করোনা আম্পান ডেঙ্গু পঙ্গপাল, সামনে আর কী!

বিল্লাল বিন কাশেম
| আপডেট : ২১ মে ২০২০, ১৭:০০ | প্রকাশিত : ২১ মে ২০২০, ১৬:১৮

সুপার সাইক্লোন আম্পান সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে রাজশাহী গিয়ে ক্ষমতা হারালো ঘূর্ণিঝড়টি। করোনায় বিধ্বস্ত এ দেশের মানুষের কাছে আম্পান মরার উপর খাঁড়ার ঘা। শুনছি পঙ্গপালের কথা। দুর্যোগের সাথেই বাংলাদেশের মানুষ বসবাস করে অভ্যস্থ। তবে এ বছরটা কেমন যেন একের পর এক দুর্যোগ লেগেই আছে। জানা গেছে, কয়েক বছর আগে তৈরি হওয়া ঝড়ের তালিকার এটাই শেষ ঝড়। ‘আম্পান’-এর আগে যে ঘূর্ণিঝড়টির সম্মুখীন হয়েছি আমরা, সেটির নাম ‘ফণী’। করোনা ও সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’, ডেঙ্গু, পঙ্গপাল আর সামনে কী আছে আল্লাহই জানেন।

ঘূর্ণিঝড় প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে বাংলাদেশের বুকে আছড়ে পড়ে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’। ঝড়ের কবলে পড়ে লোকালয় তছনছ হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। আক্রান্ত এলাকায় ভেঙে পড়েছে বাঁধ ও ঘরবাড়ি। শুনছি এ ঝড় নাকি করোনাভাইরাসকেও উড়িয়ে নিতে পারবে? নাকি ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে স্পাইকে শান দেবে? ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর বায়ো মেডিক্যাল জেনোমেটিক্স-এর কর্মকর্তা বিজ্ঞানী পার্থপ্রতিম মজুমদার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক নিয়ে এখনো কোনোই বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ তাদের কাছে নেই। তবে ঝড়বৃষ্টি হলেই যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাবে তাও নয়। কিন্তু এই সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ভিড় এড়িয়ে চলার নিয়ম মানতেই হবে আমাদের।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড মেডিসিনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ২৯ হাজার ৭৩১ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৪ জন। অপরদিকে ২০ লাখ ২১ হাজার ৬৬৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

গত কয় বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। এ বছরও রয়েছে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুরোগের প্রাদুর্ভাব। ডেঙ্গুর ব্যাপক ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে। বিবিসি তথ্যমতে, ডেঙ্গু বড় আকারের একটা প্রাদুর্ভাব, যা বাংলাদেশ সহ কয়েকটি দেশে হচ্ছে।

এদিকে, আফ্রিকার কয়েকটি দেশের পর পাকিস্তান এবং সর্বশেষ ভারতে আক্রমণ চালানোর পর বাংলাদেশেও পঙ্গপালের আক্রমণ হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা বলছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে সে ঝুঁকি এ বছরের চেয়ে আগামী বছর বেশি। গত বছরের শেষ দিক থেকে আফ্রিকার ইথিওপিয়া, কেনিয়া ও সোমালিয়াসহ কয়েকটি দেশে আক্রমণ চালিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে পঙ্গপাল। এ বছরের শুরুতে পাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়। পঙ্গপালের উৎপাতে দেশটিতে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। এরপর ভারতের পাঞ্জাবে ঢুকে পড়েছে পঙ্গপাল, যার ব্যাপ্তি ছিল তিন কিলোমিটার। সে প্রেক্ষাপটে পাঞ্জাবের আশেপাশের কয়েকটি রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়। বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফে নুতন ধরণের যে ছোট পোকাগুলো দেখা গেছে। তবে সেগুলো পঙ্গপাল নয় বলে আমরা জেনেছি।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশে পঙ্গপালের আক্রমণ ঘটেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া ও ইথিওপিয়ায় ফসলের ক্ষেতে পঙ্গপালের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য ব্যবহার করা হয় বন্দুক, টিয়ারগ্যাস এবং সাইরেন। এরপর পঙ্গপালের হামলার মুখে পড়ে পাকিস্তান ও ভারত। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক এজেডএম ছাব্বির ইবনে জাহান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পঙ্গপালের আক্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা এবং প্রস্তুতি রাখার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পঙ্গপাল কী ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারে? আর পঙ্গপাল একটি দেশের জন্য কী ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে?

সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা আজ হয়তো নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তবে সপ্তাহান্তে হয়তো অর্থনীতির লোকজন হিসাব দেবেন। আমরা টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইনে পর্যালোচনা দেখতে, শুনতে ও পড়তে পারবো। তবে এককের পর এক দুর্যোগে আমাদের ব্যক্তি মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর দিয়ে যে কীভাবে যাচ্ছে তা সাধারণ মানুষ টের পাচ্ছেন। এসব দুর্যোগের কারণে ব্যক্তি জীবনে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখছে।

প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের দাপটে বিপর্যস্ত পুরো দুনিয়ার মানুষ। এরই মধ্যে নতুন বিপদ আম্পান ঝড়ের কবলে পড়লো বাংলাদেশ-ভারতের মানুষ। সামনে আরও কী দুর্যোগ অপেক্ষা করছে আল্লাহ মালুম। আসলে করার কিছু নেই, দুর্যোগের মধ্যেই বসবাসের জন্য আমাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।

লেখক: কবি ও প্রবন্ধকার

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত