শিমে লাভবান চাষির মুখে হাসি

ফরিদপুর প্রতিবেদক
| আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৩ | প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৯

মাঠের পর মাঠজুড়ে শিমের মাচা, ছড়ায় ছড়ায় ঝুলছে শিম। শীতকালীন এ সবজিটির আবাদে এবার বেশ লাভবান হয়েছেন চাষিরা। কুয়াশাভেজা ভোরের আলো ফুটতেই তাই ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে খেতে নেমে পড়ছেন। কৃষক-কৃষানির এ ব্যস্ততা এখন চোখে পড়ছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলাজুড়ে।

ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় সবজিচাষিদের চোখে-মুখে তৃপ্তির হাসি। তারা শিমে আরও বেশি ঝুঁকছেন উল্লেখ করে এর আবাদ দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আশাবাদী কৃষি কর্মকর্তারাও।

এ অঞ্চলের সবজিচাষিরা শীতে সাধারণত শিমের চাষই করেন। এবার আগের তুলনায় আরও বেশি জমিতে আবাদ করেছিলেন তারা। জানান, চলতি মৌসুমে নতুন ‘বারি-৪’ ও ‘ইপসা-১’ জাতের শিমের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ খেত থেকেই শিম তোলার কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির উঠানে বা সড়কের পাশে সেগুলো স্তূপ করে রাখছেন চাষিরা। পরে বস্তায় ভরে ওজন দিয়ে মণ হিসাবে বাড়ি থেকেই বা স্থানীয় হাট-বাজারে নিয়ে পাইকারি ও খুচরা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সেগুলো কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছেন। 
উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৌলডুবী গ্রামের সবজিচাষি আব্দুল মালেক মোড়ল জানান, এ বছর তিনি নয় হাজার টাকা খরচ করে ৩৩ শতাংশ জমিতে শিমের চাষ করেছেন। বিক্রিও বেশ ভালো হওয়ায় ইতোমধ্যেই তার পুঁজি উঠে গেছে।
ইউনুছ খালাসী বলেন, ‘ভালোভাবে শিম খেতের পরিচর্যা করেছিলাম। যে টাকা খরচ হয়েছিল, তার বেশিই লাভ হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি চাষাবাদ করব।’

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষ্ণপুর, সদরপুর, চরবিষ্ণুপুর, চরনাছিরপুর, ভাষাণচর ও আকটেরচর- উপজেলার এ ছয়টি ইউনিয়নেই শীতের সবজি শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মণ শিম বিক্রি হচ্ছে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, শিম প্রোটিনসমৃদ্ধ সবজি। এর বিচিও সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। তাই দেশে এর চাহিদা ব্যাপক। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে, শিমচাষিরা বেশ লাভবান হবেন।
তিনি বলেন, এ বছর সদরপুর উপজেলার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শিমের আবাদই হয়েছে ৯০ হেক্টর জমিতে।
চাষিরা জানান, সদরপুরের এই শিমের ভালো চাহিদা রয়েছে ফরিদপুর শহর ও বোয়ালমারী উপজেলা, ঢাকার কারওয়ানবাজার, শ্যামবাজার, দোহার উপজেলার জয়পাড়া, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

ভাসানচর ইউনিয়নের কারিরহাট গ্রামের আলম বেপারি একজন সফল চাষি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সারাদিন শিমের মাচায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করায় এবার তার বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বীজও উৎপাদন করছেন।

আলম বেপারি জানান, গত বছর তিনি ছয় হাজার টাকা খরচে ২০ শতাংশ জমিতে শিমের চাষ করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চলতি মৌসুমে ১৮-২০ হাজার টাকা খরচে ৬৫ শতাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল শিমের চাষ করেন। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ রেখেছেন বীজ উৎপাদনের জন্য এবং বাকি ৩৫ শতাংশ জমির শিম সবজি হিসেবে গত এক মাস ধরে বাজারে বিক্রি করছেন।

চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কৃষক খবির উদ্দিন জানান, তিনি ৩০ শতাংশ জমিতে শীতকালীন শিমের চাষ করে বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন।

জোনায়েত আলীও প্রায় ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এবার পোকা-মাকড়ের উপদ্রব ও রোগবালাই অনেকাংশে কম। তাই ওষুধ ও সার খরচও কম। এ সময় শিমের বাজারদরও ভালো। প্রতি কেজির পাইকারি মূল্য পেয়েছি ১৫-২০ টাকা। প্রতি মণ ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’

চরনাছিরপুর ইউনিয়নের সবজিচাষি আব্দুর রাজ্জাক করিম বলেন, ‘শ্রাবণ মাসের প্রথম দিকে এই শিমের বীজ বপন করতে হয়। চারা বের হওয়ার ২৫ থেকে ৩০ দিনের মাথায় গাছে ফুল আসা শুরু হয়। দেড় মাস বয়সের গাছ থেকে শিম তোলা শুরু হয়। তিন থেকে চার দিন পর পর তুলে আমরা বিক্রি করি।

“আমরা অনেকেই এর আগে সবজি চাষ করে দাম না পেয়ে ঋণে জর্জরিত ছিলাম। এখন আমরা অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছি।”

শৌলডুবী গ্রামের কৃষক শুক্কুর আলী জানান, গত কয়েক মাস আগে অবিরাম বর্ষণে তাদের ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আর তাই এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিনি বেশি জমিতে শিমের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি খেত থেকেই প্রায় ৪০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। এ বছর আবহাওয়া ও পোকা মাকড়ের উপদ্রব না থাকায় চাষিরা ব্যাপক আনন্দে রয়েছেন।’

আকোটেরচর ইউনিয়নের সোবাহান মুন্সী জানান, তিনি এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। দামও পেয়েছেন ভালো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :