ছাত্রলীগ ডাকসু নির্বাচনে, ছাত্রদল যাচ্ছে ‘আন্দোলনে’

এন এইচ সাজ্জাদ
| আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩১ | প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকারপন্থী ছাত্রলীগ স্বাগত জানালেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। 

আবার আর তফসিলের ঘণ্টা দুয়েক পরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিযোগ, হলে ভোটকেন্দ্র সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। এতে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না।

১৯৯০ সালের পর ডাকসু নির্বাচন আর হয়নি। এই তিন দশকে একাধিকবার ভোটের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তফসিলও ঘোষণা হয়েছে আরো এক দফা। কিন্তু সরকার সমর্থক ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরোধী মনোভাবের কারণে নির্বাচন আর হয়নি।

এবার নির্বাচনের দাবি আদায়ে আদালতে পর্যন্ত যেতে হয়েছে। আর উচ্চ আদালত মার্চের মধ্যে নির্বাচন দিতে আদেশ দিয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে ছাত্রদলের নেতারা ক্যাম্পাসে সহাবন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

গত ১০ বছর ধরেই হলে থাকতে পারছেন না ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এর আগে বিএনপির শাসনামলে হলে উঠতে পারেননি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সে সময়ও সহাবন্ধান নিশ্চিত না হওয়ায় ডাকসু নির্বাচন আর করা যায়নি।

সহাবস্থান ছাড়াও ছাত্রদল ও বামপন্থী সংগঠনগুলো একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত যতবার ভোট হয়েছে ততবার হলেই ছিল ভোটকেন্দ্র। তাই এবারও আগের মতোই হলেই কেন্দ্র রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তফসিলে বলা হয়েছে, আগামী ১১ মার্চ হলগুলোতে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দেবে শিক্ষার্থীরা।

এই অবস্থায় ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সকল ছাত্রসংগঠনগুলো আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অবস্থায় ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ফের অনিশ্চয়তার তৈরির আভাস পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছাত্ররা বলছেন, ভোটকেন্দ্র নিয়ে যে জটিলতার তৈরি হচ্ছে, এটি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে আলোর মুখ দেখবে না ছাত্র সংসদ নির্বাচন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ডাকসু নির্বাচন চায়। তারা চায় নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা অর্পিত হোক। শিক্ষার্থীদের প্রাণের এই স্ফূরণের প্রতি সম্মান জানিয়ে ছাত্রলীগ এই তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে।’    

ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি আল মাহদী তালুকদার বলেন, ‘এই তফসিল আমাদের আশাহত করেছে। কারণ কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি-দাওয়াকে উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে ঘোষণা করেছে।’

‘আমরা ক্যাম্পাসে সকল রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছিলাম। এছাড়া, দাবি করেছিলাম হলের বাইরে নির্বাচন কেন্দ্র স্থাপনের। কিন্তু এর কোনটিই বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ পূরণ করেনি। যা সত্যিকার অর্থেই আমাদের জন্য হতাশাজনক।’

মাহদী জানান, তারা (ছাত্রদল) এই বিষয়গুলো নিয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।

যদি বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের দাবি-দাওয়া মেনে না নেয় তাহলে আপনাদের সিদ্ধান্ত কী হবে- এমন প্রশ্নে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘আমরা এখনও ইতিবাচক চিন্তা করছি। আমাদের বিশ্বাস কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি মেনে নিয়ে নতুন করে আবারও তফসিল ঘোষণা করবে’। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তফসিল পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটানিং কর্মকর্তা এস এম মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘ডাকসুর এই গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের জন্য আমরা প্রথমে সকল ছাত্রসংগঠনের কাছ থেকে সুপারিশ নিয়েছি। তারপর সেই সুপারিশগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাস হয়েছে। সুতরাং নতুন করে কোন কিছু যোগ করা আর সম্ভব না।’

ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘নতুন তফসিল ঘোষণা করতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাধ্য করব। কারণ, এইভাবে ডাকসু নির্বাচন হলে সেটি হবে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন’।

কীভাবে বাধ্য করবেন- জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘আমরা আগামীকাল থেকে আন্দোলনের জন্য কর্মসূচি ঘোষণা করব’।

তফসিলকে ঘোষণাকে নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে আখ্যায়িত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ‘আমরা চাই ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের সাহায্য না করে তাহলে সেটি সম্ভব হবে না। তারপরও আমরা আশাবাদী কর্তৃপক্ষ তাদের বির্তকিত সিদ্ধান্তগুলো থেকে সরে আসবে।’

ছাত্রদলের আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত কী- এমন প্রশ্নে বেনজির ‘কোন সিদ্ধান্ত আমাদের সংগঠন এখন পর্যন্ত নেয়নি। তবে শেষ অবধি যৌক্তিক দাবিগুলোর মীমাংসা না হলে আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।’

কোটা আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম যেন ক্যাম্পাসে সকল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিতের পরই তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রশাসন এ তার আগেই তফসিল দিল। এখনো ক্যাম্পাসে অন্য কোন ছাত্রসংগঠন তাদের কার্যক্রম চালাতে গেলে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এ সব ঘটনার একটিরও বিচার করেনি প্রশাসন। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ যেন আজকে থেকে ক্যাম্পাসে তাদের যে নিয়ন্ত্রণ তা প্রতিষ্ঠিত করে’।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :