দুবাই থেকে অনলাইন ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ!

জাফর আহমেদ ও হাসান মেহেদী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৪৯ | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ২১:০৪

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার গজারিয়া এলাকার এক কৃষকের ছেলে আবদুল কাইয়ুম মিয়া। ছিলেন বেসরকারি কোম্পানির শ্রমিক। মাত্র আড়াই থেকে তিন বছরের ব্যবধানে হঠাৎ করেই আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তিনি। এলাকায় গড়ে তুলেছেন কোটি টাকা মূল্যের আলিশান বাড়ি, নামে-বেনামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। এলাকায় এ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে কাইয়ুমের আয়ের উৎস নিয়ে।

এ বিষয়ে ঢাকা টাইমসের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিকের গণ্ডি পার করতে না পারলেও মাত্র ৩০ বছর বয়সেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছেন অনলাইন ক্যাসিনোতে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে পুঁজি করে বর্তমানে তিনি দুবাই বসেই বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণ করছেন অনলাইন ক্যাসিনো সিন্ডিকেট। অনলাইন ক্যাসিনোর এই গডফাদারের প্রধান টার্গেট দেশের উঠতি বয়সি যুবক ও শিক্ষার্থীরা।

দেশে থাকাকালীন সময়ে অনলাইন ক্যাসিনোর টাকায় নিজ এলাকায় হঠাৎ করেই অনেক সম্পত্তি গড়তে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে খবর ছড়িয়ে পরে থানা পুলিশ পর্যন্ত। জুয়া ও ক্যাসিনোর বিষয়ে সরকার যখন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে দুবাই পাড়ি জমান। বর্তমানে দুবাই বসেই কয়েক বছর যাবত ভেলকিবাজি ৩৬৫ ও লাকি উইনসহ বিভিন্ন নামের অ্যাপস বানিয়ে দুবাই থেকে অনলাইন ক্যাসিনোর সাইট পরিচালনা করে আসছেন কাইয়ুম। নিজেকে নিরাপদে রাখতে অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত ব্যক্তিদের সাথে তিনি যোগাযোগ রক্ষা করেন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। এমন বেশ কিছু তথ্য এসেছে ঢাকা টাইমসের কাছে।

অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, অনলাইন জুয়ার তথ্য পেলেই সিআইডি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। অনেক সময় দেখা গেছে দেশের বাইরে থেকেই কেউ কেউ অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে থাকে। সেই ক্ষেত্রে আমরা বিটিআরসিতে অবগত করে সাইটগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করি।