তাহিরপুরে ত্রাণের জন্য হাকাকার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ জুলাই ২০১৯, ২২:৫১

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ শ্রীপুর ও তাহিরপুর ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ত্রাণ বিতরণে ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে।

এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ত্রাণ সরকারিভাবে বিতরণ করা হয়েছে তা উপজেলার বাদাঘাট, শ্রীপুর উত্তর, উত্তর বড়দল ইউনিয়নেই বেশি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ শ্রীপুর ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের তেমন কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি বলে খবর পাওয়া গেছে।

হাওরপাড়ের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের বলাই কান্দি গ্রামের অজুফা বেগম, সবুজ আলী জানান, তাদের বাড়ি পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ। কিন্তু এই পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাইনি। অন্যান্য ইউনিয়নের সরকারিভাবে ত্রাণ দিতাছে শুনি, আশায় থাকি যে সরকারি ত্রাণ পাব। কিন্তু আমরারেত কেউ ত্রাণ আইসা দিল না। সরকারিভাবে কিছু সহযোগিতা পাইলে বড় উপকার হইত। 

পাঠাবুকা গ্রামের রুজনা বেগম, নতুনপাড়ার মজু মিয়া একই কথা জানান। বলেন, ‘ঘরে ভেতরে পানি। খুবই কষ্টে আছি, কিন্তু কই কেউ তো আমার খবর লইল না। সব জায়গায় সরকারি সহযোগিতা দিতাছে লোক মুখে শুনি। আমরাই পাইলাম না, কবে পাইমু। আমরার বাড়িঘর পানিতে ভেঙে গেছে। আমরারে কেরে ত্রাণ দেয় না।

জীবনপুর সালেহা বেগম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কিন্তু সরকারি কিছুই তো পাইলাম না। কতটুকু ক্ষতি হলে ত্রাণ পাওয়া যায়? সব ত্রাণ খালি অন্যান্য ইউনিয়নে দেয়া হয়। আমরা একবারেই হাওরপাড়ের বাস করি আর বন্যায় পানি বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। আমি অনেকের বসতভিটা ঢেউয়ের কবলে ভেঙে পড়ায় তারা সবাই প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু কোন সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

এ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশুদ্ধ পানি, গো খাদ্য ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে পানিবন্দি পরিবারগুলোতে। বন্যাকবলিত গ্রামগুলোতে অবস্থানকারী মানুষজন ত্রাণের অপেক্ষায় আছে। ত্রাণ না পাওয়ায় হাহাকার করছে।

এদিকে কিছুকিছু গ্রামে সরকারিভাবে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ, শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবেই সামান্য।

অন্যদিকে সরকারি ত্রাণ দিচ্ছে এমন খবর পেলেই ছুটে আসছে দলে দলে ক্ষতিগ্রস্তরা।

তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি তালুকদার জানান, উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩টি, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে ৩টি, বালিজুড়ি ইউনিয়নে ১টি ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামে ১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শিমুল আহমদ জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছিলাম। সরকারিভাবে এখনও ত্রাণ পায়নি আমার ইউনিয়নের মানুষজন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা  বেশি। যা ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, তা পরিমাণে কম। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৮জুলাই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :