর যে মাটি-ইট ওঠানো হয় এগুলো কোথায় নিয়ে যাবো? কিছু ট্রাকে নিয়ে যায় কিন্তু বেশিরভাগ পাশে উঠাইয়া রাখতে হয়। পাবলিকের ভোগান্তি আমরাও দেখি। করার কিছু নেই।’

এদিকে রাস্তা কাটাকাটির কারণে দুর্ভোগের কথা স্বীকার করছেন জনপ্রতিনিধিরাও। তবে দীর্ঘ সময়ের সুবিধা পেতে সাময়িক কষ্ট মেনে নেয়ার অনুরোধ তাদের। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য এবং পানির পুরান লাইন বদল করে নতুন পাইপ বসানোর কাজ চলছে। মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে ঠিক কিন্তু সুফল পাওয়ার জন্য একটু কষ্ট মেনে নিতে হবে। আমি দ্রুত যেন কাজ শেষ হয় এজন্য সবসময় তদারকি করছি।’

তথ্যমতে, দুই সিটি করপোরেশন এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলি মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর ৬০০ কিলোমিটারেরই ভগ্নদশা। এর মধ্যে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে দীর্ঘ সময় ধরে।

জানা গেছে, রাস্তা কাটাকাটি করার আগে সংশ্লিষ্টদের সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ মিটিং করে অনুমোদন দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি পাওয়ার আগেই সংস্থাগুলো সড়ক কেটে তাদের লাইন সংস্কার করে ফেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই সিটিতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ৫শর বেশি আবেদন জমা আছে। এর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে রাস্তা কাটার জন্য শুধু উত্তর সিটি সিটিতে শতাধিক আবেদন জমা আছে। প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনায় ধীরে ধীরে এসব আবেদনের অনুমতি দেয়া হয়।

উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. সেলিম রেজা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ওয়াসা, বিটিসিএল, মেট্রোরেলসহ যেসব প্রতিষ্ঠানকে রাস্তা কাটার অনুমতি দেয়া হয়েছে সবাইকে দ্রুত সময় কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ধরণের সরঞ্জাম রাস্তার ওপরে যেন না থাকে সেজন্য আমাদের নির্দেশনা দেয়া আছে। কোনো অবস্থায় নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার ওপর রেখে দেয়া যাবে না। অনেককে জরিমানাও করা হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা খুব সিরিয়াস। এসব নিয়ে বারবার মিটিংও করছি । একটা নিয়মের মধ্যে রাখতেই হবে।’

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুনসী মো. আবুল হাসেম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রাস্তা কাটার কারণে দুর্ভোগ হচ্ছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময় যেন কাজ শেষ হয়। মালামাল রাস্তার ওপর রেখে যাতে আরো দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয় সেটাও দেখা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২৭সেপ্টেম্বর/বিইউ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :