মোহাম্মদপুরের নবীনগরে কেবল ‘নেই আর নেই’

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৯, ০৯:১৯

ওয়াসার পানির লাইন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বা চলাচলের ভালো রাস্তা- কিছুই নেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগরে। নেই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, এমনকি সরকারি স্কুল-কলেজ।

এলাকাটির গোড়াপত্তন ১৯৯০ সালের শুরুতে। তখন থেকেই বিশাল জলাধারকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাউজিংয়ে রূপ দেওয়া হয়। হাউজিংটি গড়ে তোলে মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড নামে একটি ডেভলপার্স কোম্পানি।

হাউজিং কমিটির থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকাটিতে মোট ১৬টি সড়ক রয়েছে। বসতবাড়ির সংখ্যা প্রায় হাজারের বেশি। আর এখানে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। অর্থাৎ এলাকাটির বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বাস।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই নবীনগর হাউজিং এর প্রতিটি সড়ক পায়ে হেঁটে চলার অনুপযোগী হয়ে পরে। এ ছাড়া সেখানে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মোসাররফ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বৃষ্টি অইলেই হাডার (হাঁটার) অবস্থা থাকে না। কাদার লাইগ্যা রিকশাও এদিকে আসে না। একদিন বৃষ্টি অইলেই পোলাপানদের স্কুলে পাডাইতে পারি না।’

মো. সুজন নামের এক ছাত্র বলেন, ‘এলাকার ময়লা পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থা নাই। প্রচুর মশা থাকে। মশার ওষুধ দেওয়া হয় না। ড্রেন নাই, যাতায়াত সমস্যা।’

মোহাম্মদীয়া হাউজিং এর দাবি, একটি হাউজিং মালিক হিসেবে তারা তাদের দায়িত্ব শতভাগে পালন করেছে। রাস্তা, সুয়ারেজ লাইন সবই করা হয়েছিল। কিন্তু দিনে দিনে তা নষ্ট হয়ে গেছে।

রাজিয়া বেগম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, হাউজিং মালিক, হাউজিংটির সভাপতি এবং সিটি করপোরেশনের গাফিলতে এলাকাটি নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত। বলেন, ‘এই এলাকার কত পুরান, এরপরে ঢাকা উদ্যান করল, সেইডার রাস্তা দেহেন... সরকারি স্কুল-কলেজ সব আছে। খালি এই এলাকায় কিছু হয় না। কেউ কোনো কাম করে না।’

স্থানীয় সরকার এবং সিটি করপোরেশনের বারবার কড়া নেড়েও প্রায় ৭০ একর আয়তনের নবীনগরে কোনো উন্নয়ন কাজ করানো সম্ভব হয়নি বলে ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড এর সমন্বয়ক আকবর হোসেন।

জানান, ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট লিখিতভাবে নবীনগরের সড়ক সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের আবেদন করা হয়। সাড়া না পেয়ে ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পুনরায় একই আবেদন করা হয়। কিন্তু কোনো সুফল মেলেনি।

এলাকাটি পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে। ৩৩ ওয়ার্ড কাউন্সিল তারেকুজ্জামান রাজিব ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ওয়ার্ডটির আয়তন অনেক বড়। অন্যান্য ওয়ার্ডের চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বড়। আর তার বড় অংশটাই হচ্ছে বর্ধিত এলাকা। অর্থাৎ বেড়িবাঁধের বাইরের অংশ। এ অংশের জন্য আমরা সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ থেকে সরাসরি কাজ করতে পারি না, এখানে আইনের বিধি আছে। এখানে রাস্তা হস্তান্তরের একটা বিষয় থাকে।’

‘আবার বিশেষ বরাদ্দ যেটা থাকে যেটা কিছু দিন আগে আমরা ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। সেটা দিয়ে আমরা বেশ কিছু এলাকায় কাজ করেছি। আরো যে রাস্তাগুলো আছে, সেখানে উন্নয়ন কাজ করতে আরো দুইশ কোটি টাকা প্রয়োজন।’

এই জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ওয়ার্ডের রাস্তা উন্নয়নের জন্য দুইশ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু মেয়র মারা যাওয়ার পরে সে উদ্যোগে ভাটা পড়ে।

উপনির্বাচনের ঢাকা উত্তরে মেয়র হয়ে আসা আতিকুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে বলেও জানান কাউন্সিলর রাজিব। বলেন, ‘নতুন মেয়র আমরা পেয়েছি। তিনি অনেক উদ্যোমী মানুষ। আমরা তার সাথে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি। সরকারে বিভিন্ন উন্নয়ন খাত থেকে যদি আমরা সংগ্রহ করতে পারি, তাহলে সে টাকা দিয়ে এটা করতে হবে।’

এলাকাটির নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার পেছনে হাউজিং কোম্পানি জড়িত বলে অভিযোগ করেন এই ওয়ার্ড কাউন্সিলর। বলেন, ‘নাগরিক সমস্যা বলতে স্কুল প্রয়োজন, মাঠ প্রয়োজন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রয়োজন। এই হাউজিং কর্তৃপক্ষ যারা এটিকে ছাড়পত্র দেয়, আমি মনে এখানে তাদের একটা বড় যোগসাজশ থাকতে পারে কিংবা অবহেলা থাকতে পারে।...চতুরতার জন্য একটি বিশাল জনগোষ্ঠিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

ঢাকা উত্তরের প্যানেল মেয়র আলেয়া সারোয়ার ডেইজি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আনিসুল হক মেয়র থাকাকালে এই এলাকা নিয়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তিনি মারা গেলেন। উত্তর সিটি করপোরেশন অনেক দিন মেয়র শূন্য ছিল। এখন আমরা আবার মেয়র পেয়েছি। ডিএনসিসির সব এলাকায় যেন সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, নতুন মেয়রের নেতৃত্বে আমরা সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

(ঢাকাটাইমস/২৭জুন/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত