চকবাজার ট্রাজেডি

মূল ঘটনা আড়ালের চেষ্টা ব্যবসায়ীদের

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০২ | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৫

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের ভূমিকা আড়ালের চেষ্টা চালাচ্ছে সেখানকার ব্যবসায়ীরা। আগুন লাগার পর ব্যবসায়ীদের তেমন কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া না গেলেও এখন তারা পুরো ঘটনাস্থল জুড়ে রয়েছেন। তারা গণমাধ্যমকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, গাড়ির সিল্ডিারের কারণেই এই অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। যদিও কেমিক্যালের কারণেই অগ্নিকাণ্ড হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিস্ফোরক পরিদফতরসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের তদন্ত দলের সদস্যরা ওয়াহেদ ম্যানসনের বেজমেন্টে ড্রাম ভর্তি কেমিক্যাল থাকার প্রমাণ পান। পাশাপাশি কেমিক্যালের কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে তারা নিশ্চিত হন।

তবে ব্যবসায়ীরা কেমিক্যাল নয় সিলিন্ডারের কারণে আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা নিজেদের চূড়িহাট্টার স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন গনমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে তারা জানাতে চাচ্ছেন, অগ্নিকান্ডের কারণ গ্যাস সিলিন্ডার, কোনো কেমিক্যাল নয়।

ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে গণমাধ্যমের কাছে পরিচয় দিলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তারা মূলত চকবাজারের কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে তৈরি পণ্যের ব্যবসায়ী।

সাইফুল ইসলামে নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে গনমাধ্যমকর্মীদের জানান, আগুন লাগার পেছনে মূল কারণ গ্যাস সিলিন্ডার। সরকার এবং সংশ্লিষ্টরা সেদিকে নজর দিক। তার দাবি, চুড়িহাট্টি এলাকার আগুনের সাথে কেমিক্যালের কোনো সম্পর্ক নেই।

স্থানীয় সূত্র বলছে, সাইফুল ইসলাম একজন আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী। তিনি কাপড় রপ্তানির পাশাপাশি চকবাজার এলাকা থেকে নেয়া প্ল্যাস্টিক পণ্যও বিদেশে রপ্তানী করেন।

গ্যাস সিলিন্ডারকে আগ্নিকান্ডের মূল কারণ আখ্যা দিয়ে সিলিন্ডার নিষিদ্ধের জন্যও দাবি জানিয়েছেন অনেকে। এদের একটি অংশ সিলিন্ডার বন্ধের দাবিতে খন্ড মিছিল করে চুড়িহাট্টি এলাকায়।

আগুনের মূল কারণ গ্যাস সিলিন্ডার হলেও আগুনকে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী করেছে হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় থাকা বিপুল পরিমাণ বডি স্প্রে ও দাহ্য পদার্থ।

ফায়ার সার্ভিসের এমন বক্তব্যের সাথে একমত স্থানীয় অনেক বাড়িমালিক ও বাসিন্দারা। তবে ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে তারা মুখ খুলতে পারেন না বলেও জানা গেছে।

ওয়াহেদ মেনশন ভবনটির মালিক দুই ভাই সোহেল ও হাসান। তারা এখানে স্বপরিবারে বসবাস করতেন। হাসান ঘটনার আগের দিন স্বপরিবারে ঢাকার বাহিরে যান। সোহেল ঘটনার সময় বাসায় থাকলে তাৎক্ষনিকভাবে পরিবার নিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন বলেও ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান।  ভবনটির দ্বিতীয় তলায় থাকা বডি স্প্রের গোডাউনটি ভবন মালিকদের নিজেদেরই।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই এলাকার অনেক বাড়িওয়ালাই কেমিক্যাল দিয়া জিনিস বানায়। এগো কোনো ফ্যাক্টরি নাই। যে যার বাসায় বানায়। বাসাই ফ্যাক্টরি, বাসাই গোডাউন।’

যে সকল বাড়ি মালিক ব্যবসার সাথে জড়িত নন, বাড়তি ভাড়া ও মুনাফার আশায় তারাও আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিচ্ছেন বলে ঢাকাটাইমসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এদিকে জেনেশুনেও কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনের কথা আড়াল করার চেষ্টা দেখা গেছে অনেকের মধ্যে। আগ্নিকান্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ওয়াহেদ ম্যানশনের নিচ তলায় প্লাস্টিকের দোকান ছিল হাজী আব্দুল কাদেরের। ৫ বছর ধরে এখানে মুক্তা প্ল্যাস্টিক নামে একটি দোকানের মাধ্যমে তিনি ব্যবসা করে আসছিলেন। দীর্ঘ দিন এখানে ব্যবসা করার পরে তিনি জানেন না ভবনটিতে কয়টি ফ্লাট ছিল, কতজন বসবাস করত কিংবা ভবনের পার্কিংয়ের জায়গায় ভয়ংকর কেমিক্যালের গুদাম রয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, আব্দুল কাদেরের মত অনেকেই জেনেশুনে মূল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। কারণ প্ল্যাস্টিক তৈরির গুটিদানা, বডি স্প্রে, বৈদ্যুতিক লাইট, প্লাস্টিকের খেলনাসহ নানা জিনিস তৈরি হয় এই এলাকা জুড়ে। উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চকবাজার এলাকায় চালিয়ে আসা ব্যবসা ছেড়ে যেতে নারাজ এসকল ব্যবসায়ী ও উৎপাদকরা। ফলে ভুক্তভোগী স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাদের সাথে দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা লক্ষ্য করা যায়।

নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে যারা অগ্নিকান্ডের দায় কেবল গ্যাস সিলিন্ডারের উপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন এমন কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা কাটাকাটি হতে দেখা গেছে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে।

ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/কারই/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :