সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের এপিএস ফারুক এখন...

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ ও সিরাজুম সালেকীন
| আপডেট : ০৭ মে ২০২২, ১৯:২৫ | প্রকাশিত : ০৭ মে ২০২২, ১৯:০৯

সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদারের কথা মনে আছে? বছর দশক আগের ঘটনা। নাটকীয় ঘটনাই বলা যায়। পরে দুদকের মামলায় পাঁচবছরের কারাদণ্ড হয় ওমর ফারুকের। কিন্তু বেশিদিন সাজা খাটতে হয়নি তাকে। জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। সাজা মওকুফ চেয়ে আবেদন করেছেন উচ্চ আদালতেও। বর্তমানে স্থগিত আছে সাজা। তাও বছর চারেক হচ্ছে।

সেই ওমর ফারুকের বেশভূষাও বদলে গেছে এখন। ক্লিন-শেভ চেহারা বদলে গেছে শ্মশ্রুতে। তাতে লেগেছে মেহেদির রঙও। নিয়োজিত আছেন আইন পেশাতে। ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অ্যানরোলমেন্ট হয় তার। সদস্য পদ পান পরের বছরের ২৪ মে।

শনিবার ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে কথা হয় তার। জানান, ঈদ উদযাপন করতে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। এখনো পরিবার নিয়ে আছেন সেখানেই। সামনে সপ্তাহে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

কীভাবে যাচ্ছে সময়? জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি আইনজীবী। এখান এই পেশাতেই সময় দিচ্ছি।’ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক রেলমন্ত্রীর সাবেক এই এপিএস বলেন, ‘রায়ের পর জামিন নিয়ে আমি উচ্চ আদালতে আবেদন করেছি। এখনো কোনো ফলাফল আসেনি।’

এতোদিনেও কেন ফলাফল আসেনি? জবাবে বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন আদালতের কার্যক্রমে ধীরগতি ছিল। আমি এখন এসব নিয়ে খুব ভাবছি না। আল্লাহ যা করেন, করবেন।’

কী ঘটেছিল ওই রাতে?

২০১২ সালের ৯ এপ্রিল রাতের ঘটনা। হঠাৎ করেই একটি গাড়ি ঢুকে পড়ে বিজিবি সদর দপ্তরের ফটক দিয়ে। ওই গাড়িতে ছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রীর এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা ও রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হক। গাড়ির চালক ছিলেন আজম খাঁন। ওই গাড়ি থেকে তখন উদ্ধার করা হয় একটি টাকার বস্তা। যেখানে ৭০ লাখ টাকা ছিল। অভিযোগ ওঠে, রেলওয়ের নিয়োগ বাণিজ্য থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয় ওই ঘটনায়। তুমুল সমালোচনার মুখে মন্ত্রী পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন প্রয়াত রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এর আগে এপিএস পদ থেকে ওমর ফারুককে বরখাস্তও করেন তিনি।

গাড়িতে বস্তায় পাওয়া টাকার উৎসের খোঁজে নামে দুদক। অনুসন্ধানে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়ায় ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট রমনা থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে দুদক আইনের ২৭(১) ও ২৬(২) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

কারাদণ্ড হয়েছিল পাঁচ বছর:

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আতাউর রহমান এক রায়ে ওমর ফারুক তালুকদারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সেই সঙ্গে, এক কোটি ২৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেন আদালত। তার নামে থাকা ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন ওমর ফারুক। ওই সময় তিনি জামিনে ছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পুলিশ তাকে কারাগারে নিয়ে যায়। পরে তিনি জামিনে ছাড়াও পান।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের যে ফ্ল্যাটটি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত এখন সেই ফ্ল্যাটেই চেম্বার করছেন ওমর ফারুক তালুকদার। জানতে চাইলে তিনি ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এখনো উচ্চ আদালতে আমার আবেদনের কোনো সুরাহা হয়নি। তাই ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্তের বিষয়টিও স্থাগিত আছে।’

যেভাবে উঠে আসেন ওমর ফারুক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথ নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় করেন ২০১১ সালে। দেশব্যাপী রেলপথ বিস্তৃত ও উন্নয়নের জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে দেওয়া হয়েছিল রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সুরঞ্জিত রেলমন্ত্রী হওয়ার পর ওমর ফারুককে তার এপিএস করে নেন। ওমর ফারুকের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের হাওরপাড়ের মির্জাপুর গ্রামে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের সাধারণ পরিবেশেই বড় হয়ে উঠেছেন ওমর ফারুক। পরিবারও ছিল স্বনামধন্য। তবে একপর্যায়ে পরিবারে আর্থিক অসচ্ছলতা দেখা দেওয়ায় ফারুক ঢাকায় এসে শুরুতে কারওয়ান বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে এক হাজার ২০০ টাকা বেতনে চাকরি নেন। সে সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস ছিলেন অনুকূল তালুকদার ডালটন।

অনুকূলের সঙ্গে পরিচয়ের পর একসময় দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অনুকূল ২০০৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডন যান। তখন তার জায়গা দখল নেন ওমর ফারুক। ধীরে ধীরে সুরঞ্জিতের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা নির্বাচনী এলাকা থেকে বিজয়ী হন। পরে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর ওমর ফারুক তার এপিএস হিসেবে নিয়োগ পান।

(ঢাকাটাইমস/৭মে/এসএস/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :