পোশাকশিল্প দুর্বল শিশু, আরও ভর্তুকি চাই: বিজিএমইএ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৯, ২০:৩২

দেশের তৈরি পোশাক খাতকে ‘দুর্বল শিশু’ আখ্যা দিয়ে পোশাক রপ্তানির সব ক্ষেত্রে অন্তত ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। একই সঙ্গে পোশাক খাতকে অপরিপক্ব মন্তব্য করে এ খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে বিজিএমইএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুবানা হক ।

তবে সব দাবি পূরণ না হলেও বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বলেও মন্তব্য তার। রুবানা হক বলেন, বাজেটে ৭০ ভাগ খুশি আমরা।

রুবানা হক বলেন, ‘প্রতিনিয়ত যদি আমাদের শুনতে হয়, আমরা ম্যাচিউরড, এস্টাবলিষ্ট, আমাদের আর সাহায্য দরকার নেই, তা ঠিক নয়। প্রতিথযশা অর্থনীতিবিদরাও তাও বলেন। পোশাকে কিন্তু ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি নেই। গড়ে ৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গত এক মাসে আমরা ৩০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ঈদের আগে অনেকে মেশিন বিক্রি করে হলেও বেতন দিয়েছে।’

পোশাক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত কয়েকবছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮০০ কোটি টাকার প্রণোদনা উঠিয়েছি। যদিও আমাদের জন্য বরাদ্দ ছিল সব মিলিয়ে পনেরশ ২৫ কোটি টাকা। নানারকম আমলাতান্ত্রিক ঝামেলার কারণে অনেকেই ইনসেন্টিভ পান না, নেনও না। নতুন বাজারের ক্ষেত্রে প্রণোদনা বাড়ানো উচিৎ। পোশাক খাতকে পরাজিত বনের বিড়াল বানাবেন না।’

রুবানা হক বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গেলে আমাদের মনে হয় শিশু। দুর্বল শিশুর অবস্থানে চলে এসেছি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রণোদনা অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করার দাবি করছি।’ এসময় পোশাক কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতে ভ্যাট অব্যাহতির বিষয়টিকেও স্বাগত জানান রুবানা।

 

এসময় রুবানা হক বলেন,  আমাদের প্রনোদনা দেওয়া হয়েছে এক শতাংশ, যেখানে দুই হাজার ৮২৫ কোটি টাকা হয় । কিন্তু ডলারপ্রতি এক টাকা অবমূল্যায়ন করলে পোশাকশিল্প বছরে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাবে। সেটা কিন্তু করা হয় নি। 

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা বলেন, ‘এবারের বাজেটে আমরা ৭০ ভাগ খুশি। কিন্তু আমরা অন্তত ৩ শতাংশ প্রণোদনা পেতে চাই। বাজেটের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এটি জনকল্যাণমুখী বাজেট বলেছিলাম। আমি এখনও আগের অবস্থানেই আছি। এটি ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাজেট।’

 রুবানা হক বলেন, পোশাকে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি নেই। গড়ে ৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গত এক মাসে আমরা ৩০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ঈদের আগে অনেকে মেশিন বিক্রি করে বেতন দিয়েছেন। তাই যারা বলেন পরিপক্ক ও ম্যাচিউরড ইন্ডাস্ট্রি, প্রণোদনা ও ভর্তুকির দরকার নেই- এটা ঠিক নয়, এটার দরকার আছে৷

 পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ কি এমন প্রশ্নের জাবাবে রুবানা হক বলেন, আমরা কেউ কেউ এক্সপান করছি কিন্তুপণ্যের বহুমুখিকরণে কিন্তু সেই ভাবে হচ্ছে না। পণ্যের বহুমুখিকরন বিরাট চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে আমাদের। ভাবমুর্তির চ্যালেঞ্জ রয়েছে। টেকনোলজিকাল আপডেট দরকার। টেকনোলোজি আপডেটে ওইভাবে কিন্তু আগাচ্ছি না। আমরা গতকাল মাত্র এটুআই ও আর একটি কোম্পানির সঙ্গে বসেছি। সুধু একটি জিনিশ নিয়ে যে আমরা ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ থেকে উঠতে চাই। আমাদের সব বাইরে থেকে কিনতে হয়। ওয়াসিং মেসিং পর্যন্ত বাহির থেকে কিনতে হয়। আগে একটা দুইটা হতো এখন তাও হয় না। একটা বেশিক জিনিসও বহু দাম দিয়ে বিদেশ থেকে কিনতে হয়। রুবানা হক বলেন, হোমগ্রোন টেকনোলজি কিভাবে আসবে সেটার জন্য একটা ড্রাইভ দিচ্ছি আশা করি কিছু না কিছু পাওয়া যাবে।

পোশাকশিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ

রুবানা হক বলেন, ‘আমাদের ইনোভেসন চ্যালেঞ্জ আছে। এবং আমাদের ভ্যালু এডিশন সাংঘাতিক চ্যালেঞ্জ। ছোট ছোট কারখানাগুলোকে কিভাবে বাঁচিয়ে রাখব এই চ্যালেঞ্জটি আমাদের আসলে। কিভাবে এর সমাধান করবো আমরা এটার উপায় পাচ্ছি না। আমরা আইএলওকে একটা প্রস্তাব দিয়েছি। ওনারা যাতে আমাদেরকে ছোট ফ্যাক্টরি জন্য একটা মডিফাই স্টান্ডার্ড করে দেয়। যাতে ছোট ফ্যাক্টরি মডিফাই কম্পাইন্স এ্যপলাই করতে পারে। আমরা যেন বায়ারদে কাছে বলতে পারি আইএলও ইমপ্রোস করেছে এখন আপনারা এদের অর্ডার দেন।’

রুবানা হক বলেন, কারণ ছোট ফ্যাক্টরির বাঁচার দাকার আছে। কারণ অর্ডারের পরিমাণ কমে আসছে। আগে এক লাখ পিসের জায়গায় এখন দশ হাজার পিস অর্ডার আসছে। দশ হাজার পিসের জায়গায় একহাজার পিস। আমাদের ৫০০ পিসের অর্ডার আসছে।

রুবান হক বলেন, ‘আমাদের পোডাকশন কস্ট ২৯ . ৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের পণ্যের দাম বাড়েনি। টাকার ডিভ্যালু হয়নি, আমাদের ডিডটাইম চ্যালেঞ্জ আছে, আমাদের চাপ বাড়ছে। আমরা সচ্ছল অবস্থানে নেই এইটুকু বলতে পারি। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা আগাচ্ছি।’

(ঢাকাটাইমস/ ১৬জুন/জেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :