শীতকালীন ডায়রিয়ায় দুই মাসে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে দুই লাখ 

তানিয়া আক্তার, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০৬

দেশে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়া। শীতকালীন ডায়রিয়ায় গত দুই মাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ। এ সময়ের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। এদের দুজন শিশু। দেশের সবপ্রান্তের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর। তবে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে বরিশাল বিভাগে। এই শীতকালীন ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা পেতে শীতে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় ভাইরাসের ছড়াছড়ি থাকায় নিতান্ত প্রয়োজন না হলে বাইরে যাওয়াসহ পিঠা বা বাইরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বানানো যেকোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণের লোভ সংবরণ করার পরামর্শ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, গত ১৫ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ১৪ হাজার ৩০২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৯ হাজার ১০৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ৮৪২ জন, চট্টগ্রামে ৪৫ হাজার ৫৫২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১১ হাজার ৮৪৩ জন, রংপুর বিভাগে ৮ হাজার ৭৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ২৬ হাজার ৫৪৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৩ হাজার ৯২৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭ হাজার ৭৪১ জন।

শীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণগুলো জানালেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, “শীতকালে আবহাওয়ার যে পরিবর্তনগুলো ঘটে তারমধ্যে একটি হচ্ছে তাপমাত্রা কমে গিয়ে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় এবং বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন পরিবেশকে প্রভাবিত করে। এই সময় রোটা ভাইরাস বেশ সক্রিয় হয়ে পড়ে। এই ভাইরাসটি মূলত শীতকালীন ডায়রিয়ার জন্য দায়ী। সুপেয় পানির অভাবেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া বেড়ে যায়। এছাড়া বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ায় পথের খোলা খাবার খাওয়ার ফলেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এসব নানা কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ৪ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগেই ২ জন। একজন খাগড়াছড়ির এবং অন্যজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া রাজশাহীর নঁওগায় ১ জন ও সিলেটের মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে ৮ এবং ১০ বছর বয়সী দুজন মেয়ে শিশু রয়েছে। বাকিরা ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং ৫৫ বছর বয়সী একজন নারী।

শীতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে শিশুসহ বড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ ঢাকা টাইমসকে বলেন, “শীতে শুষ্ক আবহাওয়ায় ভাইরাসের ছড়াছড়ি থাকে। বাতাসও বেশ দূষিত অবস্থায় থাকে। ফলে শিশুদের অযথা বাইরে যাওয়া এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে বিরত রাখতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ও মুখ ধুয়ে নিতে হবে।”

এবিএম আব্দুল্লাহ আরও বলেন, “ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়া রোগী স্যালাইন খেতে পারে বা ডাবের পানিও পান করতে পারে। শিশুরা নরম খাবার খেতে পারবে। যদি ক্রমাগত বমি হওয়া, প্রস্রাব না হওয়া, পালস না পাওয়া, শিশুদের খিচুনির মতো হওয়া, গাল ভেঙে যাচ্ছে বা মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। তবে বমি যদি না হয় তখন সহজে হজম হয় এমন খাবার চালিয়ে যেতে হবে। বিশেষত তরল খাবার বেশি পরিমাণে খেতে হবে।”

শীতকালে প্রতিবছরই পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে। তবে পথের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পিঠাসহ অন্যান্য খাবার খাওয়ার লোভ সংবরণ করার পরামর্শ দেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলেন, “শীতের খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হলো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বানানো নানা জাতের পিঠা। কিন্তু শীতের পিঠা বানাতে যে পানি ব্যবহার করা হচ্ছে তার উৎস আমাদের অজানা। এছাড়া যেসব জায়গায় শীতের পিঠা বানানো হয় এবং যিনি বানাচ্ছেন তার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একটি প্রশ্ন থেকে যায়। তাই এসব খাবারের লোভ সংবরণ করতে হবে সববয়সীদের।”

(ঢাকাটাইমস/৩১জানুয়ারি/টিএ/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :