তাবিথের মাথায় ঢাকার ১২ ইস্যু

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৫৮ | প্রকাশিত : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:১৩

তাবিথ আউয়াল ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। পারিবারিকভাবেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য। তবে তার ব্যস্ততা ছিল ব্যবসা আর ক্রীড়া সংগঠন নিয়ে। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্র্বাচনে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তরে দল থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন পান। তবে ভোটের দিন কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। আসন্ন সিটি নির্বাচনেও তিনি উত্তরে বিএনপির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আগেরবার সরে গেলেও এবার তিনি ভোটের শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়বেন। জানিয়েছেন ঢাকাবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১২টি ইস্যু তিনি চিহ্নিত করেছেন। ভোটে জয়ী হলে এই ইস্যুগুলোর বাস্তবায়ন করে ঢাকাকে পাল্টে দেবেন। আর এই ইস্যুগুলো তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরবেন। ভোটে ইভিএমের ব্যবহার, এজেন্ট ঠিক করা, ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন সাক্ষাতকারে।

প্রশ্ন: নির্বাচনী পরিবেশ কেমন দেখছেন?

তাবিথ: এখনও তো আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা শুরু হয়নি। শুরু হলে বুঝতে পারবো। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখছি। সামনে কেমন হবে সেটা এখনো বলা যাচ্ছে না।

প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশন প্রার্থী নেতাকর্মীদের হয়রানি না করতে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়ার কথা বলেছেপ্রতিফলন দেখছেন?

তাবিথ: আমাদের অভিযোগের পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যেহেতু প্রকাশ্যে একথা বলেছেন সেজন্য আমরা অবশ্যই খুশি এবং আশার আলো দেখছি। তবে এখনো প্রতিফলনও দেখছি না, আবার খারাপ খবরও খুব বেশি পাচ্ছি না। দেখি কি হয়। সময় তো অনেক বাকি আছে। আমরা দেখবো ঢাকার পুলিশ কি ইসি না সরকারের অধীনে আছে।

প্রশ্ন: সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেনশেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন তো?

তাবিথ: ইলেকশন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার বলছি পুরো প্রক্রিয়ায় থাকবো। ইলেকশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরে যাওয়ার মতো কোনো ইচ্ছা বা মন মানসিকতা এবং অবস্থান আমাদের নেই। আমরা ভোটের অধিকার রক্ষা করার জন্য ইলেকশনে যাচ্ছি। এবার আমরা জেনেশুনেই যাচ্ছি যে ভোট চুরি হবে। আমরা জেনেশুনেই যাচ্ছি যে আমাদের ওপর নানা রকমের হামলা হবে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাদের মামলা হবে, বা আরও বেড়ে যাবে। সবকিছু জেনেশুনে আমরা মানসিকভাবে আমাদের কর্মীদের তৈরি করছি। নির্বাচনে সামনে পরিস্থিতির অবনতি হবে এগুলো ওভারকাম করার জন্য আমরা যেন সবাই প্রস্তুত থাকি। গত নির্বাচনে সরে যাওয়াটা অন্য বিষয় ছিলো। এবার মাঠ ছাড়বো না।

প্রশ্ন: নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা নেই বলছেনতাহলে তাদের অধীনে ভোটে কেন আপনারা?

তাবিথ: বিগত দিনে নির্বাচন কমিশন এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের সব অভিযোগ তারা আমলে নিচ্ছে না, এটা ঠিক না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো ওনারা আমাদের অভিযোগ আমলে নেওয়ার পরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশন বারবার চাচ্ছে আমরা ওনাদের ওপর আস্থা রাখি। এটা হাস্যকর একটা ব্যাপার। কারণ দেশের সব জনগণ এবং অনেক সুশীল সমাজ এটা একযোগে বলছে যে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর কারও কোনো আস্থা নেই। ওনাদের নিজেদের কথাতেই নিজেরা বিতর্কের সৃষ্টি করলেন। তারপরও কীভাবে আস্থা রাখবো। 

প্রশ্ন: আপনারা ইভিএমে ভোট বাতিল চেয়েছেনসিইসি বলেছেন ইভিএম থেকে সরে আসার সুযোগ নেই- অবস্থায় আপনারা কি করবেন?

তাবিথ: ইভিএম নিয়ে আমাদের তিন-চারটা ইস্যুতে কমিশন কোনো মন্তব্য করেননি। আমি মনে করি, ওনারা করতে পারেননি। প্রথমটা ছিল সফটওয়্যারের ব্যাপারে। আমরা যখন প্রশ্ন করেছি পৃথিবীতে টাইম বেজ সফটওয়্যার খুব একটা সোজা জিনিস। মানে একটা টাইম এলে ভোটার তালিকা যাই আসুক, সফটওয়্যারটা বদল হয়ে যাবে।

সেখানে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা লুটের উদাহরণ দিয়েছি। টাইমিং সফটওয়্যারটা সিম্পল একটা প্রযুক্তি। ইভিএম মেশিনগুলোতে এই প্রযুক্তিতে যে সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে না এ নিশ্চয়তা আমরা কীভাবে পাব। এ ব্যাপারে আমরা কোনো জবাব ওনাদের কাছ থেকে পাইনি।

নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। ব্যাটারি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, মেশিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ম্যাগনেটিভ চিফ অফিসাররা বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। এসব নানা রকম উদাহরণ অতীতে ছিল। এগুলো আমরা বানিয়ে বলছি না। একটি অভিযোগের বিষয়েও কমিশন পরিষ্কারভাবে বলছে না যে, সমস্যা কিছু ছিল। ইভিএম নিয়ে শেষ পর্যন্ত কি হবে জানি না, তবে আমরা এখনও আশাবাদী যে একটা মিউচ্যুয়াল কনসেপ্টে আমরা আসব। কিছু একটা পজিটিভ চেঞ্জ আমি এখনও আশা করছি। ইলেকশন ৩০ জানুয়ারি। এখনও সময় আছে, আরও ২/১ একবার সংলাপের।

প্রশ্ন: আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন যাবেন কি না?

তাবিথ: আতিকুল ইসলাম আমাকে কখনো বলেননি। আমার সঙ্গে তার কথাও হয়নি। আপনাদের কাছ থেকে আমন্ত্রণের কথা শুনছি। তাই এ নিয়ে কিছু বলার নেই।

প্রশ্ন: মেয়র হলে অগ্রাধিকার থাকবে কোন কোন বিষয়গুলো?

তাবিথ: দল থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে হয়তো আলাদা ইশতেহার দেয়া হবে। সেখানে প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো বিস্তারিত থাকবে। তবে সবথেকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে দুষণ- মশা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এসব মুক্ত করে একটি সুন্দর শহর উপহার দেয়া হবে। সেজন্য প্রথম দিন থেকেই কাজ করবো। আমরা ইতিমধ্যে ১২টি ইস্যু চিহ্নিত করেছি। এসব নিয়ে কাজ করে সমাধান করা সম্ভব হলে নগরবাসী স্বস্তি পাবেন আশা করি। সেখানে নারীদের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো থাকবে।

প্রশ্ন: নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট নিয়ে কী ভাবছেন?

তাবিথ: আমরা দেখেছি তালিকা আগে প্রকাশ করায় নির্বাচনের আগের রাতে তাদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়। তাই এবার আমরা তালিকা যাতে আগেভাগে প্রকাশ না করা যায় সেটা ভাবছি। তারপরও আমরা দেখতে চাই ভোটের দিন সবার এজেন্ট থাকবে তাদের নিরাপত্তাও ইসি নিশ্চিত করবে।

প্রশ্ন: জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

তাবিথ: কেউ হারের জন্য নির্বাচনী মাঠে নামে না। আমরা বিশ্বাস করি জনগণ তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে দিতে পারলে জয়ী হবো ইনশাল্লাহ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :