হ্যাম রেডিও পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ বিতরণ

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:১৮

২০১৮ সালের অ্যামেচার রেডিও বা হ্যাম রেডিও পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মাঝে সনদ বিতরণ শুরু হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি সকাল থেকে ঢাকার আইইবি ভবনে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথোরিটি (বিটিআরসি) কার্যালয়ে সনদ বিতরণ শুরু হয়।

প্রথম দিন কয়েক শ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা সনদ সংগ্রহ করেন। প্রবেশপত্র প্রদর্শন করে বিটিআরসির অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে সনদ সংগ্রহ করা যাবে। 

এদিকে সনদ বিতরণ উপলক্ষে দেশের অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের অন্যতম সংগঠন অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এআরএসবি)-এর নেতারা বিটিআরসি প্রাঙ্গনে সকাল থেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে অবহিত করেন।

এরএসবি’র যুগ্ম আহ্বায়ক অনুপ কুমার ভৌমিক বলেন, ‘২০১৮ সালে অ্যামেচার রেডিও পরীক্ষায় যারা সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের মধ্যে সনদ দেয়া শুরু করেছে বিটিআরসি। যারা সনদ পেয়েছেন তারা কল সাইনের জন্য বিটিআরসিতে আবেদন করবেন। আবেদনপত্রে পছন্দমত তিনটি কল সাইন আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে।’

অনুপ কুমার ভৌমিক জানান, অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র কল সাইন বিটিআরসি সরবরাহ করে। ইতোমধ্যে যেসব কল সাইন বিটিআরসি অপারেটরদের মাঝে সরবরাহ করেছেন সেগুলোর তালিকা এরএসবির ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। তালিকা দেখলে বোঝা যাবে কোন কল সাইনগুলো এখনও ব্যবহৃত হয়নি, বা বিটিআরসি হ্যামদের ইস্যু করেনি। 

কল সাইন পাওয়ার জন্য আবেদনপত্রের খসড়াও এরআরএসবির ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

হ্যাম সংগঠক শামসুল আলম তুহিন বলেন, শিগগিরই এআরএসবির পক্ষ থেকে সনদ প্রাপ্ত পরীক্ষার্থী এবং পুরনো হ্যামদের নিয়ে ঢাকার অদূরে একটি ফিল্ড ডের আয়োজন করা হবে। এতে নতুন হ্যামরা রেডিও কমিউনিকেশন সম্পর্কে ধারণা পাবেন। 

২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফল প্রকাশ হয় ২৭ ডিসেম্বর। এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়া ২৬৬ জনের মধ্যে ১৯৮ জন কৃতকার্য হয়েছে।

১৯৯১ সালে সাবেক বাংলাদেশ তরঙ্গ ও বেতার বোর্ডের ১৮ তম সভায় এদেশে প্রথম অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস প্রবর্তনের জন্য লাইসেন্স প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯৫ সালে প্রথম অ্যামেচার রেডিও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বিটিআরসি হতে ২০০৩, ২০০৮, ২০১৩, ২০১৭ এবং  সর্বশেষ ২০১৮ সালে অ্যামেচার রেডিও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৩ সালের পরীক্ষায় ১৬৬ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১৪৭ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হন। ২০১৭ সালে ২১০ জন পরীক্ষা দেন। যাদের মধ্যে ১৭৭ জন পাশ করেন। 

অ্যামেচার রেডিও সাধারণত নির্দিষ্ট বেতার তরঙ্গে অবাণিজ্যিকভাবে তথ্য আদান প্রদান, গবেষণা, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং জরুরি অবস্থায় ব্যবহৃত একটি টেলিযোগাযোগ সার্ভিস।

‘অ্যামেচার’ শব্দটি সাধারণত আর্থিক সংশ্লিষ্টতাবিহীন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহী ব্যবহারকারীকে বাণিজ্যিক ব্রডকাস্টিং, জননিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থা অথবা পেশাদার টু-ওয়ে সার্ভিস হতে পৃথক করার জন্য ব্যবহার করা হয়। 

প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা জরুরি অবস্থায় অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে ভূমিকা রাখে। অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের হ্যাম বলা হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৫জানুয়ারি/এজেড)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত