‘লেখক হিসেবে স্বপ্নপূরণের জায়গায় পৌঁছাতে চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:১০

পারভিন রেজা দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি করছেন। এবারের বইমেলায় এসেছে নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ডাকাতিয়া জয়+পদ্মপাতা’। তার স্বামী গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। মূলত স্বামীর অনুপ্রেরণায় ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ নীহারিকা। এরপর প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি বই। লেখালেখির নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন পারভিন রেজা।

লেখালেখির শুরুটা কীভাবে?

আমি একজন নারী। আমি যখন খুব ছোট তখন আমার মা মারা যান। তখন নিজের কষ্ট লুকানোর জন্য আমি লেখালেখি শুরু করি। কিন্তু এখন আমি নিজেকে এগিয়ে নেয়ার জন্য লেখালেখি করি।

লেখালেখি করে আপনি কতদূর যেতে চান?

প্রতিটি মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখেন। আমিও স্বপ্ন দেখি। লেখালেখি নিয়ে আমার স্বপ্ন হলো একজন লেখক হিসেবে যতদূর গেলে স্বপ্ন পূরণ হতে পারে আমি সেই পর্যন্ত যেতে চাই। যতদূর গেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ লেখক হয়ে ওঠা যায় ততদূর যেতে চাই।

নতুন লেখকদের ব্যাপার আপনার মূল্যায়ন কী?

নতুন লেখকরা ভালো প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমি বাঙালি, বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। প্রতিটি বাঙালি তার সুকুমার বৃত্তিতে লেখক হয়ে ওঠে। কারো প্রতিভা প্রকাশ পায়, কেউ সুযোগ পায় না। এই নতুন লেখকরা আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে। তারাই বাংলা ভাষাকে আরও দূরে নিয়ে যাবে। বাংলা একদিন পুরো বিশ্বে অবস্থান করে নেবে, আর নতুন লেখকরাই সেই কাজটা করবেন।

আপনি লেখক হয়ে উঠলেন কীভাবে?

ক্লাস ফোরে পড়ার সময় আমার মা মারা যান। আমার ছোট ছোট ভাইবোন ছিল। আমি বড়বোন হিসেবে তাদের দেখভাল করতাম। ওই সময় আমার মন ভালো করার জন্য বাবা বই পড়তে বলতেন। বিভিন্ন বই কিনে দিতেন। তখন ওই লেখকদের লেখা পড়ে আমিও লেখালেখি শুরু করি। ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় আমার প্রথম কবিতা প্রকাশ পায়। খুলনাতে দৈনিক অনির্বাণ পত্রিকায় প্রকাশিত সেই কবিতার নাম ছিল ‘একটু সঙ্গ দিতে’।

আপনার লেখক হওয়ার পেছনের অনুপ্রেরণা কে?

আমার আব্বা। বিয়ের পর আমার স্বামী শ ম রেজাউল করিম। তারই অনুপ্রেরণায় ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ নীহারিকা।

আপনার লেখাতে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়?

যা আমার মনকে স্পর্শ করে তাই আমার লেখাতে প্রকাশ পায়। মনকে আন্দোলিত করে এমন সবকিছুই আমার ভালো লাগে। যেই লেখা আমার মনকে ভাবায় তাই প্রকাশ পায়। একটা বিষয় যা আমাকে আকৃষ্ট করে তাই আমি লিখি। নাটক, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা সবই লেখার চেষ্টা করি।

এ পর্যন্ত আপনার লেখা কতটি বই প্রকাশিত হয়েছে?

৯৯ সালে ‘নীহারিকা’(কাব্যগ্রন্থ)

২০১০ সালে ‘এবং যুদ্ধ’(নাটক)

২০১১ সালে ‘ডানা ভাঙা পাখি’ (কাব্যগ্রন্থ)

২০১৫ সালে ‘প্রিয়জন’ (গল্পগ্রন্থ)

২০১৬ সালে ‘প্রিয় শিমুল’ (কাব্যগ্রন্থ)

২০১৮ সালে ‘নোনাজল’ (কাব্যগ্রন্থ)

২০১৯ সালে ‘ডাকাতিয়া জয়+পদ্মপাতা’ (কাব্যগ্রন্থ)

কোন লেখকের লেখা পছন্দ?

রবীন্দ্রনাথ ও জসীমউদদীন

তরুণ লেখকদের লেখার মান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

তরুণ লেখকরা অনেক ভালো লিখছেন। চর্চা, সাধনা ও পড়াশোনা খুবই প্রয়োজন। চর্চা হলে তরুণ লেখকদের লেখা আরও ভালো হবে। চর্চা এবং পড়াশোনার প্রতি জোর দেয়া প্রয়োজন।

তরুণদের লেখায় যুগোপযোগী বিষয়গুলো থাকছে কি না?

তরুণ লেখকদের লেখাতে যুগোপযোগী বিষয়গুলো উঠে আসছে। তারা বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মাঝ থেকেই তৈরি হচ্ছে নতুন কবি।

পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কী?

আমার পাঠকরা অনেক আন্তরিক। কারো কাছ থেকে রুষ্ট আচরণ পায়নি। আমার পাঠকের সংখ্যাও কম। পাঠকরা বইকে অনেক বেশি গ্রহণ করেন। পাঠক না থাকলে কি এত বই বের হতো। পাঠকের সুদৃষ্টি রয়েছে নতুন পুরাতন লেখকদের প্রতি, লেখার প্রতি। আর পাঠকরা আছেন বলে এখনও লেখকরা প্রাণের মেলায় মিলিত হন।

পাঠকদের আগ্রহ কেমন দেখছেন?

পাঠকরা এখনও অনেক বই পড়েন। তাদের আগ্রহ রয়েছে। তারা বই কেনেন এবং পড়েন।

প্রগতিশীল, নারী উন্নয়নে, নারী নেতৃত্বে বইয়ের গুরুত্ব কতটুকু?

আমরা জ্ঞান আহরণ করি বইয়ের মাধ্যমে। বই মানুষকে উৎকর্ষিত করে। আর তাই নারীর অগ্রযাত্রায় বইয়ের বিকল্প নেই। নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। বই আমাদের আলো দেখায়। আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে বই।

সমাজ পরিবর্তনে বইয়ের ভূমিকা কতটুকু?

সমাজ পরিবর্তনে বইয়ের ভূমিকা রয়েছে। আকাশ সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। প্রতিটি মানুষের হাতে বই তুলে দিতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে সবধরনের কলুষতা দূর হয়ে যাবে।

(ঢাকাটাইমস/২১ফেব্রুয়ারি/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :