পেঁয়াজের সিন্ডিকেট এত শক্ত?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫২
ফাইল ছবি

পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতার শুরু রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে। দিল্লির সেই সিদ্ধান্তের খবর ঢাকায় পৌঁছতে না পৌঁছতেই বাজারে ঝাঁজ বাড়তে থাকল নিত্যপণ্যটির। দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাকসেলে নামল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টিসিবি। তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকেও আমদানি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। আগের এলসি করে রাখা ভারতীয় পেঁয়াজও এসেছে। এরপরও এক মাস ধরে পেঁয়াজের দাম নিয়ে সেই অস্থিরতা কমেনি। উল্টো চলছে সিন্ডিকেট বাণিজ্য। পকেট কাটা যাচ্ছে ক্রেতাদের। তাই প্রশ্ন উঠেছে পেঁয়াজ বাজারে অস্থিরতার পেছনে সিন্ডিকেটটি এত শক্ত?

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা কিনছেনই বেশি দামি। তাই তাদের কিছু করার নেই। পাইকাররা বলছেন, সরবরাহ কম। তাদেরও কিছু করার নেই। আর আমাদিনকারকদের বক্তব্য, বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুদ থাকার পরও কেন বেশি দাম হবে তাদের বোধগম্য নয়।

অন্যদিকে ২৬ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর বাণিজ্যসচিব অল্পসময়েই দাম কমে আসবে। তবে এক মাস পর হতে চললেও দাম তো কমেইনি। উল্টো বেড়ে এখন ১২০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে পেঁয়াজের দাম।

বর্তমানে ভারত থেকে পেঁয়াজ না এলেও সমানে পেঁয়াজ আসছে মিয়ানমার ও মিসর থেকে। এরপরও দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে দাম। সবশেষ বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে শুক্র ও শনিবার দুই দফায় পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এখন বাজারে কেজি প্রতি পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর সেঞ্চুরিতে পৌঁছে দেশি পেঁয়াজের কেজি। মাঝে কিছুটা কমলেও ফের উল্টো দিকে বাড়তে শুরু করে দাম।

এর জন্য খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন, ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের। তাদেরই কারসাজির কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। ক্রেতাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদেরও ভাষ্য, সরকারের তৎপরতায় মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। বাজারে সরবরাহও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে জরিমানা করলে দাম কমে যেতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

শনিবার শ্যামববাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিসর থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়। আগেরদিন এটি বিক্রি হয়েছিল ৮০-৯০ টাকায়। আর শুক্রবারের আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১১৫-১২০ টাকায়। শুক্রবার ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আর তার আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি। আর শুক্রবারের আগে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া ভারতীয় পেঁয়াজ গতকাল দাম বেড়ে হয়েছে ৮০-৮৫ টাকা।

অন্যদিকে রাজধানীর পলাশী, হাতিরপুল, কারওয়ানবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবারের আগের দিন এই পেঁয়াজই ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর ভালো মানের আমদানি করা পেঁয়াজ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। অথচ শুক্রবার ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে কোনও সদুত্তরও নেই ব্যবসায়ীদের। নিরুপায় ক্রেতারা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন নিত্যপন্যটি।

শ্যামবাজারের একজন পাইকার গত দু’দিনের বৃষ্টিকে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়েছেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। তাই দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু হলে দাম কমতে পারে। তার আগে দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই।

তবে সরবরাহ কম নেই বলেই ভাষ্য আমদানিকারকদের। ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার চট্টগ্রামের আমদানিকারকরা বলছেন, পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত। দাম বৃদ্ধিরও কোনও কারণ নেই। এরপরও দাম কেন বাড়ছে সেটি তাদের বোধগম্য নয়।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক আমদানিকারক বলেন, পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বৃদ্ধির পর বাণিজ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, দাম কমে যাবে। মন্ত্রীর ঘোষণার পর আজ পর্যন্ত ঢাকার শ্যামবাজারে কোনো অভিযান হয়েছে কিনা তার জানা নেই।

এই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, তারা আমদানি করলেও পেঁয়াজের দাম অনেকটাই নির্ভর করে ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকার ব্যবসায়ীদের ওপর। সেখানে জোরালো অভিযান চালালেই পেঁয়াজ নিয়ে অস্থিরতা কমে আসবে।

(ঢাকাটাইমস/২৬অক্টোবর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :