ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা মূল্যায়ন নীতিমালা কার্যকর পেছাল

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৯, ২১:১০

ব্যাংকের ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা মূল্যায়নে ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং সিস্টেম (আইসিআরআর) নামে প্রদত্ত নীতিমালা কার্যকরের আগেই কিছু পরিমার্জন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে নীতিমালা কার্যকর হওয়ার সময় তিন মাস পেছানো হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ নীতিমালা কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে-ব্যাংকে ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অধিকতর কার্যকর ও সময়োপযোগী করার লক্ষে প্রদত্ত ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং সিস্টেম (আইসিআরআর) নীতিমালা পুনঃপর্যালোচনান্তে কিছু পরিমার্জন আনা হয়েছে। এছাড়া এটি কার্যকরের সময়সীমা ১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১ অক্টোবর করা হলো। ফলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০০৫ সালে ঋণ ঝুঁকি নিরসনে প্রণীত ক্রেডিট রিস্ক গাইডলাইন ম্যানুয়াল (সিআরজিএম) ও আইসিআরআর নীতিমালা একসঙ্গে অনুসরণ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। আর আগামী অক্টোবর থেকে কেবল আইসিআরআর অনুসরণ করতে হবে।

গত বছরের ৩০ অক্টোবর আইসিআরআর নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নীতিমালায় বলা হয়, মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রাহককে চার শ্রেণিতে বিভাজন করবে ব্যাংকগুলো। কোনো গ্রাহক ‘চমৎকার’ (এক্সিলেন্ট) বা ‘ভালো’ (গুড) রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে অর্থায়ন করতে পারবে। ‘প্রান্তিক’ (মার্জিনাল) রেটিংধারী গ্রাহককে পুরোনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তবে ‘অগ্রহণযোগ্য বা আনএকসেপ্টেবল)’ রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো, যদি না আগের ঋণ শতভাগ নগদ পরিশোধ হয় অথবা জামানত দিয়ে ঋণটি আচ্ছাদন করা হয়। তবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিংভুক্ত গ্রাহকের আগের ঋণ সর্বোচ্চ দুবার নবায়ন বা বর্ধিত করা যাবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, রেটিং করার ক্ষেত্রে একটি পার্টি বা গ্রাহকের পরিমাণগত সক্ষমতায় ৬০ শতাংশ নম্বর এবং গুণগত সক্ষমতায় ৪০ শতাংশ নম্বর থাকবে। পরিমাণগত সক্ষমতা সূচকে ৬০ নম্বরের মধ্যে মোট গৃহীত ঋণ ও আর্থিক সক্ষমতায় ১০, চলতি দায় ও তরল সম্পদে ১০, মুনাফার সক্ষমতায় ১০, সুদ পরিশোধের সক্ষমতা ও নগদ প্রবাহের ওপর ১৫, পরিচালনগত দক্ষতায় ১০ এবং ব্যবসার মানের ওপর পাঁচ নম্বর থাকবে। এছাড়া গুণগত সক্ষমতায় ৪০ নম্বরের মধ্যে কার্যদক্ষতার আচরণে (পারফরম্যান্স বিহ্যাবিয়র) ১০, ব্যবসা ও খাত ঝুঁকিতে ৭, ব্যবস্থাপনা ঝুঁকিতে ৭, জামানত ঝুঁকিতে ১১, সম্পর্ক ঝুঁকিতে ৩, পরিপালন ঝুঁকিতে ২ নম্বর থাকবে। এই রেটিংয়ে কোনো গ্র্রাহক ৮০’র বেশি নম্বর পেলে তাকে ‘চমৎকার’, ৭০-এর বেশি এবং ৮০’র কম নম্বর পেলে ‘ভালো’, ৫৫-এর বেশি এবং ৭০-এর কম পেলে ‘প্রান্তিক’ এবং ৫৫-এর নিচে নম্বর পেলে ‘অগ্র্রহণযোগ্য’ রেটিং দেওয়া হবে। তবে কোনো গ্রাহক গুণগত রেটিংয়ে যত নম্বরই পাক না কেন, পরিমাণগত রেটিংয়ে ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিং দেওয়া হবে। তবে ভোক্তাঋণ, ৫০ লাখ টাকার কম ঋণ আছে এমন ক্ষুদ্রশিল্প প্রতিষ্ঠান, স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ, ক্ষুদ্রঋণ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানিকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ রেটিং অনুসরণ করতে হবে না।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/আরএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :