রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ জুলাই ২০২০, ১৭:৪৮
ফাইল ছবি

রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখতে প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। তারা বলছে, দুর্যোগের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন সংশোধনের উদ্যোগ অবিবেচনাপ্রসূত।

রবিবার সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আলাদাভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানায়।

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা রুশো এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আরপিও বিধান থেকে রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বিধান তুলে দেয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়াতে হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য রোড ম্যাপ প্রণয়ন ও মনিটরিং থাকতে হবে। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের সামনের বাধাগুলো দূর করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা লাগবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সরকারি দলের প্রধান নারী, সংসদে বিরোধী দলের প্রধান নারী, রাজপথের বিরোধী দলের প্রধান নারী, জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী। পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল। সেরকম দেশে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এতো কম কেন? এই পর্যালোচনাও হওয়া দরকার।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নির্বাচন কমিশন কর্তৃক করোনা মহামারিজনিত দুর্যোগের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন’ সংশোধনের তৎপরতাকে ‘দায়িত্বহীন, অবিবেচনাপ্রসূত ও বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক বলে অভিহিত করেছেন। রবিবার সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেন, মহামারি দুর্যোগের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করুন। দলের কমিটিতে ৩৩% নারী সদস্যদের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা যাবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ৫ থেকে ১০ বছরের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

ইসি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত আরপিও‘তে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব পর্যায়ের কমিটিতে নারী নেতৃত্ব ৩৩ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে।’সম্প্রতি ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার বিধান থেকে সরে আসতে চাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে একটি খসড়া প্রস্তবনাও তৈরি হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে রাজনৈতিক দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে ইসি। আর সেটি সম্ভব না হলে ৩৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/০৫জুলাই/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :