প্রিয়াঙ্কার মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:০৭

ভারতের প্রধান বিরোধীদল জাতীয় কংগ্রেস সমর্থকরা সদ্য রাজনীতিতে যোগ দেয়া প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে তার দাদী প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে খুঁজে পাচ্ছেন৷ তার আগমনে দল যেন নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ৷ তবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাস-‌ফেল নির্ভর করছে নির্বাচনি ফলাফলে৷

বিগত এক দশক ধরে দলের অন্দরে ব্যাপক চাহিদা ছিল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সক্রিয় রাজনীতিতে নামানোর৷ কিন্তু পারিবারিক কারণে তা হয়ে ওঠেনি৷ এখন মা সোনিয়া গান্ধী প্রায়শই অসুস্থ থাকছেন৷ ভাই রাহুল গান্ধী দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন৷ তাই রাজনীতির অমোঘ টান আর উপেক্ষা করতে পারেননি তিনি৷ তার শাড়ি, চওড়া হাসি, কব্জির ঘড়ি, কেশবিন্যাস, মঞ্চে বাচনভঙ্গি, এমনকি করজোড়ের কায়দা অনেককেই অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে৷ মনে করিয়ে দিচ্ছে দাদী ইন্দিরা গান্ধীর কথা৷

সম্প্রতি লখনউ শহরে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ জুড়ে ‘রোড-‌শো‌তে কয়েক দশক আগের প্রিয়দর্শিনীকে (‌‌ইন্দিরা গান্ধী)‌ যেন দেখতে পেল আম জনতা৷ লখনউ বিমানবন্দর থেকে নেহরু ভবন, প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যালয়ের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার৷ এই পথ পার হতে বড়জোর মিনিট চল্লিশ সময় লাগে, প্রিয়াঙ্কার র‌্যালি সেই পথ পার হতে সময় নিয়েছে প্রায় ছয়‌ ঘণ্টা৷ পথের দু’‌পাশ থেকে স্লোগান ভেসে আসছিল, ‌‘‌আ গ্যায়া বদলাওকি আঁধি, রাহুল সঙ্গ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷’

‌রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‌‌প্রিয়াঙ্কাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আনা হয়েছে শুধু লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি'কে পরাস্ত করার জন্যই নয়, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের মতাদর্শের মুখ্যমন্ত্রী চাই৷’

নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রিয়াঙ্কা কি সত্যিই কংগ্রেসের হারানো জমি ফিরিয়ে দিতে পারবেন? নিখুঁত জবাব মিলবে মাস দেড়-‌দুই পরে, নির্বাচনের ফল ঘোষণা হলে৷ তবে ইন্দিরা সদৃশ চেহারা অথবা ইন্দিরার নাতনি বলেই রাজনীতিতে ‘মিরাকল’ ঘটিয়ে ফেলবেন তিনি, এমনটা মনে করছেন না অনেকেই৷

অভিনেত্রী এবং বিজেপি সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী বলেন, ‘ওর স্বামীকেই বেশি মানুষ চেনেন৷ ওদের বিরুদ্ধে পারিবারিকভাবে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আছে, মানুষ সেসব জানেন৷ ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে সবাই সব খবর পায়৷ ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে চেহারার মিল থাকলে রাজনীতির সঙ্গে কী সম্পর্ক৷ আগেকার দিনে অভিনেত্রীরা বিয়ের পর তাদের কদর কমে যাওয়ার ব্যাপার ছিল৷ তখন জনপ্রিয়তায় চেহারা গুরুত্ব পেত৷ এখন শুধুমাত্র কারো মতো দেখতে বলেই রাজনীতিতে বাজিমাত করা যাবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই৷ রাজনীতি এত সহজ নয়৷’‌

ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে মোট ৮০টি লোকসভা কেন্দ্র৷ পূর্বীয় উত্তরপ্রদেশে ৪০টি, পশ্চিমে ৪০টি৷ এই দুই ভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া৷ প্রিয়াঙ্কা যে অংশের দায়িত্ব পেয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনি কেন্দ্র বারাণসি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গোরখপুরের মতো কেন্দ্র৷ একদা কংগ্রেসের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ছিল রাজ্যের পূর্ব ভাগ৷ এখান থেকেই জয়ী হয়েছেন জওহরলাল নেহরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীরা৷ এ পর্যন্ত দেশের ৭ জন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এই রাজ্য থেকে৷ কিন্তু গত কয়েক দশকে সেই হিসেব বদলেছে৷ রাজ্যে এখন কংগ্রেসের গড় ভোট ১০ শতাংশে এসে ঠেকেছে৷ এমন একটা পরিস্থিতি থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করাতে শুধুই গ্ল্যামার বা ইন্দিরার স্মৃতি উসকে দেওয়া যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন অনেকে৷ প্রয়োজন সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত রণকৌশল৷

কংগ্রেস নেতারা সংগঠন এবং উপযুক্ত রণকৌশলের কঠিন, কঠোর পরিধি মাড়াতে চাইছেন না৷ তারা ভরসা রাখছেন ‘‌প্রিয়াঙ্কা ম্যাজিক’ এর ওপর৷ কেউ বলছেন, প্রিয়াঙ্কা সুনামির মতো জয় নিয়ে আসবেন৷ কেউ বলছেন, প্রিয়াঙ্কা মাঠে নামলে জনপ্লাবনে ভেসে যাবে বিরোধীরা৷

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের নেতা শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কাকে কেউ আঁধি বলছেন, কেউ তুফান বলছেন৷ রাহুল গান্ধী তাকে সামনে এনে আসলে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তুলতে চাইছেন৷ লক্ষ্য শুধু লোকসভা নির্বাচন নয়৷ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রিয়াঙ্কা আশির দশকের সেই ইন্দিরা জমানার উত্তরপ্রদেশ ফিরিয়ে দেবেন৷ সুপ্রিম কোর্ট, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সিবিআই, ইডি‌সহ সব সংস্থা ধুলিসাৎ হয়ে গেছে৷ উত্তরপ্রদেশ‌সহ গোটা ভারত প্রিয়াঙ্কার হাত ধরে আলোর দুনিয়ায় পৌঁছতে চাইছেন৷ বিরোধীরা ভয় পেয়েছে৷ প্রিয়াঙ্কার জনসমর্থন আসবে সুনামির মতো৷ মানুষের আঁধি আসবে৷ তাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাহুল৷’ সূত্র: ডয়চে ভেলে

ঢাকা টাইমস/১৪ফেব্রুয়ারি/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :