অনাবাদি জমিতে সবজি চাষ করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ওসি

সায়েম খান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ)
 | প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৪:২৪

পুলিশ সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত থাকলেও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানা পুলিশ নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে’ প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনায় হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার আদিত্যের নেতৃত্বে থানার চারপাশের পরিত্যক্ত জমিতে বিভিন্ন প্রকারের শাকসবজি ও ফলের বাগান করা হয়েছে। থানার পতিত জমিতে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ করেছেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি বাগান করে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দেড় একর জমিতে নানা রকমের শাকসবজির চাষাবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, আলু, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পুঁইশাক, পালংশাক, কলইশাক, মরিচ, ধনেপাতা, লাউ, সিম, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, বেগুনসহ নানা রকমের শাকসবজির চাষ করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করার ফলে এসব সবজির ফলন বেশ ভালো হয়েছে।

শাকসবজির পাশাপাশি লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ধরণের ফুল ও ফলের গাছ। এছাড়াও পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ দেশীয় প্রজাতির মাছের চাষ করা হয়েছে।

স্থানীয় জহির উদ্দিন বলেন, থানার এই জায়গা একসময় জঙ্গল ছিল। কিন্তু সেই জায়গায় সবজি বাগান করার কারণে থানার রূপ বদলে গেছে।

থানায় আসা সুকুমার মন্ডল বলেন, থানার এই জায়গা আগে ঝোপঝাড়ে ভরা ছিল। এখন সেখানে নানারকম শাকসবজি চাষ করা হয়েছে। কলাবাগান করা হয়েছে। এতে থানার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

থানার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. শামিম বলেন, থানায় ডিউটি শেষে অবসর সময়ে সবজি বাগান পরিচর্যার কাজ করি। এতে অনেক ভালো লাগে। বর্তমানে আমাদের শাকসবজি তেমন কিনতে হয় না। বিষমুক্ত সবজি এখন আমরা হাতের নাগালেই পাচ্ছি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার আদিত্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক ইঞ্চি জায়গাও যেন অনাবাদি না থাকে। আমি গত ফেব্রুয়ারিতে হরিরামপুর থানায় যোগদান করি। থানার এই দেড় একর জায়গা আগে কাশবন ছিল। আমি নিজ উদ্যোগে এই জায়গা পরিষ্কার করে মাটি ফেলে শাকসবজি চাষের উদ্যোগ নেই। প্রথম ধাপে ডাঁটাশাক, লালশাক, পালংশাক, ঢেড়সসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করি। সেগুলোর পরে এবার দ্বিতীয় ধাপে শীতকালীন সবজি চাষ করেছি। পাশাপাশি থানার এক একরেরও বেশি জায়গায় কলাবাগান করেছি। এখানে উৎপাদিত সকল সবজিই কিটনাশকমুক্ত ও নিরাপদ।

তিনি আরও বলেন, এই কাজে পুলিশ সুপার আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন, উদ্বুদ্ধ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। থানার পুলিশ সদস্যদের চাহিদা মিটছে এই শাকসবজিতে। এছাড়া, থানায় বিভিন্ন কাজে যারা আসেন তাদেরকে আমি এই শাকসবজি উপহার দেই। এতে আমি মন থেকে অনেক আনন্দ পাই।

হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, থানা চত্বরে সবজি চাষ খুবই ভালো উদ্যোগ। কৃষি অফিস থেকে সবসময় পরামর্শ দিয়ে আসছি। পুলিশের এমন উদ্যোগ মানুষকে পতিত জমিতে চাষাবাদে উৎসাহ যোগাবে। আর এ কাজে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তা এবং পরামর্শ দেওয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/০২ডিসেম্বর/ইএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :