গার্মেন্টসের মতো অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাতে পারে ফার্নিচার শিল্পও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৭

আবাসন প্রস্তুতকারী  প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স ফার্নিচার ৩৮ বছর আগে ঢাকার গুলশানে ছোট একটি দোকান দিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫০টির মতো শোরুম রয়েছে। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে। ক্রেতাদের  চাহিদার কথা মাথায় রেখে ব্র্যান্ডটি বরাবরই গুণগত মান বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এর বিশেষত্ব ও নতুনত্ব নিয়ে ব্রাদার্স ফার্নিচারের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস ডিপার্টমেন্ট প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম বকশি কথা বলেছেন দৈনিক ঢাকা টাইমসের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নজরুল ইসলাম

ব্রাদার্স ফার্নিচার দেশের সেরা ব্র্যান্ডের একটি। আজকের এই অবস্থানে আসার শুরুটা কেমন ছিল?

পৃথিবীর সবকিছুই সূচনালগ্নে ছোট থাকে। অনেক শ্রম, ত্যাগ আর তিতিক্ষার বিনিময়ে হাটি হাটি পা পা করে বড় পরিসরে  যায়। ব্রাদার্স ফার্নিচারের শুরুটা হয়েছিল গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে ছোট একটি দোকান নিয়ে। সেই ছোট দোকান থেকে শুরু করা দেশের সেরা ব্র্যান্ডটির এখন প্রায় ৫০টির মতো শোরুম রয়েছে। আমাদের ব্রাদার্স এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের সবার পরিশ্রম, ভালোবাসা, আন্তরিকতা আর পণ্যের গুণগত মানের কারণে।

 ব্রাদার্স ফার্নিচারের বিশেষত্ব নিয়ে বলুন

ব্রাদার্স ফার্নিচারের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হচ্ছে গ্রাহককে বোঝা। তাদের মনের অভিব্যক্তি, অর্থাৎ গ্রাহক কী চায়, যুগ কী চায়, কোন ধরনের ডিজাইন ও ফিনিশিং চায়Ñ এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে ব্রাদার্স সব সময় ডিজাইন পরিবর্তন করে তাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দেয়। মূলত ব্রাদার্স ফার্নিচারের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গুণগত মান ঠিক রেখে সর্বস্তরের গ্রাহকের মনকে প্রাধান্য দিয়ে নিত্যনতুন ও আধুনিক পণ্য উপহার দেওয়া।

গুণগত মান আর টেকসইয়ের দিক বিবেচনায় ব্রাদার্সের অবস্থান কোথায়?

আমাদের প্রোডাক্টগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। গুণগত মানসম্পন্ন প্রোডাক্ট ও টেকসই প্রোডাক্টের বিবেচনায় বাজারের যে পাঁচটা ব্র্যান্ড আছে, তাদের চেয়েও গুড কোয়ালিটি প্রোডাক্ট দিচ্ছে ব্রাদার্স। ব্র্যান্ড প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে কোনো কমপ্রোমাইজ চলে না। গুণগত প্রোডাক্ট তৈরির ক্ষেত্রে ব্রাদার্স সেই কাজটাই করে। আমাদের ফার্নিচার অবশ্যই টেকসই। আমি বিশ্বাস করি এবং গুণগত মানের পণ্য ক্রেতাদের কাছে তুলে দিই।

বিদেশে শোরুম করার পরিকল্পনা আছে কি না?

ছোট দোকান থেকে বর্তমানে আমাদের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টির শোরুম রয়েছে। আমরা বাংলাদেশে আরও নতুন ৪০ থেকে ৫০টির মতো আউটলেট খোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। দেশের বাইরেও আমাদের শোরুম করার প্রস্তুতি চলছে। আমরা মূলত ইউরোপের দেশগুলোতে শোরুম খোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপালে শোরুম খুলব।

এই মুহূর্তে দেশের বাইরে পণ্য রপ্তানি করছেন কি?

আমাদের এখন দেশের মধ্যে আধুনিকায়নের কাজ চলছে। আমরা বড় পরিসরে যখন শুরু করব, তখন দেশের চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাইরেও রপ্তানি করব। তাই এই মুহূর্তে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছি না। কারণ দেশের বাজারে যে চাহিদা, সেটা মেটানোর চেষ্টা করছি। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে যাচ্ছি না। পরিকল্পনা আছে সামনে যাওয়ার।

ব্রাদার্স ফার্নিচার তৈরিতে কাঁচামাল ব্যবহারের প্রক্রিয়াটা বলুন

ব্রাদার্স ফার্নিচার তৈরিতে যেসব কাঁচামাল ব্যবহার করে, সবই দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। আমাদের একসেসরিজ থেকে শুরু করে কাঠ ও হার্ডওয়্যার সবই বাইরে থেকে আনা হয়। মূলত আমদানি করা উন্নতমানের কানাডিয়ান ওক কাঠ ও বিচ কাঠ দিয়ে ফার্নিচার তৈরি হয়। আন্তর্জাতিকভাবে ও সরকার স্বীকৃত স্পালইয়ারের মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব ম্যানেজমেন্টে কাঁচামাল এনে দক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে ফার্নিচার তৈরি করা হয়।

বাণিজ্য মেলায় কী কী নতুন পণ্য এনেছেন? বিশেষ অফার আছে কি না?

প্রতিটি বাণিজ্য মেলায় ব্রাদার্স ক্রেতাদের জন্য নতুনত্ব নিয়ে হাজির হয়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এবারের মেলায় নতুন বেডরুমের মধ্যে এসেছে কিং, কুইন, ইতালিয়ান, আইরিশ ও ফ্যান্টাসি বেডরুম। নতুন সোফাসেট, ডাইনিংসেট, শোকেস ও সেন্টার টেবিলও এসেছে। এবার মেলায় ক্রেতাদের জন্য বিশেষ অফার হিসেবে রয়েছে সব ফার্নিচারে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট।

ব্রাদার্স ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টির বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করে?

ব্রাদার্স সব সময় ক্রেতাদের বলে ‘উইথ ইউ’, অর্থাৎ ব্রাদার্স ক্রেতাদের সঙ্গেই আছে। ক্রেতাদের সঙ্গে ব্রাদার্সের সম্পর্ক পারিবারিক। সুতরাং যত দিন আপনি আছেন, যত দিন আমাদের প্রোডাক্ট আছে, তত দিন আপনার সঙ্গে আমার ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টির সম্পর্ক আছে। তবে কাগজে-কলমে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি ও এক বছরের গ্যারান্টি দেওয়া হয়।

বাজারে ব্রাদার্স ছাড়াও বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ক্রেতারা ব্রাদার্স কেন কিনবেন?

ব্রাদার্স গ্রাহককে চেনে, গ্রাহকের মনকে বোঝে, নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করে। ব্রাদার্স সব সময় নতুন ফ্লেভার দেয়। আর নতুন ফ্লেভার যারা দেবে, গ্রাহক তো তাদের সঙ্গেই থাকবেন। ব্রাদার্স তাদের কথা মাথায় রেখে মনোলোভা ফার্নিচার নিয়ে আসে। তাদের জন্যই আমরা কোয়ালিটি ও সার্ভিসের বিষয়ে কোনো কমপ্রোমাইজ করি না। 

সরকারি কী ধরনের সুবিধা পেলে ফার্নিচার শিল্প আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাতে পারে?

ফার্নিচার সেক্টরে গত ১০ বছর আগেও ভালো মানের জনশক্তি ছিল না। সেখানে এখন অনেক স্কিলড জনশক্তি তৈরি হয়েছে। দেশের বেকারত্ব দূর করতে এর বিশেষ অবদান রাখার সুযোগ হয়েছে। গার্মেন্টস শিল্প যেমন অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে, তেমনি ফার্নিচার শিল্পও সরকারি সহায়তা পেলে বিপ্লব ঘটাতে পারে। এ জন্য সরকারকে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে দেশের বাইরে থেকে আনা পার্টসগুলোর ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাট কমিয়ে দিতে হবে।  

ব্রাদার্স নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে বাংলাদেশে ফার্নিচার শিল্পে অনন্য ভূমিকা রেখে দেশের অর্থনীতিকে সামনে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করা। দেশের বেকারদের কর্মসংস্থান করে দেওয়া। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া এবং সব সময় ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে নতুনত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা। সর্বোপরি ক্রেতাদের  নিয়ে ভাবা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :