মাদক কারবারে জড়িত না হওয়ায় জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৯, ১৮:০৯
হাসপাতালে জান্নাতি আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

মাদক কারবারে জড়িত না হওয়ায় নরসিংদীর হাজিপুরে দশম শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নাটোর জেলার নারায়ণপুর পুকুরপাড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে নরসিংদী পুলিশ।

বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নিহত জান্নাতির শাশুড়ি শান্তি বেগম ওরফে ফেন্সী রানী, ছেলে সাব্বির আহামেদ শিপলু ওরফে শিবু, মেয়ে ফাল্গুনী বেগম ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া। সকলেই নরসিংদী চরহাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘পারিবারিক মাদক কারবারে সম্পৃক্ত না করায় জান্নাতুল ফেরদৌসী ওরফে জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা করে শ^শুর বাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় গত শনিবার ১৫ জুন নিহতের বাবা শরিফুল ইসলাম সদর মডেল থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।  এ ঘটনায় ওই রাতেই ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে, পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল নারায়গঞ্জের রুপগঞ্জ, টঙ্গী, চাপাইনবাবগঞ্জ অভিযান পরিচালনা করা হয়ে। সেখানে না পেয়ে নাটোর জেলায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে এজাহারভুক্ত চার আসামি মাদক কারবারি শাশুড়ি শান্তি বেগম ওরফে ফেন্সী রানীসহ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতের অনুমতি প্রেক্ষিতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ’

প্রসঙ্গত, প্রায় এক বছর আগে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে জান্নাতি আক্তার সাথে পাশের খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেম হয়। কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। স্ত্রী জান্নাতিকে পারিবারিক মাদক কারবারে সম্পৃক্ত করতে মাদক কারবারি শাশুড়ি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু তাকে চাপ দেন। এতে রাজি হননি জান্নাতি। ফলে জান্নাতির ওপর নেমে আসে কঠোর নির্যাতন। যৌতুকের টাকা না দেয়াসহ মাদক কারবারে জড়িত না হওয়ায় ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় জান্নাতির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি তারা। পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যু যন্ত্রণার পর  গত ৩০ মে  ঢামেকের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঢাকাটাইমস/১৯জুন/এলএ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :