‘বিয়ে পর্যন্ত আমি একা’

মাহমুদ উল্লাহ
 | প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:২৬

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ আশনা হাবিব ভাবনা। নাটক, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন। তবে আপাদমস্তক একজন শিল্পী। বেড়ে উঠা শিল্পমনা পরিবারেই। বাবা নাট্যকার, মা আবৃত্তিশিল্পী। টিভির চেয়ে এখন ‘ভয়ংকর সুন্দর’ চলচ্চিত্র নিয়ে বেশি ভাবছেন ভাবনা। কারণ অনিমেষ আইচের এই ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন এই নায়িকা। তার হালের কাজ নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডকমের সঙ্গে। ভাবনার সঙ্গে আলাপ করেছেন মাহমুদ উল্লাহ।

এখন কী কাজ করছেন?

এখন ‘ভয়ংকর সুন্দর’ নিয়েই আমার সব ব্যস্ততা। আসলে আমি যে টিমেই কাজ করি না কেন, সেই টিমের একজন মেম্বার হয়ে যাই। সেখানকার ক্যামেরাম্যান, লাইটম্যানসহ সবার সঙ্গেই মিলিত হয়ে টিমের হয়ে কাজটি এগিয়ে নেই। এতে সেই টিমের সঙ্গে কাজটি করা আমার জন্য সহজ হয়ে যায়। সেই টিমের প্রতিটি মিটিংয়ে আমি থাকি। তাদের হয়ে একটি পরিবারের মতো হয়ে কাজ করি। দূরত্ব থাকলে অনেক নির্মাতাই হয়তো অনেক কাজের কথা এড়িয়ে যায়। কিন্তু একটি কাজের জন্য একই টিমের মতো হয়ে গেলে তখন কাজটি খুব ভালো ভাবে করা যায়। যাদেরকে আমি বন্ধু বা কাছের মানুষ মনে করতে পারি না, তাদের সঙ্গে আমি কিন্তু কাজও করি না। এই ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ছবিতেও আমি শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী নই, এদের একজন টিম মেম্বার। এর সব মিটিংয়ে আমি থাকতে চাই, তাই থাকছি। এটা কিভাবে রিলিজ দিবে তা দেখছি। এসব কারণে আমি অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। রিলিজের আগে আমি অন্য কোনো কিছু নিয়ে ব্যস্ত নাই।

আপনি তুলনামূলক অনেক পড়ে চলচ্চিত্রে এসেছেন। এর কারণ কী?

আমি আসলে শুধুমাত্র একটি ছবির নায়কের সাপোর্ট কোন নায়িকা ক্যারেক্টার করতে চাই না। যেখানে নায়িকা শিফনের শাড়ি পরে পাঁচটা গানের সঙ্গে নাচবে, তার আর কোনো রোল নেই। তাই আমার ক্যারিয়ারের প্রথম থেকেই কোন ছবিতে অভিনয় করিনি। আমি এমন কোন চরিত্র চাই, যেখানে আমার চরিত্রটি শক্তিশালী হবে। ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ছবিতে তেমন নায়িকা-প্রধান চরিত্র পেয়েছি বলেই করেছি। এটি আসলেই একটি নায়িকা-প্রধান সিনেমা। এটা কোনো নায়কের স্টোরি না। আমার চরিত্রটির নাম নয়নতারা। এটা নয়নতারার-ই জার্নির গল্প।

ছোটপর্দার নাটকে কী আপনাকে আমরা আর পাবো না?

কেন নয়? আমি একজন অভিনেত্রী, আমার অভিনয় করার ক্ষুধা আছে। আমি যে ধরনের চরিত্রে কাজ করতে চাই, সেরকম সিনেমা কয়টা হয়, খুব বেশি না। আর অনিমেষ পরে ছবিতে আমাকে নিবে এটাও আমি বলতে পারি না তাকে, তাই না? আর এই ধরনের ছবিও যারা বানাবে তারাও যে আমাকে নেবে তা-ও বলতে পারি না। এ কারণে নাটক করতেই হবে। এছাড়া নাটকই আমার আসল জায়গা। তবে আমি যে ধরনের নাটক করি তা-ও খুব বেশি হয় না। আমি রিয়েলিস্টিক স্টোরিতে কাজ করি। একদম ভুয়া, আজাইরা স্টোরিতে কাজ করি না। স্পেশাল অকেশন বেজড কাজগুলো করে যেতে চাই।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।

আমি ভবিষ্যত নিয়ে ভাবি না, বড় জোর কালকের দিনটা নিয়ে প্ল্যান করতে পারি। তার বেশি না। তবে ভালো থাকতে চাই, ভালো কাজ করে যেতে চাই।

‘ভয়ংকর সুন্দর’ নিয়ে আরো কিছু বলুন।

আমরা মনোযোগ দিয়ে সিনেমাটা করেছি। আমারা কেউ বিজনেস ওরিয়েন্টেড মানুষ না। আমরা আর্টিস্ট মানুষ। অনিমেষ গল্পের মানুষ। বিজ্ঞাপন, বিজনেস কোনটাই আমরা কেউ বুঝি না। কাজ করে যেতে চাই। তবে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমাদের সিনেমাটা নিয়ে লিখুন। দুই বছর ধরে ছবিটি বানিয়েছি। অনেক কষ্ট হয়েছে। তাই সবাইকে বলবো কোন নেগেটিভ রিভিউ করবেন না। সাংবাদিকরাই পারে কোনো ছবিকে ভালো প্রচারণা দিতে। আমি একটি টিমের মধ্যে রয়েছি, তাই সিনেমাটি নিয়ে এখন বলতে পারছি। শুধুমাত্র নায়িকা হলে বলতে পারতাম না। আমি সবাইকে বলবো, আমার কো-আর্টিস্টরা, সাংবাদিকরা সবাই ‘ভয়ংকর সুন্দর’ নিয়ে ফেসবুকে লিখুন।

ছবিটি নিয়ে আপনারা কতটুকু আশাবাদী?

এটা আমার প্রথম ছবি। অবশ্যই অনেক আশাবাদী। নয়নতারা চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা দর্শক বলবে। সবাই দেখলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।

আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জানতে চাই। প্রেম-বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন?

একজনে বাদে আমার অন্য কোনো ফ্রেন্ড বিয়ে করেনি। আর বিয়ে নিয়ে আমি কনসার্ন না। আমার মাথায় এসব নিয়ে কোনো টেনশনও নাই। তবে ডেফিনেটলি- আই এম ইন লাভ। সেটা আমার কাজের মেয়ের সঙ্গে হতে পারে, আমার মেকআপ আর্টিস্টের সঙ্গে হতে পারে। কোনো ছেলের সঙ্গে হতে পারে। আমি মনে করি, প্রতিটি মানুষের জীবনে লাভ থাকতে হবে। নইলে তার সব নষ্ট হয়ে যাবে। কাজ নষ্ট হয়ে যাবে। প্রেম-ভালোবাসা ছাড়া কেউ সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে না। আমি প্রতিনিয়ত প্রেম করি। প্রেমেই থাকতে চাই।

নির্মাতা অনিমেষ আইচের সঙ্গে আপনার প্রেমের গুঞ্জণ শোনা যায়, এর সত্যতা কতটুকু আছে?

আপনার প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর রয়েছে, ‘গুঞ্জন’। যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে এটা অবশ্যই প্রকাশ হবে। তবে আমার বিয়ে পর্যন্ত আমি একাই আছি। এখনকার সাংবাদিকতা একটু ভিন্নরকম হয়ে যাচ্ছে। অনেকে ফেসবুক থেকে ছবি নিয়ে নিউজ করে ফেলে, করুক তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে যে ছবি আমার ফ্রেন্ডরাই শুধু দেখতে পাবে সেই ছবি নিয়ে নিউজ করা উচিৎ না। কারণ সেটা পাবলিক করা নাই। এগুলো সবার ভাবা উচিৎ। তবে অন্তত ফোনে কথা বলে জেনে নিয়ে নিউজ করা উচিৎ।

নতুন যারা বিনোদনজগতে আসতে চায়, তাদের জন্য কিছু বলুন?

আমি ক্যামেরার সামনে যেহেতু অভিনয় করি, তাই ক্যামেরার পেছনে অভিনয় করতে পারি না। কিন্তু নরমাল মানুষরা সবাই অভিনয় করেই চলে। একজন আর্টিস্ট হওয়া অনেক সাধনার বিষয়। সেলিব্রেটি হওয়া আর শিল্পী হওয়া এক নয়। আমি শিল্প করতে চাই, ব্যবসা করতে চাই না। শিল্পী হতে চাই। একজন শিল্পীকে অনেক নির্লোভ হতে হয়। লোভ-লালসা ত্যাগ করতে হয়। আমার মধ্যেও নিশ্চয়ই লোভ কাজ করে। শিল্পী হতে হলে অনেক সৎ হতে হয়। রিয়েলিস্টিক হতে হয়। সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবার সেই চেষ্টাই করা উচিৎ।

আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনাকে আর ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম পরিবারকেও অনেক ধন্যবাদ।

ঢাকাটাইমস/১৪ফেব্রুয়ারি/এমইউ/টিএমএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত