হাজারীবাগের ট্যানারি সরাতে মানসিক প্রস্তুতি মালিকদের

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৭, ১৫:২৯ | প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৭, ০৮:৩৪

রাজধানীর হাজারীবাগের সব ট্যানারি কারখানার পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর দুই সপ্তাহ কেটে গেছে। কিন্তু এখনো তা কার‌্যকর হয়নি। তবে হাজারীবাগ থেকে কারখানা সরিয়ে নেয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন বিভিন্ন কারখানার কর্তৃপক্ষ।

রবিবার হাজারীবাগের ট্যানারি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সব কটি ফ্যাক্টরিতেই কাজ চলছে পুরোদমে। প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে চামড়া। ড্রেন দিয়ে সাদা, কালো, লাল পানি গড়িয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন ফ্যাক্টরির মালিক ও ম্যানেজাররা বলছেন, সাভারে স্থানান্তরের জন্য সব প্রস্তুতিই তারা নিয়েছেন। তবে এখনো সাভারের চামড়া শিল্পপল্লিতে জমি রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় অর্থের সংস্থান করতে পারছেন না কারখানা স্থানান্তরের।

গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট হাজারীবাগের সব ট্যানারির পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি ট্যানারি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়।

ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ৯ মার্চ আবেদন করেছিলেন ট্যানারি মালিকরা। ১২ মার্চ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের ওই আদেশ বহাল রাখেন। ফলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বিচ্ছিন্ন করা সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে বাধা থাকার কথা নয়।

এদিকে পরিবেশের ক্ষতির কারণে হাজারীবাগে থাকা ট্যানারিগুলোর জরিমানা হিসেবে বকেয়া ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ রবিবার (১৯ মার্চ) স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতি। আগামী বৃহস্পতিবার  পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে ওই দিন বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে হাজারীবাগ থেকে বেশির ভাগ ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরিত হয়েছে দাবি করে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, বাকি যারা আছে তারাও সেখানে যাচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা চামড়া এখন আর হাজারীবাগে ঢোকে না। ৮০ শতাংশ দূষণ কাঁচা চামড়াতেই হয়।

হাজারীবাগ ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দিলজাহান ভুইয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নতুন কারখানার জন্য বিদেশ থেকে মেশিন আনা হচ্ছে। এতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। কিন্তু সাভার চামড়া শিল্প নগরীর প্লটের দলিল এখনো না পাওয়ায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারছি না আমরা।’

সাভারে  ট্যানারির ডাম্পিং (বর্জ্য শোধনাগার) এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি দাবি করে দিলজাহান বলেন, ‘ড্রেনগুলোও ভালোভাবে তৈরি না হওয়ায় সব কারখানা চালু হলে অল্পতেই ড্রেন ভরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

দিলজাহান ভুইয়া বলেন, এই পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিলে আমরা বিপদে পড়বো। কেননা এখনো অনেক বিদেশি অর্ডারের কাজ চলছে।’

ভুলুয়া ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার এনামুল ঢাকাটাইমকে জানান তাদের ফ্যাক্টরি স্থানান্তরের সব প্রস্তুতি শেষ। এত বড় ফ্যাক্টরি স্থানান্তর করতেও সময়ের প্রয়োজন। এ ছাড়া এখানে বায়ারদের কিছু অর্ডার আছে যেগুলোর কাজ করছি আমরা।’

এলআইটি ট্যানারি কারখানায় গিয়ে দেখা গেল পুরোদমে চলছে করখানা। এখানে ছাগলের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয় বলে জানান সেখানকার লোকজন।

কারখানার নিরাপত্তাকর্মী দোলোয়ার জানান, ‘প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চার-পাঁচ দিন ধরে কারখানায় আসছেন না। সাভারে কারখানা নতুন করে শুরু হবে।’ সে ক্ষেত্রে ১৬ থেকে ১৮ বছর ধরে যে শ্রমিক চাকরি করছেন, তাদের এককালীন টাকা দাবি করেন দেলোয়ার। তিনি বলেন, ‘এত বছর চাকরি করে খালি হাতে তো নতুন জায়গায় যেতে পারি না।’

রবিবার সরেজমিনে দেখা গেল, আজমির লেদার, সরোয়ার লেদার, মেসার্স এমবি লেদার লিমিটেডসহ হাজারিবাগের কারখানাগুলো কর্মচঞ্চল।

বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৬ সালে ৯০৩টি শিল্প কারখানা পরিবেশ দূষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। এর মধ্যে হাজারীবাগের চামড়া কারখানাগুলো রয়েছে। এরপর কারখানার পরিবেশ দূষণরোধে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে ১৯৯৪ সালে রিট করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, পরে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন। সরকারপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এরপরও ওই এলাকা থেকে ট্যানারি শিল্প কারখানা সরিয়ে নেয়া হয়নি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, হা্ইকোর্ট অবিলম্বে হাজারিবাগের ট্যানারি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগও বহাল রেখেছে। এখন হাজারিবাগে কোনো ট্যানারি করখানা থাকার সুয়োগ নেই।

ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/জেআর/মোআ

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত