ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে

রাজধানীতে দ্রুত পৌঁছাতে পারবেন ৩০ জেলার মানুষ

অভিজিত রায় কৌশিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৯ মে ২০২৩, ১১:৩৮ | প্রকাশিত : ২৯ মে ২০২৩, ০৯:৫৯

নানা জটিলতা কাটিয়ে ৬ মাস আগে উদ্বোধন করা হয় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। প্রকল্প এলাকায় এখন পাইলিং চলছে। সড়কে ও মাটির নিচে থাকা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন লাইন সরাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে চিঠি দিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। শিগগিরই এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ২০২৬ সাল নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করে প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দ্রুত ও সহজে রাজধানীতে যাতায়াত করতে পারবেন ৩০টি জেলার মানুষ। এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে হলে যানবাহনকে টোল দিতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের কাজ পাওয়া চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনকে (সিএমসি) প্রথম কিস্তি বাবদ ৩২.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ। পাশাপাশি একই বছরের অক্টোবরে ১৭০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করে চীন সরকার।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরুর জন্য মবিলাইজেশন মানি হিসেবে অগ্রিম এ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংক গ্যারান্টি রয়েছে। তারা ডলারে এ টাকা চাইলেও ডলার সংকটের বিষয়টি তাদের বুঝিয়ে ওই অর্থ টাকায় পরিশোধ করা হয়। এরপর তারা যতটুকু কাজ শেষ করবে সেই অনুযায়ী তাদের অর্থ সরবরাহ করা হবে।

আরও পড়ুন>>কয়লার অভাবে বন্ধ হচ্ছে পায়রার বিদ্যুৎ উৎপাদন, লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

আরও পড়ুন>>হাতিরঝিলে রাজউকের হাঁসে কতটা লাভ হলো জীব বৈচিত্র্যের?

প্রকল্পের নথি বলছে, এক্সপ্রেসওয়েটি সাভার ইপিজেড থেকে আশুলিয়া-বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রকল্পের আওতায় ১০.৮৩ কিলোমিটার র‌্যাম্প, ১.৯৫ কিলোমিটার দুটি দীর্ঘ ফ্লাইওভার, ১৪.২৮ কিলোমিটার চার লেনের রাস্তা এবং এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে ১৮ কিলোমিটার ড্রেন ও ডাক্ট এবং ২.৭২ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ভূমিকম্প প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাও থাকবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে। নির্মাণ পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট করপোরেশন।

২০১৭ সালে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি জি টু জি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও চীন বাস্তবায়ন করছে, যা ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর ব্যয় ধরা হয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের খরচের ৮৩ শতাংশ চীন সরকার ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ৫ বছরের জন্য এবং এ সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। বাকি ১৭ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে, যা চীন ও বাংলাদেশের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে উভয় দেশের সরকার। কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানা কারণে চীনা কর্তৃপক্ষ ঋণ অনুমোদনে বিলম্ব করায় নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি ৫ বছরেও।

এই ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মেয়াদ আরও চার বছর বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬৫১ কোটি টাকা বেড়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। পরে গেল বছরের অক্টোবরে চীনা এক্সিম ব্যাংক এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার ২২৬ দশমিক ৫৩ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের জন্য খসড়া ঋণ চুক্তির অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ওই বছরের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের কাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)।

নির্মাণকাজ কেন দৃশ্যমান হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, এখন পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৫ শতাংশ। এখন মাটির নিচে পাইলগুলো করা হচ্ছে। কারণ আমরা তো কাজ শুরু করেছি মাত্র দুই তিন মাস আগে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় কর্মরত শ্রমিক ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ অন্যান্য প্রয়োজনে কয়েক একর জমিতে স্থাপনা করতে হয়। সেটিতেও সময় লাগে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্প ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ২০১৭ সালে। কিন্তু ঋণ চুক্তিতে দেরি হয়েছে। লোন এগ্রিমেন্টের (ঋণ চুক্তি) পর তা ইফেকটিভ (কার্যকর) না হলে তো কাজ শুরু করার কোনো সুযোগ নেই। লোন ইফেকটিভ হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর। তখন থেকেই কাজ শুরুর তারিখ ধরতে হবে।’

কাজ শেষ হওয়ার বিষয়ে শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সাব কন্ট্রাক্টর (ঠিকাদার) টিম আছে। আর ঠিকাদারের সঙ্গেও চুক্তি ৫ বছর ২ মাসের। আমরা চেষ্টা করব ওই সময়ের আগেই কাজ শেষ করার।’

এদিকে ঋণ চুক্তির জটিলতা নিরসনের পর প্রকল্পের মূল নকশা তৈরি করতে যৌথভাবে দুই কোম্পানিকে নিয়োগ দেয় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ডিজাইন রিভিউ ও সুপারভিশন কনসালটেন্টস হিসেবে নকশা রিভিউ এবং নির্মাণকাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ চুক্তি সই হয় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেনের টেকনিকা ওয়াই প্রয়োকটস ও দক্ষিণ কোরিয়ার ডিওএইচডব্লিউএ এবং বাংলাদেশের ডিডিসির মধ্যে।

জমি অধিগ্রহণ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘যদি আনুষ্ঠানিক হ্যান্ডওভারের কথা বলি, তাহলে আমরা ৬০ শতাংশ জমি পেয়ে গিয়েছি। আর অনানুষ্ঠানিক হ্যান্ডওভারের কথা বললে ৭০ শতাংশ পেয়ে গিয়েছি।’

কাজ দৃশ্যমান হওয়ার বাধা হিসেবে প্রকল্প এলাকায় থাকা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন লাইনের কথা উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আমাদের কিছু সমস্যাও আছে। আশুলিয়া থেকে বাইপাইল পর্যন্ত দুই দিকে বিদ্যুতের লাইন। এমনকি ন্যাশনাল গ্রিডের লাইনও আছে। গ্যাস ও টেলিফোনের লাইন রয়েছে। মাটির নিচে ও উপরে যেসব লাইন রয়েছে, সেগুলো সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে চিঠি দিয়েছি। কয়েকটি দপ্তরকে লাইন সরানো বাবদ টাকাও ৬১ কোটি পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যগুলো পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। তারা লাইনগুলো সরালে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে। আগামী দুই তিন মাসে কাজ দৃশ্যমান হবে।’ প্রকল্পের মূল নকশা তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নকশাটা ঠিকাদারেরই কাজের একটা অংশ। পুরো নকশা যদি একবারেও হয় তাহলেও তো একযোগে সব জায়গায় কাজ শুরু করতে পারব না। পুরো নকশার কাজ সম্পন্নের পথে।

প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ডলারের মূল্য বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন প্রকল্প পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে তাদের আগে যে চুক্তি হয়েছে সেটাই থাকবে। তাদের সঙ্গে তো আমাদের চুক্তি হয়েছে ডলারে। তাই ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বেড়ে গেছে। তবে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম কিস্তি টাকায় পরিশোধ করেছি। পরবর্তী পেমেন্টও টাকায় পরিশোধের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

(ঢাকা টাইমস/২৯মে/আরআর/আরকেএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ

বেড়ার মেয়র আসিফ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, দেশ ছাড়লেন কীভাবে? কৌতূহল সর্বত্র

শিক্ষকদের পেনশনের টেনসনে স্থবির উচ্চশিক্ষা

কেরাণীগঞ্জে দেড় কোটি টাকার নিষিদ্ধ ব্রাহমা গরুর সন্ধান

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চালুর উদ্যোগ কতটা গ্রহণযোগ্য? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সর্বজনীন পেনশনে অনীহা কেন, যা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকনেতারা

সাদিক অ্যাগ্রোর সবই ছিল চটক

ঢাকা মহানগর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি দিতে ধীরগতি যে কারণে

রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক: উপজেলা হাসপাতালগুলোতে নেই চিকিৎসা সক্ষমতা

মাগুরায় বাড়ি-জমি উত্তম কুমারের: কোথাও খোঁজ নেই তার, দুদকের অনুসন্ধান সম্পন্ন

কোথায় পালিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার, জানে না পুলিশ, স্থায়ী বরখাস্ত হলেই ডুমাইনে ভোট

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :