আমাদের বন্ধু দোলন, সকলের বন্ধু দোলন

সৈয়দ নাঈম আলী
| আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২০:১৮ | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:২৮

আরিফুর রহমান দোলনকে চিনি ১৯৮৬ সাল থেকে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সহপাঠী। ছাত্রাবস্থায়ই লেখাপড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় মূল্যবোধ, গুরুজনকে ভক্তি আর কনিষ্ঠকে স্নেহ করার যে নিষ্ঠা আর আন্তরিকতা দেখেছি তার মধ্যে সত্যিই তা অতুলনীয়। মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে যেমন সকলের দৃষ্টি কাড়তেন তেমনি সহপাঠী, জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠদের নানা সমস্যার সমাধানের চেষ্টার মাধ্যমে খুব সহজেই তার মধ্যে সহজাত নেতৃত্বের গুণাবলী ফুটে উঠত। ওই সময়ে পবিত্র শব-ই-বরাতে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অবস্থাসম্পন্নদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে হালুয়া-রুটি সংগ্রহ করে গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এক অনন্য সাধারণ মানবিক গুণাবলীর পরিচয় দেন দোলন। আলফাডাঙ্গা এজেড পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী দোলন এভাবে নিজ গুণেই ওই সময় স্থানীয় সব মহলের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।

মা-বাবার একমাত্র সন্তান দোলনের পূর্বপুরুষের সমাজসেবার ইতিহাস আমাদের শিক্ষার্থী জীবনে এবং আমাদের বাবা-চাচাদের যুগেও ছিল সকলের মুখে মুখে। তার প্রপিতামহ কাঞ্চন মুন্সীর সমাজ উন্নয়নে অবদানের কথা এখনো কিংবদন্তি। আলফাডাঙ্গা উপজেলার সর্বপ্রথম মাধ্যমিক স্কুল, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমি প্রতিষ্ঠা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈদগাহ, গোরস্তান প্রতিষ্ঠা, শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ অসহায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়াসহ তৃণমূল স্তরের মানুষে জন্যে আমৃত্যু কাঞ্চন মুন্সী ও তার সন্তানেরা যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তা আজও এলাকার মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। স্কুলে একসঙ্গে পড়ার কারণেই লক্ষ্য করেছি আরিফুর রহমান দোলন আর দশজন শিক্ষার্থীর মতো স্রেফ নিজেকে নিয়ে চিন্তা করেন না। বরং পারিবারিক সমাজসেবার ইতিহাসকে বৃহত্তর পরিসরে কীভাবে আরও ছড়িয়ে দেওয়া যায় এ নিয়ে তার মধ্যে ওই সময়েই নানা ভাবনা পেয়ে বসে। যা কি না বিচ্ছিন্নভাবে আমাদের বন্ধু মহলেও আলোচনা করতো দোলন।

কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করার পর আরিফুর রহমান দোলন উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন দেশসেরা ঢাকা কলেজে। আমাদের আরেক মেধাবী বন্ধু আব্দুস সামাদ আজাদ ভর্তি হয় নটরডেম কলেজে। আমি এবং আমার মতো অনেকেই বোয়ালমারী সরকারি কলেজ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুরে ভর্তি হয়। নটরডেম কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েও দোলন সেখানে ভর্তি হয়নি। কারণটা পরে জেনেছি। ঢাকা কলেজে মুক্তবুদ্ধির চর্চা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায়নি আরিফুর রহমান দোলন। মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াকালীনই দেখেছি ওই রাত-বিরাতে ছাত্রলীগের হয়ে বিভিন্ন দেওয়ালে দেওয়ালে চিকা লিখতে বেরিয়ে যেতো আমাদের এই বন্ধুটি। স্বভাবে ধীর-স্থির কিন্তু একবার যা ভাবে তা করে ছাড়ার দুরন্ত মানসিকতা সব সময়েই তার জাত চেনাতো। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া দোলন হয়ে যান মুজিবাদর্শের সৈনিক, ছাত্রলীগের সক্রিয় একজন কর্মী এবং কিছুদিনের মধ্যেই থানা ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। সেই দোলন যে উচ্চ মাধ্যমিকে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের আরও সক্রিয় কর্মী হয়ে উঠবে আমরা তার ভর্তির পরই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম।

ঢাকা কলেজে উত্তর ছাত্রাবাসে একবার দেখা করতে গিয়েছিলাম দোলনের সঙ্গে। সবেমাত্র বিকেল গড়িয়েছে, ঢাকা কলেজ উত্তর ছাত্রাবাসের ২১৬ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র দোলনকে নিজ কক্ষে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলাম। ঢাকা কলেজের মূল বিল্ডিংয়ের বাইরের দেওয়ালে আবছা আলোয় দেখি একজন ছেলে দাঁড়িয়ে কী যেন আঁকিবুকি করছে। এগিয়ে যাই। পরিষ্কার আলোয় দেখতে পাই আমাদের আরিফুর রহমান দোলনকে ছাত্রলীগের পক্ষে দেওয়ালে চিকা লিখছে। দেওয়াল লেখা শেষ করে ঢাকা কলেজের মূল গেটে চায়ের দোকানে বসি আমরা। জানতে পারি দোলন পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিতই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ঢাকা কলেজের উত্তর ছাত্রাবাস, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সে। ওই সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী চিনুর সঙ্গে তার নিত্যকার ওঠাবসার সম্পর্ক আমরা দিনে দিনে আরও জানতে থাকলাম।

গোপালগঞ্জের প্রবীণ ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ কামরুল ইসলাম রইসের ছেলে শেখ মোহাম্মদ শামীম তখন দোলনের ছায়া সঙ্গী। ঢাকা কলেজে দোলনের সহপাঠী শেখ শামীমকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগের দুর্দিনে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো তখন দোলনের নিত্যকার কাজ। ১৯৯১ সালের ১৫ আগস্টের আগের রাতে ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের গুণ্ডাবাহিনীর তাণ্ডবে যখন দিশেহারা অবস্থা তখন যে কয়েকজন হাতে গোনা ছাত্রলীগ কর্মী নতুন করে জেগে ওঠার প্রত্যয়ে নিত্যদিন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে সকাল-সন্ধ্যা অবস্থার করে সবার সঙ্গে যোগাযোগটা ধরে রাখতো দোলন তাদের অন্যতম। ১৯৯১-৯২ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেলে একমাত্র নির্বাচিত নাট্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের কাছে এ কথা একাধিকবার শুনেছি।

এভাবে ছাত্র রাজনীতিতে এমন সক্রিয হয়ে ওঠায় দোলনের শিক্ষাজীবন নিয়ে আমরা স্কুল সহপাঠীরা খানিকটা শঙ্কিতই হয়ে উঠি। কারণ ওই সময়ে ছাত্রদলের ক্যাডারদের  অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ঢাকা কলেজে প্রায়শই সংঘর্ষের খবর পত্র-পত্রিকায়ও শিরোনাম হয়ে উঠেছিল। মা-বাবার একমাত্র সন্তান দোলনকে নিয়ে অভিভাবকেরাও খুব স্বাভাবিকভাবে চিন্তিত থাকতেন। কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর স্নাতক পর্যায়ে সন্তান যেন রাজনীতিতে অধিক আকৃষ্ট না হয় সেজন্য আরিফুর রহমান দোলনকে কলকাতায় ভর্তি করেন বাবা-মা। কিন্তু ঢেঁকি যে স্বর্গে গেলেও ধান ভানে! কলকাতায় গিয়েও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্প্রীতি স্থাপন ও পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন আরিফুর রহমান দোলন। গড়ে তোলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পরিষদ, এর সভাপতি হন তিনি। ওই সময়ে ছাত্রলীগ প্রবাসী পশ্চিমবঙ্গ শাখা গঠিত হয় এবং নেতৃত্বের প্রথম সারিতে যারা আসেন তাদের মধ্যে আমাদের এই বন্ধুটি অন্যতম। আবৃত্তিকার শাহাদাত হোসেন নিপু সভাপতি, দেবাশীষ হালদার সাধারণ সম্পাদক ও আরিফুর রহমান দোলনকে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

কলকাতায় থাকা অবস্থায় পড়াশোনা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমানতালে সাংবাদিকতায়ও যুক্ত হয় দোলন। মাঝেমধ্যেই আমরা লক্ষ্য করতে শুরু করি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা, জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে স্বনামে দোলনের করা অনেক প্রতিবেদন, রাজনীতি, খ্যাতিমান খেলোয়াড়, শিল্পী, অর্থনীতিবিদদের সাক্ষাৎকার বের হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে সমান তালে সময় দিয়ে সমানে পারফর্ম করার প্রাণান্ত চেষ্টাটা তার আগাগোড়াই ছিল, দিনে দিনে যে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে বন্ধুরা আমরা তা বুঝতে পারছিলাম। পড়াশোনা শেষ করে দোলনের যেসব স্কুল বন্ধু সরকারি-বেসরকারি চাকরির পথে পা বাড়ালাম সেই পথে সে আগালো না। আমাদের বন্ধুদের কেউ কেউ একটু অবাক, বিস্মিতও হলো। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, মেধাবী বরাবর, তারপরেও এমন সিদ্ধান্ত কেন? ওই সময়ে এই প্রশ্নটি একবার রেখেছিলাম। স্থিরভাবে উত্তর দিয়েছিলেন- মানুষের জন্য কিছু করতে চাই, স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই। পুরোদস্তুর সাংবাদিকতার পেশায় মনোনিবেশ করলো সে। ২০০০ সাল থেকে প্রথম আলোর পাতায় তাঁর দুর্দান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যখন একের পর এক বের হচ্ছে আর সব মহলে সাড়া ফেলছে আমাদের বুঝতে বাকি রইলো না, দোলন কতখানি ডেডিকেটেড পেশার প্রতি। সারাদেশ ঘুরে একের পর এক যেভাবে গডফাদার, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসীদের মুখোশ সে উন্মোচন করতে থাকলো তখন চারিদিকে তার পরিচিতি নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

এই অবস্থাতেই নাড়ির টানে সুযোগ পেলেই গ্রামে ছুটে যান দোলন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে সক্রিয় হতে থাকেন নিয়মিত। স্কুল, কলেজ পরিচালনাই শুধু নন, অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা, অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না এমন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, রাজধানী ঢাকা, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে রোগী ভর্তি করানো তার রুটিন কাজে পরিণত হয়। আর অনেক বেকার শিক্ষার্থীর চাকরি জোগাড় করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ভূমিকা রাখতে শুরু করে দোলন। দিন যত গড়ায় সমাজ উন্নয়নে দোলনের কাজের বিস্তার ততই বাড়তে থাকে। জনপ্রতিনিধি না হয়েও কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে মসজিদ, মন্দিরে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ক্ষেত্রে দিনে দিনে দোলন হয়ে ওঠেন নির্ভরযোগ্য নাম। বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ স্মৃতি পাঠাগারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা, বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে সব জায়গায় যোগাযোগ করার কাজটা নিষ্ঠার সাথে করতে কখনো কার্পণ্য করতে দেখিনি তাকে।

এভাবে সমাজসেবা বিস্তৃত পরিসরে করতে গড়ে তোলেন বেসরকারি সংস্থা কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন। সংবাদকর্মীর পাশাপাশি সমাজসেবার কাজকে এগিয়ে নিতে ১৯৯৯ সালেই ব্যবসা-বাণিজ্যেও যুক্ত হয়েছিলেন আমাদের সদা কর্মঠ এই বন্ধু। যা দিনে দিনে একটু একটু করে শক্তপোক্ত হয়। বিজ্ঞাপনী সংস্থা, প্রকাশনা সংস্থা, সরকারি-বেসরকারি সরবরাহ বা সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের ঠিকাদারি ব্যবসার পাশাপাশি ট্রাভেল, এজেন্সি এবং মিডিয়া ব্যবসায় নামার ঝুঁকি বোধহয় দোলনের মতো লড়াকু মনোভাবাপন্ন মানুষের পক্ষেই দেওয়া সম্ভব। প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন কিংবা আমাদের সময়ে দায়িত্বপূর্ণ পদে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তার যে অদম্য মানসিকতা বিভিন্ন সময় আমরা কাছে বা দূরে থেকে দেখেছি সত্যিই তা অনুপ্রেরণা জোগায়।

২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার কামারগ্রামে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন আরিফুর রহমান দোলন। মৃত্যু অবধারিত থাকলেও দৈবক্রমে বেঁচে যান। তার সুস্থতা কামনায় কামারগ্রাম, কাঞ্চন একাডেমি মাঠে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। সেখানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি এবং দাবির প্রেক্ষিতে অসুস্থ দোলন পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নাম লেখান। তার একক দৌড়ঝাঁপে কামারগ্রামে সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এখন মাথা উঁচু বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মানসিকতার জানান দিচ্ছে। শত শত বেকার ছেলেমেয়েকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে দোলন জানান দিয়েছেন রাজনীতির মাঠে থাকা মানে শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বেড়ানো নয়। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুর রহমান দোলন শিশুদের মানসম্পন্ন লেখাপড়ার জন্য গড়ে তোলেছেন বেগম সাহানারা একাডেমি। সেখানে বিনামূল্যে শিশুদের লেখাপড়া করানো হয়।

আলফাডাঙ্গা-বোলামারী-মধুখালী উপজেলার সহস্রাধিক চক্ষুরোগীর বিনামূল্যে অপারেশন ও চশমা দিয়ে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে আরিফুর রহমান দোলন প্রতিষ্ঠিত কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশন। রাজনীতিকে সমাজসেবার বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে তৃণমূল স্তরে মানুষের জন্য কাজ করছেন দোলন। হয়ে ওঠেছেন সুবিধাবঞ্চতি মানুষের একান্ত আপনজন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের তথ্য প্রতিনিয়ত তৃণমূল স্তরের মানুষের কাছে নানাভাবে পৌঁছে দিচ্ছেন। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। কিন্তু দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন প্রাণপণ। তার সঙ্গে থেকে দেখেছি, জেনেছি, স্রেফ সংসদ সদস্য হওয়াটাই তার কাছে মুখ্য নয়। তিনি চান মানুষের জন্য কাজ করতে।

সাদামন নিয়ে চলেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেন। তবুও রাজনীতির মারপ্যাচে কিছু স্বার্থান্বেষী ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি প্রতিনিয়ত কুৎসা রটনায় ব্যস্ত। অকারণে কটু, মিথ্যা-বানোয়াট প্রচারণায় পিছপা নন তারা। ঈর্ষাপরায়ণ এই স্বার্থান্বেষীর সমালোচনা, কূটচালকে উপেক্ষা করেই এগিয়ে যাবেন দোলন। সব সময় এই কামনা।

লেখক: রাজনৈতিক কর্মী 

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :