স্মার্টফোনে ডলারে জুয়া খেলছেন রিকশাচালক, রাজমিস্ত্রিরা!

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:০৯
ফাইল ছবি

রাসেল (ছদ্মনাম)। পেশায় রিকশাচালক। পড়াশোনা না করলেও অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন স্মার্টফোন। এটি তার ‘ডলার’ আয়ের উৎস। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অনলাইনে ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলেন রাসেল। আর টাকার অংকে নয়, ডলারে হয় লেনদেন।

মোহাম্মদপুর নবীনগর এলাকার এই বাসিন্দা ক্রিকেট খেলায় বেশ ভালো বোঝেন। তাই সব ধরনের ক্রিকেট খেলার খোঁজখবর পাওয়া যায় তার কাছে। এমনকি খেলার সময় ভ্যানগাড়িটিও গ্যারেজ থেকে বের করেন না। বসে পরেন চায়ের দোকানে টেলিভিশনের সামনে। চলে খেলা দেখা।

চায়ের দোকানে ম্যাচপ্রতি, ওভারপ্রতি বা বল প্রতি যে জুয়া চলে তা থেকে অনেক আগেই সরে এসেছেন রাসেল। তিনি বাজি ধরেন অনলাইনে।

রাসেল বলেন, ‘আগে চায়ের দোকানে খেলতাম। এর লগে, ওর লগে বাজি লাগতাম। পরে দেখলাম এইডা নিয়া কাহিনি হয়। টাকা বাকি থাকে। বাজির টাকা বাকি থাকলে অনেক সমস্যা। এইডা নিয়া মারামারিও হয়। পরে অনলাইনে একটা আইডি খুললাম।’

অনলাইন ওয়েবসাইট ‘বেট ৩৬৫’-এ একটি একাউন্টের মাধ্যমে চলে এই জুয়ার আসর। অনলাইনে টাকার জায়গায় ডলারে এই জুয়া খেলছে নিম্নআয় এবং শিক্ষিত নন এমন অনেক মানুষ। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ওয়েবসাইটে একাউন্টটি তারা নিজেরা খোলেননি। বরং একটি চক্র রয়েছে, যারা টাকার বিনিময়ে এই একাউন্ট খোলা এবং তা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন।

অনলাইনে জুয়ায় জড়িতরা জানান, এক থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত তারা গুনেছেন এই জুয়ার আসরে প্রবেশ করতে। আর প্রতিদিন হাজার হাজার ডলার বাজি চলছে।

রবিবার বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকার চায়ের দোকানে ক্রিকেট জুয়াড়িদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ওভার বা বলে বাজি ধরছেন। আর একটি অংশ তাকিয়ে আছেন মোবাইল ফোনের দিকে।

এদের মধ্যে দেখা গেছে, রং মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, ভ্যানগাড়ি চালক, প্রাইভেট কার, বাস-লেগুনা-ট্রাকের চালক ও সহকারী। রয়েছে চায়ের দোকানি, মুদি ব্যবসায়ী, মোটর মেকানিক। রয়েছে ছাত্রও।

সদরঘাট-গাবতলী বেড়িবাঁধের পশ্চিমের বর্ধিত এলাকাগুলোতে এমন চিত্র নিয়মিত। জুয়া চলছে গাবতলি সুইপার কলোনি, সুনিবিড় হাউসিং, আদাবর, স্লুইস গেট, নবীনগর, সাত মসজিদ হাউসিং, চাঁদ উদ্যান, রায়ের বাজার, বউ বাজার, গণকটুলি, কোম্পানি ঘাটসহ আশপাশের প্রায় সব এলাকায়। আর এই জুয়াড়িদের মূল আড্ডা টেলিভিশন আছে এমন চায়ের দোকানে।

এসব এলাকায় বসবাসকারীদের একটি বড় অংশ শ্রমিক ও দিনমজুর। তাদের বহুজন আয়ের প্রায় পুরোটাই তুলে রাখেন জুয়া খেলার জন্য। এমনকি টাকা ধার করা, সুদে টাকা নিয়ে তা ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে জুয়া খেলছেন।

গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় গোপন রেখে গাবতলী সুনিবিড় হাউসিং এলাকার রাজমিস্ত্রির সহকারী এমদাদুল বলেন, টাকার অংকে নিজেদের মধ্যে জুয়া খেলাটা কিছুটা ঝুঁকির। বাজি জয়ের পরেও টাকা না পাওয়া এবং আড্ডার জায়গাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পরার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ডলারের অংকে খেলা জুয়ায় এমন কোনো ঝুঁকি নেই।

‘এক ডলারে ৮০, ৮৫ টাকা। আমরা ওই হিসাবে খেলি। এইটুক তো না বোঝার কিছু নাই। অনলাইনে ভাও (নির্দিষ্ট দলের জয়, পরাজয়ের ওপর এক ডলারের বিপরীতে আট থেকে দশ ডলার পর্যন্ত) দেয়। আমরা ওই ভাও দেখি। ১০, ২০ ডলার লাগাই। গেলে ১০, ২০ ডলার যাইব। আইলে মনে করেন ১০০-২০০ ডলার।’

বাংলাদেশ-আফগানিস্থান ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে কেউ বাজি ধরলে তাকে বাজির পরিমাণ নয় গুণ দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কেউ এক ডলার বাজি ধরলে বাংলাদেশ জিতলে তিনি পাবেন নয় ডলার।

ঢাকাটাইমস/৯সেপ্টেম্বর/কারই/ডব্লিউবি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :