মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি রাশিয়া: মুলারের প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৮:৩৬ | প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৮:৩০

 

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার সঙ্গে রুশ সংযোগ ছিল না। এ ঘটনা তদন্তে নিযুক্ত বিশেষ কৌসুলি রবার্ট মুলার যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সেখানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ রবিবার মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে সারসংক্ষেপে বলা হয়নি যে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে বিচার কাজকে বাধাগ্রস্ত করেছেন কিনা।

কংগ্রেসের জন্য প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ তৈরি করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার। এই প্রতিবেদনের জবাবে ট্রাম্প টুইটবার্তায় বলেছেন, ‘কোনো আঁতাত হয়নি, কোনো অন্তরায় তৈরি করা হয়নি।’ খবর বিবিসির।

ট্রাম্প বরাবর এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দাবি করে এসেছেন। রবিবার তিনি বলেছেন, ‘এটা এ দেশের জন্য লজ্জার যে এমন একটা ব্যাপার হলো’ এবং পুরো তদন্তকে তিনি অবৈধ দাবি করে বলেন, এটি ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রাম্পের রুশ সংযোগ তদন্তের বিশেষ কৌঁসুলি নিযুক্ত হওয়ার ২২ মাসের মাথায় এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন রবার্ট মুলার। তবে ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের সাবেক ছয়জন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং কয়েক ডজন রুশ নাগরিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে।

রবার্ট মুলার তার প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন করে আর কোনো অভিযোগ তোলার সুপারিশ করেননি, তবে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পক্ষে কোন সাফাইও দেননি।

বারের তৈরি করা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কোনো মার্কিন নাগরিক বা ট্রাম্পের প্রচারণা দলের কোন সদস্য জ্ঞানত রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাত করেছে, এমন প্রমাণ বিশেষ কৌসুলি পাননি।’

চিঠির দ্বিতীয় অংশে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল কিনা সে প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। বার তার সারসংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন ‘প্রথা মাফিক রায় দেওয়ার’ ছিল না মুলারের প্রতিবেদনে। বিশেষ কৌসুলি এ বিষয়ে কোন উপসংহার টানেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বিচারকার্যে বাধা দিয়েছেন, এমন অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মূল প্রতিবেদন থেকে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে জানিয়ে বার বলেন, কিছু বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।

রাজনীতিবিদরা কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন?

ডেমোক্রেট দলীয় নেতৃবৃন্দ সম্পূর্ণ প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের নভেম্বরে মার্কিন নির্বাচনে রুশ সংযোগের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতে মস্কো প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছিল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্তের পর এই তদন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দিকে মোড় নেয়। তবে ট্রাম্পের পাশাপাশি রাশিয়াও বরাবরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মার্চ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে তদন্তকারী রবার্ট মুলারের প্রতিবেদন নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪২০ জন আইন প্রণেতা কংগ্রেস ও জনগণের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি উন্মুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি।

ঢাকা টাইমস/২৫মার্চ/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :