ওজন ও উচ্চতা বাড়াতে যা খাবেন

মানুষের দৈর্ঘ্য তাঁর পারিবারিক জিনের ওপর নির্ভর করে। উচ্চতার উপর হরমোনের প্রভাব রয়েছে। হরমোনজনিত কারণেই অনেকের উচ্চতা কম বেশি হয়। আমাদের হাড়ের উচ্চতা তত দিনই বাড়ে যত দিন পর্যন্ত লম্বা হাড়ের শেষ মাথায় অবস্থিত তরুণাস্থি বা প্লেটটি হাড়ের সঙ্গে মিশে না যায়।
সাধারণত যৌবন প্রাপ্ত হলে হরমোনের প্রভাবে তরুণাস্থি বা প্লেট মূল হাড়ের সঙ্গে মিশে যায় বা ফিউশন হয়ে যায় এবং এরপর আর হাড় লম্বায় বাড়তে পারে না। সাধারণত এই ফিউশন ঘটে ছেলেদের বেলায় ১৬ বছর ও মেয়েদের ১৪ বছরের মধ্যে। যদিও ১৯ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত আরো কিছুটা উচ্চতা বৃদ্ধি হতে পারে, তবু ফিউশন হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসা করলেও তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় না।
সে ক্ষেত্রে নিজের জীবনযাপন প্রণালীতে কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে, যেমন সুষম আহার এবং ব্যায়াম করে নিজের উচ্চতা বাড়ানো যেতে পারে। ওজন কম করার জন্য আমরা যেভাবে ব্যায়াম ও খাবার-দাবারের যত্ন নিয়ে থাকি, তেমনই এ ভাবেই কিছুটা হলেও উচ্চতা বাড়ানো যেতে পারে।
বংশানুক্রমিক কারণ ব্যক্তির উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী হলেও খাবার-দাবারও এ বিষয় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ফল, সবজি, গোটা অন্ন, মাংস, দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্যে ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গনিজ, ভিটামিন সি, ফসফরাস ও প্রোটিনের মতো উল্লেখযোগ্য উপাদান থাকে। এখানে এমন কিছু খাবারের উল্লেখ করা হল, যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে—
মাছ-মাংস
মাংসে উপস্থিতি প্রোটিন মাংসপেশী ও কলা তৈরিতে সাহায্য করে। উচ্চগুণমানের প্রোটিন লাভ এবং উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ৫০ গ্রাম মাংস খাওয়া উচিত। অন্য দিকে স্যালমন, টুনা, সার্ডিনের মতো মাছ প্রোটিন ও ভিটামিন ডি-এর উল্লেখযোগ্য উৎস, যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মাছে উপস্থিত ভিটামিন-ডি ক্যালশিয়াম বাড়ায়। ক্যালশিয়াম হাড়কে মজবুত এবং ঘন করে।
ডিম
খাদ্য তালিকায় ডিম অন্তর্ভূক্ত না-করলে আপনার ডায়েট অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ডিমে হাই প্রোটিন থাকে। শীঘ্র উচ্চতা বৃদ্ধিতে এটি সাহায্য করে। ডিম ভিটামিন ডি, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন বি২-এর শক্তিশালী উৎস। এটি হাড় ও শরীরের বিকাশে সাহায্য করে।
দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য
উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য দুগ্ধজাত খাদ্য দ্রব্যের জুরি মেলা ভার। শরীরের বিকাশের জন্য দুধ ও দই অত্যন্ত উপযোগী। ক্যালশিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি, ডি এবং ই উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। নিয়মিত অন্তত ২ গ্লাস দুধ পান করা উচিত। এ ছাড়াও দই ও পনীর খেলেও দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
কলা
পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাঙ্গনিজ, প্রবায়োটিক সমৃদ্ধ কলা দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। দৈনিক ২ থেকে ৪টি কলা খেলে উচ্চতা বৃদ্ধি সম্ভব হয়।
সয়াবিন
সয়াবিন পুষ্টিকর খাদ্য যা দৈনিক খেলে উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক প্রমাণিত হয়। সোয়াবিন প্রোটিন, ফলেট, ভিটামিন, ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেটে সমৃদ্ধ। সামগ্রিক স্বাস্থ্যোন্নতিতে সোয়াবিন সাহায্য করে। সোয়াবীনে উপস্থিত প্রোটিন হাড় এবং কলার ঘনত্ব বৃদ্ধি ঘটায়, যা উচ্চতা বৃদ্ধির গতি বাড়ায়। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ গ্রাম সোয়াবীন খাওয়া উচিত।
দালিয়া
সোয়াবিনের মতো দালিয়াও নিরামিষাশীদের জন্য প্রোটিনের উল্লেখযোগ্য উৎস। দালিয়া উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাংসপেশীর বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। নতুন কলা নির্মাণ করে দালিয়া। মানব শরীরের বিকাশ ও কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন যুক্ত খাদ্য পদার্থে উপস্থিত অ্যামিনো অ্যাসিড অত্যন্ত জরুরি। তাই প্রাতঃরাশে ৫০ গ্রাম দালিয়া খাওয়ার চেষ্টা করুন। এর ফলে শিগগিরই উচ্চতা বৃদ্ধি করা যাবে।
ড্রাই ফ্রুট ও বীজ
ড্রাই ফ্রুট ও বীজও উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। চীনাবাদাম, আমন্ড, কুমড়োর বীজ, সূর্যমুখীর বীজে উপস্থিত হেল্দি ফ্যাট ও অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে কলার নির্মাণকে ত্বরান্বিত করে। তাই দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করতে চাইলে এগুলো খেতে ভুলবেন না।
অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধা এক ধরনের জড়িবুটি, যাতে উপস্থিত খনিজ হাড়ের বিকাশ ও ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হরমোনকে উত্তেজিত করে অশ্বগন্ধা।
সবুজ শাক-সবজি
সবুজ শাক-সবজিতে প্রয়োজনীয় খনিজ, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার থাকে, যা শরীরের বৃদ্ধিতে সহায়ক হরমোনকে উত্তেজিত করে এবং এর ফলে উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির জন্য পালং, ব্রকোলি, কড়াইশুটি, কোলার্ড ইত্যাদি শাক-সবজি খেতে পারেন।
(ঢাকাটাইমস/৩১আগস্ট/আরজেড/এজেড)

মন্তব্য করুন