প্রায় মৃত তিস্তার বুকজুড়ে ভুট্টার মেলা

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫০

উত্তরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ নামে খ্যাত তিস্তার বুক জুড়ে জলের হাহাকার। প্রায় মরতে বসা নদীটির বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে চাষ হয়েছে ভুট্টাসহ নানা রবিশস্যের। তবে সব ছাপিয়ে গেছে ভুট্টার ফলন। লালমনিরহাটে তিস্তার বিভিন্ন বালুচরে ভুট্টার ক্ষেত দেখে চোখ জুড়াবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতি বছর রবি মৌসুমে বিস্তৃর্ণ তিস্তার দুই পাড়ে চর জেগে ওঠে। কালিগঞ্জ, পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় পুরো চরজুড়েই আবাদ করা হয় ভুট্টা। তিস্তা ব্যারেজ দিয়ে অথবা রংপুরের কাউনিয়া হয়ে তিস্তা সেতু কিংবা মহিপুর সেতু দিয়ে লালমনিরহাট গেলে দেখা যাবে তিস্তা জুড়ে সবুজ আর সবুজের সমারোহ। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে এখন রাশি রাশি রবিশস্য।

পুরো লালমনিরহাট জেলা জুড়ে আলু, ধান, সরিষা, তামাক, তুলা, ভুট্টাসহ নানান অর্থকরী ফসলের মাঠ। জেলায় এ বছর সর্বোচ্চ পরিমাণ জমিতে চাষ হয়েছে ভুট্টা। ফসলে লালমনিরহাট এখন  চলতি মৌসুমে উত্তর সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায়ও এবার ভুট্টা চাষ হয়েছে সর্বোচ্চ। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য এবং স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে চাষ করা হয়েছে এ ফসল। আর গত আট বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুন পরিমান ভুট্টা চাষ হয়েছে। বর্তমানে এই ফসল আবাদের জমির পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর। লালমনিরহাট, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা মহাসড়কের দুই পাশে মাইলের পর মাইলজুড়ে শুধু ভুট্টার ক্ষেত। কিছু কিছু ভুট্টা ক্ষেতে কুড়িঁ দেখা গেলেও বেশিরভাগই সবুজ চারা।

এ বছর প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনের আশা করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা। গত বছর প্রায় ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। আর ভুট্টা উৎপাদন হয় প্রায় দুই লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।  

আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, নব্বইয়ের দশক থেকে মূলত এই অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ শুরু হয়। সাধারণত বেলে-দোআঁশ মাটিতে ভুট্টা ভালো হয়। কিন্তু তিস্তা, ধরলা ও রত্নাই নদী বিধৌত লালমনিরহাট অঞ্চলের মাটি ক্ষারীয় প্রকৃতির। এরপরও বিস্ময়করভাবে এই অঞ্চলে ভুট্টার ভালো ফলন হয়। ফলে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ বাড়তে থাকে। তাছাড়া ভুট্টা চাষে সার, সেচ ও বালাইনাশক তুলনামুলকভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম ব্যবহার করতে হয়।

পাটগ্রাম বা হাতীবান্ধা উপজেলার একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিস্তা চরের পলিযুক্ত বালিমাটিতে ভুট্টা খুব ভালো হয়। কোনও কোনও কৃষক বছরে দুইবারও ভুট্টা চাষ করেন।

ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/টিএ/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :