ভাঙন আতঙ্কে উলিপুরের পাঁচ গ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ১০:১৫ | প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৯, ০৯:১৭

তিস্তা নদীর ভাঙন ঠেকাতে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকায় নির্মাণ করা হয় স্পার। কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্পারটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। তিন দিন আগে স্পারটির ৩০ মিটার ধসে পড়ে গেছে। এ অবস্থায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। ফলে আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও তিস্তাসহ ১৬ নদ-নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন। এর মধ্যে তিস্তা নদীর ভাঙনে বজরা স্পারের ৩০ মিটার ধসে পড়েছে। প্রায় পাঁচ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই পাশে জিও টেক্সটাইল বিছিয়ে ব্লক পিচিং এবং ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে নির্মিত দুই শ মিটার দৈর্ঘ্যরে স্পারটির কাজ শেষ হয়েছে ২০১৭ সালের জুন মাসে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্পারের কাজ সঠিকভাবে না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন স্পারের পূর্বপাড়ের এবং নদী থেকে বালু তুলে জিও ব্যাগ ভর্তি করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চললেও কাজ চলছে ঢিমেতালে। ফলে চর বজরা, চাঁদনী বজরা, মধ্য বজরা, খামার বজরা ও টারীপাড়া গ্রামের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

মো. সালাম মিয়া, আব্দুল মতিন, মো. রশিদ আলী বলেন, বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া রোধে বাঁধটা তৈরি করে দেয়া হয়েছিল। এখন সে বাঁধটাও ভাঙতে শুরু করেছে।

শুষ্ক মৌসুমে স্পারটি মেরামতের জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন এলাবাসী। তারা জানান, বাঁধের কাজ ঠিকমতো না হওয়ায় এতো তাড়াতাড়ি বাঁধটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বজরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে শুরু করে চর বজরা, চাঁদনী বজরা, মধ্য বজরা, খামার বজরাসহ চার-পাঁচটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যেই আমরা বালুভর্তি জিও ব্যাগের মাধ্যমে বাঁধের মেরামত কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।
স্পারটি নির্মাণের আগে তিস্তার ভাঙনে এই এলাকার সাতালস্কর, খামার দামারহাট ও বগুলাকুড়া- এই তিনটি গ্রাম বিলীন হওয়ায় দেড় হাজারের মতো পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়েছিল বলে জানান উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

ঢাকাটাইমস/২৬জুন/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :