বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড

দখলদারদের দুষছেন আগুনে সর্বস্ব হারানো লোকজন

চট্টগ্রাম ব্যুরো
 | প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৬

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চাক্তাইয়ের রাজাখালী খাল সংলগ্ন চর দখল করে গড়ে তোলা ভেড়া মার্কেট বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের উৎস এখনো জানা যায়নি। তবে অন্তত নয়জনের মৃত্যু আর সর্বস্ব হারিয়ে অবৈধ দখলদারদের দুষছেন বস্তিটির বিভিন্ন কলোনির বাসিন্দারা।

তাদের অভিযোগ, আগুন লাগার আগে বস্তিতে মুখোশধারী লোকের আনাগোনা দেখেছে তারা। তবে তারা কারা সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্থরা। আগুন লাগানোর ঘটনা কর্ণফুলী তীরের অবৈধ স্থাপনা সরাতে যে অভিযান চালানো হচ্ছে সেটি বন্ধের চক্রান্ত হতে পারে বলেও অভিমত স্থানীয় বাসিন্দাদের।

শনিবার দিবাগত রাতে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বস্তির অন্তত দুইশ ঘর পুড়েছে। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। পুড়ে যাওয়ায় হাজার খানেক বাসিন্দা এখন প্রায় সর্বস্ব হারিয়ে হতবিহ্বল।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নগরীর চাক্তাইয়ে কর্ণফুলী নদী এবং রাজাখালী খালের মোহনায় গড়ে ওঠা চর দখল করে বানানো হয়েছিল বিশাল ভেড়া মার্কেট বস্তি। কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য যেসব জায়গা চিহ্নিত তার মধ্যে এ বস্তিটিও আছে।

কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ শুরুর পর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা গিয়ে একাধিকবার বস্তির বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বস্তিবাসীরাও চলে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু দখলদারেরা তাদের না যেতে নানাভাবে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি খাসজমির দখলদাররা সম্প্রতি শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে নানাভাবে চেষ্টা করে আসছিল। তারা বস্তির ভাড়াটিয়ারা যেন প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলে না যান, সে জন্য কখনও হুমকি-ধমকি, আবার কখনও হাইকোর্টে গিয়ে উচ্ছেদ বন্ধে স্থগিতাদেশ আনার কথা বলে থাকতে বাধ্য করেন। যদিও কেউ কেউ চলেও যান।

আগুনে সব হারানো মানুষগুলো তাই এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন সেই দখলদারদের বিরুদ্ধে, যারা নিম্ন আয়ের মানুষগুলোকে তাদের দখল করা ভূমিতে ঘর বানিয়ে ভাড়া দেন। কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী মেরিন রোডের উত্তরে রাজাখালী খালের চর দখল করে ২০০০ সালের দিকে গড়ে তোলা হয় নতুন বস্তি।

বস্তির বাসিন্দারা জানান, ঘরপ্রতি ভাড়া ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হত। বিদ্যুতের সংযোগ ছিল। তবে গ্যাসের সংযোগ ছিল না। তারা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করত।

বেলাল কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে সরকারি লোকজন এসে তাদের চলে যেতে বলে। তারা চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বস্তিতে এক দখলদার বেলাল এসে হুমকি দেয় যে, তাদের যেতে হলে দুইমাসের ভাড়া দিয়ে যেতে হবে। তখন তাদের অধিকাংশ আর আর যেতে পারেননি। দখলদারের জেদের কারণেই সব কিছু হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ বস্তির বাসিন্দাদের।

জেলা প্রশাসক মো.ইলিয়াস হোসেন  বলেন, ‘বস্তির মালিকা কারা, সেটা আমরা খতিয়ে দেখব। এই বস্তি বৈধ কি অবৈধ সেটাও আমরা তদন্ত করে দেখব।’

এদিকে রবিবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম ও চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

ঢাকাটাইমস/১৭ফেব্রুয়ারি/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :