যে কারণে ৩০ এপ্রিলের আগে ইরানে হামলা চালাবে না ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৩৯ | প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৩১

ইহুদি ধর্মের অন্যতম বড় উৎসব পাসওভারের আগে ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলা চালানোর সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা। আর সপ্তাহজুড়ে চলা এই উৎসব ২২ এপ্রিল শুরু হয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা এবিসি নিউজকে বলেছেন, ইসরায়েল পাসওভার উৎসবের আগে ইরানে হামলা চালাতে খুব একটা আগ্রহী নয়। তবে এই বিষয়টি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং অন্যান্য নেতৃত্ব এখনো উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, কিছু নিরাপদ ঘর এবং ভূগর্ভস্থ সুবিধায় রয়েছে, কর্মকর্তা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, ইহুদি ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব পাসওভার বা পেসেক বা নিস্তারপর্ব। মিসরীয় শাসন থেকে ইহুদি জাতির মুক্তির সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই উৎসব উদ্‌যাপন করা হয়।

এদিকে ইসরায়েল চলতি সপ্তাহে অন্তত দুই রাতে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল, তবে দুইবারই তা বাতিল করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে তিনটি ইসরায়েলি সূত্র।

গত শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ৩০০ টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালায় ইরান। ইসরায়েল তখন থেকে কীভাবে এবং কখন ইরানের আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানাবে তার পরিকল্পনা করছে। এরজন্য গত রবিবার, সোমবার এবং মঙ্গলবার দেশটির যুদ্ধ মন্ত্রিসভার বৈঠকও করছে।

এ সময় ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে- এই অঞ্চলে ইরানের সহযোগিদের ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণের বিকল্পগুলো, তবে ইরানের ভূখণ্ডে হামলার বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি বলেও এবিসি নিউজকে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেটে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল। এতে বিপ্লবী গার্ডের দুই কমান্ডারসহ ৭ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন। প্রতিক্রিয়ায় গত শনিবার গভীর রাতে ইসলামিক বিপ্লব গার্ড কর্পস এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইরান এই হামলা চালায়। এরপর থেকেই

ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে ইসরায়েলকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইহুদিবাদী দেশটির সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। তা সত্ত্বেও ইরানে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে বুধবার ইসরায়েলে সফররত জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, সমর্থনের জন্য নেতানিয়াহু তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাদের বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই— আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র নিজেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করবে।’

এদিকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘এটি এখন স্পষ্ট যে ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।’

প্রসঙ্গত, ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে গাজা যুদ্ধের ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা এই অঞ্চলের জন্য বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে। ফলে কূটনীতিকরা ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ এড়ানোর উপায় খুঁজছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৮এপ্রিল/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :