গলছে তুরস্ক-গ্রিসের সম্পর্কের বরফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:৪৬

দুই দেশের আলোচনায় পাঁচ বছরের অচলাবস্থার পর সোমবার বৈঠকে বসেছে গ্রিস ও তুরস্ক৷ এই বিষয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায় থেকেই ইতিবাচক মনোভাবের আভাস মিলছে৷ তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে সোমবার আলোচনা শুরু হয়। দু'দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বন্দ্ব অবসানের লক্ষ্যে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মেভলুত চাভুসওগ্লূ সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর আল জাজিরার

গত সপ্তাহে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সে সময় গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান চাভুসওগ্লু। পাঁচ বছর পর দুই দেশ এ ধরনের আলোচনায় বসল। ২০১৬ সালে দুপক্ষ সর্বশেষ আলোচনা করেছিল।

তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার এই আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল। তিনি বলেছেন, দু দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনের এই উদ্যোগকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্বাগত জানায়। তবে এই আলোচনায় বড় ধরনের কোন অগ্রগতি আসবে বলে মনে হয় না। কারণ ন্যাটো জোটের সদস্য গ্রিস এবং তুরস্ক গত সপ্তাহেও বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়েছে।

বিতর্কিত জলসীমানায় গ্যাস অনুসন্ধান থামিয়ে আলোচনার পথটি প্রশস্ত করেছে তুরস্কও৷ এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপীয় নেতারা সামনের দিনে তুরস্ক সফরে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে৷ অবশ্য দুই পক্ষ থেকে যতই রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ পাক না কেন শরণার্থী, মানবাধিকার, জলসীমানা ও বিভিন্ন জায়গায় সামরিক হস্তক্ষেপসহ বিস্তর দ্বন্দ্ব নিরসনটা একেবারে সহজ হবে না৷

কূটনীতিকরাও মনে করছেন শুধু কথায় নয় সম্পর্কোন্নয়নে তুরস্ককে বিতর্কিত জলসীমা থেকে জরিপ জাহাজ সরিয়ে নেয়াসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যে কারণে আঙ্কারার উপর অবরোধ আরোপের ব্যাপারে ইউরোপের কয়কেটি দেশের উপর চাপও রয়েছে৷ এসব বিষয়ে আগামী মার্চে ইউরোপীয় নেতাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে৷

তবে তুরস্ক-গ্রিসের বৈঠক নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল একটি ‘সম্ভাবনার দ্বার’ দেখতে পাচ্ছেন৷ যদিও এজন্য আঙ্কারাকে ‘বিরোধের পথ’ এড়িয়ে আলোচনার পথে হাঁটতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মনোভাব পরিবর্তনের পেছনে অর্থনৈতিক কারণও দেখছেন অনেকে৷ কোভিডের কারণে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে৷ তার উপর আন্তর্জাতিকভাবে নানা টানাপোড়েনও সেখানে প্রভাব ফেলছে৷ বাণিজ্যিক কারণেও তাই সবচেয়ে বড় অংশীদার ইউরোপের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ভালো রাখা দরকার৷

অনেকে মনে করেন সেই প্রেক্ষাপটেই নভেম্বরে বিচার বিভাগ পুনর্গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এরদোয়ান৷ ২০১৬ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে আইনের শাসন নিয়ে বরাবরই সমালোচনা করে আসছিল ইউরোপ৷

ঢাকা টাইমস/২৫জানুয়ারি/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :