হেরোইনের আগ্রাসন রুখতে মরিয়া মেক্সিকো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:১৪

মেক্সিকোর পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গল ছেয়ে গেছে গোলাপি রঙের পপি গাছে৷ মেক্সিকোর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সিয়েরা অঞ্চল পপিচাষীদের অভয়ারণ্য৷ দুর্গম পাহাড়ী এলাকা আর ঘন অরণ্য, অবৈধ পপির চাষের জন্য স্বর্গরাজ্য৷ মানুষের চোখের আড়ালে খুব সহজেই চাষ করা যায় পপি৷

ডয়চে ভেলে তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পপিক্ষেত লোকচক্ষুর আড়ালে রাখার জন্য মাঝে মাঝে নানারকম শস্য ও ভুট্টার চাষ করা হয়৷ সরকারও পপি চাষীদের বৈধ শস্য চাষের জন্য নানা সহায়তা করে থাকে৷ কিন্তু পাহাড়ের পাথুরে ঢালে পাতলা মাটির আস্তরণে অন্য কোনো শস্য তেমন ভালো হয় না৷

গুয়েরেরো রাজ্যের দরিদ্র পাহাড়ি জেলাগুলোতে অবৈধ পপির চাষ হয় সবচেয়ে বেশি৷ এর মধ্যে এগিয়ে আছে মার্কিন সীমান্ত থেকে ৮০০ মাইল দূরে অবস্থিত হুকিলা ইউকুচানি জেলা৷ অপরাধের হারও সবচেয়ে বেশি এই রাজ্যে৷ চাষ, সরবরাহ, বাজারজাতকরণ, সবকিছুই আইনত দণ্ডণীয় হলেও অনেকটা প্রশাসনের নাকের ডগাতেই চলে পপি বীজের কেনাবেচা৷

এখন আর অনেক ক্ষেত্রে তেমন রাখঢাকেরও প্রয়োজনবোধ করেন না পপি চাষীরা৷ কেউ কেউ কষ্ট করে পাহাড়ের ঢালে লুকিয়ে চাষ না করে নিজের বাড়ির উঠানেই লাগাচ্ছেন গাছ৷ পপি এবং এ থেকে উৎপাদিত আফিম ও হেরোইনের দৌরাত্ম কমাতে জোরেসোরে মাঠে নেমেছে মেক্সিকোর সেনাবাহিনী৷ দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতেও চলছে বিশেষ অভিযান৷

পাহাড়ে ভাঁজে ভাঁজে তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা পপিক্ষেত খুঁজে বের করছেন সেনারা৷ তারপর সেগুলে কেটে কেটে এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে৷ শুধু পপি গাছ কেটেই নিরস্ত হচ্ছেন না সৈনিকরা৷ পরবর্তীতে গাছের বীজ থেকে যাতে চাষীরা আবার বীজ উৎপাদন করতে না পারেন, সেজন্য জড়ো করা গাছে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

দুর্গম এ পাহাড়ি এলাকায় যারা থাকেন, তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত নাগরিক কোনো সুযোগ-সুবিধা৷ সবচেয়ে কাছের হাসপাতাল বা স্কুলও কয়েক ঘণ্টার পথ৷ ফলে, ভবিষ্যতের চিন্তায় উদ্বিগ্ন পপি চাষীদের অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও ভাবছেন সীমানা পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার কথা৷

ঢাকা টাইমস/১৬ফেব্রুয়ারি/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :