এখন অনিয়মের মধ্যে সব হচ্ছে: জর্জ

মাহমুদ উল্লাহ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:০৫ | প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৮:১০

নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের ধারাবাহিক নাটক `কোথাও কেউ নেই’। নাটকের প্রধান চরিত্র বাকের ভাইয়ের সঙ্গী মজনু ছিলেন লুৎফর রহমান জর্জ। সেই একটি নাটকই তাকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। মানুষের ভালোবাসায় দিনে দিনে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন একজন ভার্সেটাইল অভিনেতা।  ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করলেও বেছে বেছে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। এ পর্যন্ত লুৎফর রহমান জর্জের বেশ কিছু সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। তার শেষ ছবি আয়নাবাজি। সম্প্রতি শিল্পী সংঘের নির্বাচনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল ঢাকাটাইমসের সঙ্গে কথা হয় এই গুণী অভিনেতার। তিনি বলেছেন, এখন অনিয়মের মধ্যে সব হয়। সবকিছু নিয়মের আনাই তাদের প্রধান কাজ।

অভিনয় শিল্পী সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু একটি নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। আামাদের সভাপতি সাচ্চু ভাই ১৮১ দিনের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। সেই অনুযায়ী স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করব। মূল কথা মিডিয়ার পরিবেশ সুন্দর করতে চাই। একটা সময় ছিল, যখন সবাই নিজের তাগিদেই কাজ করত। আমরা শিল্পীরা বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করি। আমাদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য যেন এক থাকে, কারা হেরেছে বা জিতেছে তা বড় বিষয় নয়। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

নির্বাচলে জিতলেন, এ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা

ভবিষ্যত সুন্দর একটি মিডিয়ার স্বপ্ন নিয়ে আমরা আমাদের কাজ এখন শুরু করতে চাই। দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। দুই বছর পরে আবার সুন্দরভাবেই বিদায় নিতে চাই। আমরা যারা ৪৯ জন প্রার্থী ছিলাম্, তাদের সবার লক্ষ্যই এক ছিলে। এখানে কেউ হারবে বা জিতবে এটা স্বাভাবিক, এটি একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু আমরা সবকিছু পজিটিভলি দেখতে চাই।

বর্তমান কমিটি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?

আমাদের এখানে যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা সবাই এ ক্ষেত্রে পেশাদার। কেউ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। এটা অনেক বড় বিষয়। কেউ কেউ হয়তো পরিচালনা করতে পারে, এর বাইরে কেউ নয়। যারা নির্বাচিত হয়েছে, তারা সবাই আমার মনের মানুষ। আর যারা পাস করতে পারেনি, তারা কেউ সরে যাবে না। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমরা একটি পরিবার। চরিত্রের প্রয়োজনে আমরা কেউ বাবা হই, কেউ হই ভাই। তাই এটা পুরোটাই আমাদের একটি পরিবার বলে আমি মনে করি। সবাইকে সাংগঠনিকভাবে একত্র করাই আমার কাজ।

চলমান সময় নিয়ে কিছু বলুন?

সময়ে সময়ে মানুষ বদলায়। অতীতে আমার মতো করে ছিলাম। এখনো আমার মতো করেই আনন্দে থাকতে চাই। ইয়াংরা এখন যথেষ্ট ভালো করছে, তারা যথেষ্ট জ্ঞান রাখে। সবাই পড়াশোনা করেই আসছে। নতুন-পুরাতনকে ব্লেন্ড করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে, সমৃদ্ধ করতে হবে ইন্ডাস্ট্রিকে।

নিজেকে নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?

আমি যেসব কাজ করেছি, অতীতের মতো এখনো বাহবা পাচ্ছি। আমি আসলে আমার জন্য অভিনয় করি। এ জন্য সমাজের সবাই আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে ও দেয়, তা আমি এনজয় করি। যারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে, তারা জানে আমি সব সময় আনন্দের সঙ্গে থাকতে চাই। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি কি সত্যিই অ্যাক্টর? আমি সব সময়ই পজিটিভ মানুষ। লড়াই, দাবি, ঘেরাও, এসব শব্দে আমি বিশ্বাসী নই। ম্যান টু ম্যান রিলেশনে আমি বিশ্বাসী।

এখন কী ধরনের সমস্যায় শিল্পীদের পড়তে হয়? আর অভিনয় শিল্পীদের দেরিতে সেটে আসাটা আপনি কীভাবে দেখেন? 

এখন স্ক্রিপ্টে বিভিন্ন সমস্যা থাকে। মান একটা বড় সমস্যা। এ ছাড়া নাটকের বাজেটও অনেক কম। আগে স্ক্রিপ্ট নিয়ে সবাই বসত। এখন তেমন হয় না। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দিনে সবাই আমরা কাজ করব। অতিরিক্ত কাজ কারোরই ভালো লাগে না। রাত ১২টা-১টায় বাসায় যেতে হলে সবারই কষ্ট হয়। নিজেদেরও তো সময় দেয়া দরকার। নিজের জন্য একটা সময় সবারই দরকার। এটা নির্দিষ্ট টাইম ফিক্সড করে সবার সেটা মেনে চলা উচিত। তাহলে আর রাত করে শুটিং চলবে না। এখন অনিয়মের মধ্যে সব হচ্ছে। কলকাতাতেও সবাই নির্দিষ্ট সময় মেনে স্পটে আসে। আগে এমনই নিয়ম ছিল। যদি সময়মতো ১০টায় ক্যামেরা ওপেন করতে পারি, তাহলে আবার রাত ১০টায় ক্যামেরা ক্লোজ করা সম্ভব। অথচ আমাদের এখানে কেউ আসে ১২টায়, কেউ ১টায়।

আপনার সিনেমা?

অনিমেষ আইচের ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’-এ অভিনয় করেছি। এ ছাড়া চ্যানেল আইয়ের আঁকা রেজা গালিবের ‘কালের পুতুল’-এ অভিনয় করলাম। চরিত্র পছন্দ হলে যেকোনো সিনেমাতেই অভিনয় করতে চাই।

আপনি নাকি নিজের অভিনীত নাটক দেখেন না?

‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকটি প্রচার হওয়ার পর ২৫ বছর আমি বিটিভি ভবনে যাইনি। ‘৪২০’ নাটক আমি পুরোটা এখনো দেখিনি। আমি ১২টি ছবি করেছি। কোনো ছবি আমি হলে গিয়ে দেখিনি। এবার ‘আয়নাবাজি’ দেখেছি। শতাব্দি ওয়াদুদ বুঝতে পেরেছিল আমি হলে যাবো না, তাই জোর করে নিয়ে গেছে। ওর কারণে গিয়েছি। পেছনে ফেলে আসা কাজ নিয়ে আমার আসলে কোনো ফ্যাসিনেশন কাজ করে না। ভবিষ্যতের দিকেই যেতে চাই।  

এই যে নির্বাচিত হলেন, এতে বেশি সময় দিয়ে আপনার ক্যারিয়ারে কোনো সমস্যা হবে না?

আমি সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে একত্র করতে পারব। তাই এই পদে নির্বাচন করেছি। হ্যাঁ, সংগঠন করলে আমার অভিনয়ে হয়তো সময় কম পড়বে। কিন্তু একটি সুন্দর পরিবেশের আশায়, ইন্ডাস্ট্রির ভালোর জন্য, শিল্পীদের জন্য আমার যদি কিছু ক্ষতি হয়, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। সবার স্বার্থে এটা করতেই হবে।

নতুন শিল্পীদের কোন বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

এক কথায় একজন নতুন শিল্পী হতে হলে সবাইকে অবশ্যই পজিটিভ চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

নাগরিক নাট্য দলে কাজ করছি অনেক বছর হলো। সেখানেও আমি এমন। কোনো ভালো চরিত্রে কাজ করতে হবে এমনটা কখনো ভাবিনি বা কখনো চাইওনি। আমি আসলে পর্দার পেছনে নিজের মতো করেই থাকতে পছন্দ করি।

(ঢাকাটাইমস/১৭ফেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত