‘টিভিতে নাচের ভালো অনুষ্ঠান নেই’

তায়েব মিল্লাত হোসেন
| আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৮:১৬ | প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৮:১২

শামীম আরা নীপার একুশে পদক প্রাপ্তিতে দেশের নৃত্যাঙ্গনে বহুদিন পর এসেছে আনন্দের হিল্লোল। তার রেশ থাকতে থাকতেই ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম ফোনে যোগাযোগ করে এই নৃত্য-ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নাচের বর্তমান, ভবিষ্যত আর নিজের ভাবনাচিন্তার কথা অকপটে বলেছেন নীপা। এই নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে আলাপ করেছেন তায়েব মিল্লাত হোসেন

 

আপা, আপনাকে অভিনন্দন। এই প্রাপ্তির পেছনে কাদের অবদানের কথা বলবেন।

 

নৃত্যকলায় আমার যে যাত্রা, তা দীর্ঘ একটা ভ্রমণের মতো। এখানে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক-সহকর্মী- সবার-ই কমবেশি অবদান আছে। পদক পাওয়ার যে আনন্দ, তার ভাগিদার তারা সবাই। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

নৃত্যকলার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তুলনামূলক কম। কী বলবেন?

নৃত্যাঙ্গনে অনেক প্রতিভাবান আছেন। অনেকেই দীর্ঘ দিন ধরে মেধার পরিচয় দিয়ে আসছেন। তাদের সবাই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু এক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতা থেকে যায়। এবার যেটা হলো, আমি চাইবো সেটা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকুক। প্রতি বছর নৃত্যাঙ্গনের কেউ না কেউ যেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পান।

হালের ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।

আমি নাচের একটি স্কুল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এটি নিয়েই আমার বেশিরভাগ ব্যস্ততা। এছাড়া কিছু আয়োজন, টিভি অনুষ্ঠানেও সময় দিতে হয়। এসব নিয়েই আছি।

নাচ নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে?

অনেক পরিকল্পনাই আছে। তবে আগাম কোনো কিছু বলতে চাই না। কারণ অনেক সময় এমন হতে পারে, মুখে বললাম এটা-সেটা করবো। কিন্তু বাস্তবে আর রূপ দিতে পারলাম না। এভাবে তাই বলা ঠিক নয়। যখন কাজ করবো, তখন ঠিকই জানতে পারবেন।

অভিনয়, সঙ্গীতের সঙ্গে তুলনায় গেলে পেশাগতভাবে নৃত্যকলা কতটা নির্ভরযোগ্য?

নিজের অভিজ্ঞতার আলোকেই যদি বলি, নাচ আসলে অনেক কষ্টের জায়গা। কষ্ট করে যারা ধরে রাখতে পারবে, তারাই সফল হতে পারবে। এখানে টাকা-পয়সার ঝনঝনানি হয়তো কম, কিন্তু এক ধরনের আত্মতৃপ্তি থাকে। আমি তরুণ শিক্ষার্থীদের এ কথাই বলি- যদি পয়সার প্রলোভনে পড়ে যাও, তবে নাচ ধরে রাখতে পারবে না। ধৈর্য্য ধরে থাকলে নাচের মাধ্যমেই সফল হওয়া যাবে।

এখনকার তরুণরা নাচে কী আকর্ষণ করার মতো কিছেু পাবে?

নাচ দিয়ে অনেকে শুরুটা করেন। কিন্তু পড়ে নাটকে, গানে, বিজ্ঞাপনে জড়িয়ে নাচ ছেড়ে দেন। এই মানসিকতা ঠিক নয়। অবশ্য যারা নিবেদিত প্রাণ তারা নাচ নিয়েই অনেক স্বপ্ন দেখে এবং সেই স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যায়। নৃত্যকলা সাধনার বিষয়, এখানে তাড়াহুড়ো করে সফল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যারা দ্রুত কিছু পেতে চায়, তাদের নাচে আসা ঠিক নয়।

মঞ্চ ছাড়াও নৃত্যকলা উপস্থাপনের বড় মাধ্যম ছোটপর্দা। দেশে এখন টিভি চ্যানেল অনেক বেড়েছে। সেই তুলনায় নাচের অনুষ্ঠান কম। এ নিয়ে কী বলবেন?

বেসরকারি টিভিগুলোতে নাচের অনুষ্ঠান অনেক কম হচ্ছে। ভালো কোনো অনুষ্ঠান আসলে হয় না। বিটিভিতে নিয়মিত দুটি অনুষ্ঠান হচ্ছে। একটি বহুদিন ধরেই আছে ‘নৃত্যের তালে তালে’। অন্য একটির সঙ্গে আমি যুক্ত। এর নাম ‘তারানা’। তবে বিটিভিতে নৃত্যানুষ্ঠান এমন সময়ে সম্প্রচার করা হয়, যখন মানুষ টিভির পর্দায় চোখ কম রাখে। অনেক বছর ধরেই এই অবস্থা। এসব নিয়ে তাই এখন আর তেমন আফসোস নেই।

বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে নাচের যেসব অনুষ্ঠান হয়- সেগুলোয় আজকাল গানের প্রাধান্য বেশি থাকে। নাচ অনেকটা গুরুত্ব হারায়। আপনি কিভাবে দেখছেন?

এই বিষয়গুলো অনেক দিন ধরেই দেখছি। বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে নৃত্যের উপর যেসব অনুষ্ঠান হয় সেসবে মূলধারার শিল্পীরাও অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ পান না। বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলদের দিয়ে নাচের অনুষ্ঠান করা হয়। একেকটা মাধ্যম আসলে একেক রকম। নাচের অনুষ্ঠান নাচের মতো করেই হওয়া উচিৎ। এসব বলে আর কী হবে। আমরা আমাদের কাজ করে যাবো। কাজের মধ্য দিয়েই আসলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়।

সবমিলিয়ে দেশের নৃত্যচর্চায় আশাজাগানিয়া কিছু আছে কী?

আমিতো বলবো অবস্থা খুব ভালো। অনেক তরুণ নৃত্যকলায় আসছে। নাচ নিয়ে তারা খুব সিরিয়াস, অনেক আগ্রহী। তাদের জন্য সরকারি, বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র চিন্তা করলে, নাচ নিয়ে আমরা কোথায় আছি?

একটা বিষয় খেয়াল করবেন, এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের সংস্কৃতি বিনিময়ের অংশ হিসেবে যেসব প্রতিনিধি দল আমাদের দেশ থেকে বিদেশে যায়, সেখানে নাচের প্রাধান্য থাকে। তার মানে অন্যান্য ক্ষেত্রের তুলনায় নাচের গ্রহণযোগ্যতা বিদেশে বেশি। এ বিষয়টি কিন্তু ইতিবাচক অবস্থা তুলে ধরছে।

তরুণদের জন্য কী বলবেন?

কাজের জায়গাটা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

ঢাকাটাইমস/১৫ফেব্রুয়ারি/টিএমএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত