নয় ম্যাচ খেলে সেমি এক ম্যাচে নির্ধারণ ফাইনালিস্ট, প্রশ্নবিদ্ধ আইসিসি

মিনহাজ ইসলাম
| আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৬:২৬ | প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২১:১৩

প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে রোববার মাঠে নামবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। কাগজে কলমে বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই টপ ফেভারিট ইংল্যান্ড। সেখানে নিউজিল্যান্ডের সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের মতোই। আর এখন সেই কিউই বাহিনী টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে। 

অথচ রাউন্ড রবিন লীগের নয় ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকায় সবার উপরে থেকে সেমিফাইনালে উঠেছিল ভারত, দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। এতো কাঠখড় পুড়িয়ে শেষচারের সেরা দুটি দল হয়েও সেমি’র নকআউট ম্যাচটি হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে তারা। আর এখন তাই ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন রাউন্ড রবিন লীগ তথা বিশ্বকাপ ফরম্যাটকে ঘিরে। 

আইসিসি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরে প্রতিবারই নিত্যনতুন ফরম্যাট নিয়ে হাজির হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। রাউন্ড রবিন লীগে প্রত্যেক দলকে খেলতে হয়েছে অন্য সবকয়টি দলের সাথে। মোটমাট নয়টি ম্যাচ। যেখানে দেখা যায় টপ ফোরে জায়গা করে নেওয়াটাই হয়ে গেছে মুখ্য। সেরা হওয়ার জন্য বাড়তি কোনো পুরষ্কার নেই। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর তাই ক্ষুব্ধ ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকরা। বাদ নেই ক্রিকেটাররাও। ভারতীয় দলের অধিনায়ক ভিরাট কোহলি নিউজিল্যান্ডের সাথে ম্যাচ হারার পর পরই তাই প্রশ্ন তুলেছেন এবারের ইভেন্টের ফরম্যাট নিয়ে। বলেছেন আদৌ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার কোনো মূল্য আছে কি না তিনি বুঝতে পারছেন না। আইসিসির কাছে টুর্নামেন্টটির ফরম্যাট পরিবর্তনের জন্য অনুরোধও করেছেন তিনি। সেইসাথে মাত্র ৪৫ মিনিটের খারাপ পারফর্মেন্সের জন্য তার দল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে বলে দাবি করেছেন কোহলি। 

ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন এবং আইসিসির সবচেয়ে বড় অর্থ যোগানদাতা দেশটি তাদের ফ্রাঞ্চাইজি টি-২০ লীগ আইপিএলের অনুকরণে বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে। যেখানে ডাবল রাউন্ড রবিন লীগ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল সুযোগ পায় প্লেঅফ খেলে ফাইনালে ওঠার। তারা মুখোমুখি হয় প্রথম কোয়ালিফায়িং ম্যাচে। যেখানে জিতলে পাওয়া যায় ফাইনালের টিকিট, হারলেও সুযোগ থাকে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইং ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠার। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা দল দুটি অংশ নেয় এলিমিনেটর ম্যাচে। এখানে তৃতীয় ও চতুর্থ নম্বর দলের মধ্যে যে হারবে তার বিদায় সুনিশ্চিত আর জিতলে প্রথম কোয়ালিফাইং ম্যাচে হেরে আসা দলের বিপক্ষে সুযোগ হয় দ্বিতীয় কোয়ালিফাইং ম্যাচ খেলার। দ্বিতীয় কোয়ালিফাইং ম্যাচে জেতা দলটি প্রথম কোয়ালিফাইং ম্যাচে জেতা দলটির সাথে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে অংশ নেয় ফাইনাল ম্যাচে। 

সে হিসেবে এই ফরম্যাটে সেমিফাইনালের গতানুগতিক দুই ম্যাচের পরিবর্তে প্লেঅফ, কোয়ালিফাইং নামে অনুষ্ঠিত হয় তিনটি ম্যাচ। আর ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা অন্যান্য জনপ্রিয় খেলা গুলোর থেকে কম হওয়ায় আইসিসিকে বেশ বিপাকে পড়তে হয় যে কোনো বৈশ্বিক ক্রিকেটীয় টুর্নামেন্টের ফরম্যাট তৈরিতে। নির্ভর করতে হয় তিন মোড়লের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর, বিশেষত ভারতের। কিন্তু যখন ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন জনবহুল দেশটিই ক্রিকেট সম্পর্কিত একটি বিষয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সেখানে খোদ আইসিসিও হয়তো আগামী আসরগুলোর ফরম্যাট পরিবর্তনে সময় নেবে না।

(ঢাকাটাইমস/১৩জুলাই/এমআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :