ভারতে গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে : গ্রেগরি স্ট্যানটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:১৩
ভারতে গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সংস্থা জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা ড. গ্রেগরি স্ট্যানটন।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতে কাশ্মীর ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন শিরোনামে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ও দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানে ভারতের চলমান অস্থিরতা নিয়ে নিজের উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেন তিনি।
গ্রেগরি বলেন,‘ভারতে গণহত্যার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসাম এবং কাশ্মীরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন গণহত্যার আগের পর্যায়ে রয়েছে। এর পরের পর্ব হলো নির্মূলকরণ- আমরা যেটাকে গণহত্যা বলে থাকি।’
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত অবস্থায় ১৯৯৬ সালে ‘গণহত্যার দশ ধাপ’ নামের একটি উপস্থাপনা তৈরি করেন তিনি। এই উপস্থাপনায় কীভাবে গণহত্যার প্রক্রিয়া শুরু হয় তা ব্যাখ্যা করেন।
আন্তর্জাতিক এই বিশেষজ্ঞের মতে গণহত্যার দশটি ধাপ হল-
প্রথম ধাপ : সমাজে বিভাজন তৈরি করা। এই বিভাজন ‘আমরা’ বনাম ‘তারা’।
দ্বিতীয় ধাপ : একটি প্রতীক দাঁড় করানো, ভূক্তভোগীদের ‘বিদেশি’ হিসেবে ডাকা।
তৃতীয় ধাপ : বৈষম্য। একটি শ্রেণিকে নাগরিকত্বের বাইরে রাখা। বৈষ্যমের আইনী বৈধতা তৈরি করা; যাতে ওই শ্রেণির মানুষের কোন নাগরিক বা মানবিক অধিকার না থাকে।
চতুর্থ ধাপ : অমানবিকীকরণ করা; যখন গণহত্যার বিষয়টি অগ্রসর হতে থাকে। যেকোনো ভাবে ভিকটিমকে নিকৃষ্ট হিসেবে তুলে ধরা। তাদেরকে সন্ত্রাসী কিংবা অন্য কোনো জন্তুর সঙ্গে তুলনা করা। অথবা ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে টার্গেট জনগোষ্ঠীকে তুলনা করা; যাতে তাদেরকে সমাজের কাছে বালাই হিসেবে উপস্থাপন করা যায় এবং এর চিকিৎসা জরুরি।
পঞ্চম ধাপ : গণহত্যা সংঘটনের জন্য একটি সংস্থা তৈরি করা। কাশ্মীরে এই ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। অন্যদিক আসামে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি বাস্তবায়নকারীরা।
ষষ্ঠ ধাপ : মেরুকরণ; যা প্রচারণার মাধ্যমে করা হয়।
সপ্তম ধাপ : প্রস্তুতি।
অষ্টম ধাপ : নিপীড়ন। বর্তমানে আসাম এবং কাশ্মীর এই ধাপে রয়েছে।
নবম ধাপ : নির্মূলকরণ।
দশম ধাপ : অস্বীকার করা।
মার্কিন প্রখ্যাত এই মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছিলেন। তার এই প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে রুয়ান্ডা এবং বুরুন্ডিতে গণহত্যার তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। কম্বোডিয়া, রুয়ান্ডা ও রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়েও তার গবেষণা রয়েছে; যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
সূত্র: সিয়াসাত ডেইলি
(ঢাকাটাইমস/১৫ডিসেম্বর/আরআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :